ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৭ অক্টোবর ২০১৯

শেষের পাতা

অবহেলায় যক্ষ্মার জীবাণু শক্তিশালী হচ্ছে

দুই বছরে ওষুধ প্রতিরোধী ১৭৯৪ রোগী শনাক্ত

হামিম উল কবির

২৩ মার্চ ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

ওষুধ সেবনে অবহেলায় যক্ষ্মার জীবাণু ক্রমেই শক্তিশালী আরো ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে। সাধারণ যক্ষ্মা ছয় মাসের বিরামহীন চিকিৎসায় (ডটস পদ্ধতি) সুস্থ হয়। কিন্তু মাঝখানে বিরতি দিয়ে দিয়ে চিকিৎসা নিলে একই যক্ষ্মার জীবাণু আরো ভয়ঙ্কর হয়ে সাধারণ ওষুধ প্রতিরোধী (এমডিআর) হয়ে যাচ্ছে। এমডিআর হলে বাংলাদেশে ১৮ থেকে ২৪ মাস লাগে সুস্থ করতে এবং খরচ হয় দ্বিগুণÑ প্রায় ৫ লাখ টাকা। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (হু) বলছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় চার হাজার ৮০০ মানুষ এমডিআর যক্ষ্মায় আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু ২০১৪ সালে ৯১৪ এবং ২০১৫ সালে ৮৮০ জন এমডিআর যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট এমডিআর যক্ষ্মায় আক্রান্তরা চিকিৎসার বাইরে থেকে যাচ্ছে। অন্য দিকে ডায়াবেটিসের সাথেও যক্ষ্মার রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। ডায়াবেটিক সমিতি গত বছর ১২ লাখ ডায়াবেটিক রোগীর মধ্যে পরীক্ষা করে আড়াই হাজার যক্ষ্মা রোগী পায়। দেশে ৭০ লাখের বেশি ডায়াবেটিক রোগী রয়েছে। শিশু যক্ষ্মা আক্রান্তও বাংলাদেশে কম নয়। গত বছর ৮ হাজার ১০৩ শিশু যক্ষ্মারোগী শনাক্ত হয়েছে।
যক্ষ্মা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সরকার ২০১৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রতি লাখে যক্ষ্মা আক্রান্তের সংখ্যা ১০-এর নিচে নামিয়ে আনতে চায়। এটি হলে এসডিজি অর্জন সম্ভব হবে এবং উন্নত বিশ্বের সাথে সামঞ্জস্য বজায় থাকবে।
জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ যক্ষ্মা আক্রান্ত চিহ্নিত হলেও শনাক্ত করা যায় না আরো এক লাখ ৩৩ হাজারের মতো। আবার এ সংখ্যার দুই শতাংশ চিকিৎসার বাইরে থেকে যায়। এদের অনেকে ছয় মাসের পূর্ণচিকিৎসা নেয় না।
জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার ডা. মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বছরে চার হাজার যক্ষ্মা আক্রান্তকে পাওয়া যায় না বলে চিকিৎসার বাইরে থেকে যায়। কিন্তু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১ দেশে এ ধরনের রোগী রয়েছে ১০ লাখ। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (হু) তথ্য অনুসারে, গত ১০ বছরে এ অঞ্চলের ১১ দেশে দুই কোটি ৪০ লাখ যক্ষ্মা রোগীকে সুস্থ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও এ অঞ্চল বিশ্বের মোট যক্ষ্মা আক্রান্তের ৩৮ শতাংশের বাস। কেবল ভারতেই বিশ্বের মোট যক্ষ্মা আক্রান্তের ২৬ শতাংশ বাস করে। হু বলছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ২০১৩ সালে সাড়ে চার লাখ যক্ষ্মা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। যক্ষ্মায় সবচেয়ে বেশি মারা গেছে বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে।
এনটিপির বিভাগীয় যক্ষ্মা বিশেষজ্ঞ ডা. আহমদ পারভেজ জাবীন বলেন, সচেতন না হলে সামনে আরো বিপদ অপেক্ষা করছে। সাধারণ যক্ষ্মা রোগী থেকে এমডিআর হওয়ার পাশাপাশি আরো বেশি ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে জীবাণু আরো বেশি শক্তিশালী হয়ে এক্সডিআর যক্ষ্মা হয়ে যাচ্ছে। এমডিআর যক্ষ্মার ক্ষেত্রে সাতটি অ্যান্টিবায়োটিকের কম্বিনেশন প্রয়োগ করা হয়। এ ছাড়া বিডাকুইনিলন ও ডিলামাইট নামক দুই ধরনের ওষুধ বাজারে এসেছে। এগুলো পরীক্ষামূলক ব্যবহার হচ্ছে। এর বাইরে আর কোনো কার্যকর ওষুধ এখনো বাজারে আসেনি।
যক্ষ্মা বিশেষজ্ঞ ডা. এম এ হামিদ সেলিম জানান, বাংলাদেশে গত তিন বছরে নয়জন এক্সডিআর যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, আশার কথা হলো উল্লিখিত নয়জনের মধ্যে তিনজন সুস্থ হয়েছে।
এনটিপি কর্মসূচির আওতায় বর্তমানের চেয়ে আরো বেশি যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত করার লক্ষ্যে সরকার শহরের শিল্পাঞ্চল বিশেষ করে গার্মেন্টশ্রমিক, বস্তিবাসী ও আশপাশের এলাকা এবং ভাসমান মানুষের মধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫