ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৭ আগস্ট ২০১৭

প্রথম পাতা

ব্যালাস্টিক রিপোর্ট

মেয়র মিরুর গুলিতেই সাংবাদিক শিমুল নিহত

সিরাজগঞ্জ ও শাহজাদপুর সংবাদদাতা

২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পৌরমেয়র হালিমুল হক মিরুর গুলিতেই নিহত হয়েছেন সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল, সিআইডির ব্যালাস্টিক রিপোর্টে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি গতকাল তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জানান, শিমুলের মাথায় লেগে থাকা গুলি, উদ্ধার করা খোসা ও মিরুর শর্টগানের ব্যালাস্টিক পরীক্ষা করে মিল পাওয়া গেছে। তাই নিশ্চিত হওয়া গেছে মেয়র মিরুর গুলিতেই সমকালের সাংবাদিক শিমুল নিহত হয়েছেন। তিনি আরো জানান, শিমুলের মাথায় পাওয়া লেটবলটি মেয়র মিরুর শর্টগানের কি না তা নিশ্চিতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সিআইডিতে ব্যালাস্টিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, শিমুলের মাথায় বিদ্ধ লেটবল মেয়র মিরুর শর্টগানে ব্যবহৃত কার্তুজ থেকেই ছোড়া হয়েছে। এর আগে গতকাল সকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, ব্যালাস্টিক রিপোর্টের একটি কপি আদালতে আর একটি কপি আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। তিনি আরো জানান, প্রতিবেদনে শিমুলের মাথায় বিদ্ধ লেটবল মেয়র মিরুর শর্টগানের ব্যবহৃত কার্তুজ থেকে ছোড়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এর আগে সাংবাদিক শিমুলের মাথায় পাওয়া লেটবলটি মেয়র মিরুর শর্টগানের কী না তা নিশ্চিত হতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সিআইডিতে ব্যালাস্টিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। গত ৭ মার্চ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ পৌরমেয়র মীরুর বাসার পাশে পুকুর থেকে একটি শর্টগান উদ্ধার করে।
উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগ নেতা বিজয় মাহমুদকে মেয়র মিরুর দুই ভাই অস্ত্রের মুখে মেয়রের বাড়িতে তুলে নিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও বিজয়ের স্বজনরা মেয়রের বাসার সামনে মিছিল নিয়ে গিয়ে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় মেয়র মিরু ও তার ভাই শর্টগান দিয়ে গুলি ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে কর্তব্য পালনকালে মেয়রের গুলিতে সমকাল সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল গুরুতর আহত হন। পর দিন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়ার পথে সাংবাদিক শিমুল মারা যান। এ ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সারা দেশের সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীরা। সাংবাদিক শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার বাদি হয়ে পৌরমেয়র হালিমুল হক মিরুকে প্রধান আসামি করে ১৮ জন নামীয়সহ অজ্ঞাত আরো ২০-২৫ নামে হত্যা মামলা করেন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা শ্যামলী এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মেয়র মিরু, পর্যায়ক্রমে মিরুর দুই ভাই মিনু ও পিন্টুসহ ১৩ জন আসামিকে আটক করে।  

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫