স্মরণ : নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী

আজ জননেতা, বাঙালি মুসলিম সমাজের অন্যতম কাণ্ডারি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর (১৮৬৩-১৯২৯) মৃত্যুবার্ষিকী। নওয়াব আলী রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল ও কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে লেখাপড়া করেন। ইংরেজি, বাংলা, উর্দু, আরবি ও ফারসি ভাষায় ব্যুৎপত্তি লাভ করে তিনি ময়মনসিংহে কর্মজীবন শুরু করেন অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে। মুসলমানদের দুঃখদুর্দশা দেখে সরকারি চাকরি ছেড়ে ময়মনসিংহ পৌরসভার কমিশনার ও জেলা বোর্ডের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করেন। নওয়াব আলী চৌধুরী পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য, বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য এবং ভারতের ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। ১৯২১ সালে প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন এবং প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম মন্ত্রী এবং কৃষি, শিল্প, গণপূর্ত ও আবকারি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। তখন বিভাগগুলোর প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। ১৯২৩ সালে দ্বিতীয় রিফর্মড কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত এবং ১৯২৫ সালে মন্ত্রী হন। একই বছরে তিনি গভর্নরের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হয়ে আমৃত্যু বহাল ছিলেন। এ সময় বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সংগঠনে বিভিন্ন পদে ছিলেন। নওয়াব আলী চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম। ১৯২০ সালের ৩ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন পাস হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘ ৯ বছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। এর বিধিবিধান প্রণয়নে ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯০৬ সালে ঢাকা কলেজে মুসলিম হল প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি ৩৫ হাজার টাকা দান করেন। তার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় ঢাকা, কলকাতা ও ময়মনসিংহ শহরের কলেজের ছাত্রদের জন্য হোস্টেল প্রতিষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগের ছাত্রদের বৃত্তি প্রদানের জন্য ১৯২২ সালে ১৬ হাজার টাকা দান করেন। তিনি ছিলেন ভারতে পৃথক নির্বাচন-পদ্ধতির প্রবক্তা। ১৯০৬ সালে সিমলা ডেপুটেশনে পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করেন। সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন এবং ১৯০৬ সালে ঢাকায় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় আইন পরিষদে মুসলিম সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। ‘লèৌ চুক্তি’ বাংলার মুসলমানদের স্বার্থবিরোধী হওয়ার প্রতিবাদে ১৯১৭ সালে বঙ্গীয় মুসলিম লীগের সভাপতির পদে ইস্তফা দেন। ১৯২৩ সালে কলকাতা করপোরেশনে পৃথক নির্বাচন বিল পাস করা ছিল তার এক বিরাট সাফল্য। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং সাংবাদিকতার একজন বড় পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য রচনাকর্ম হলো : ভার্নাকুলার এডুকেশন ইন বেঙ্গল। তিনি ১৯১১ সালেই দাবি জানান বাংলাকে সরকারি ভাষা করার জন্য। ব্রিটিশ সরকার তাকে ১৯০৬ সালে ‘খান বাহাদুর’, ১৯১১ সালে ‘নওয়াব’, ১৯১৮ সালে ‘সিআইই’ এবং ১৯২৪ সালে ‘নওয়াব বাহাদুর’ উপাধি প্রদান করে। ১৯২৯ সালের ১৭ এপ্রিল ইন্তেকাল করেন দার্জিলিংয়ে তার বাসভবন ইডেন ক্যাসলে। ধনবাড়িতে তিনি চিরশয্যায় শায়িত।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.