২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রতিশ্রুত অর্থ দিচ্ছে না ধনী দেশগুলো

-

জলবায়ুর অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের মতো দেশগুলো ধনী দেশের প্রতিশ্রুত অর্থ পাচ্ছে না। মঞ্জুরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তারা ঋণ দিতে চায়। উন্নত দেশগুলো ২০২০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার দেয়া দেয়ার ঘোষণা দিলেও তারা এখন পর্যন্ত ১০ বিলিয়নও দেয়নি। ভবিষ্যতে এ খাতে অর্থের প্রবাহ আরো হ্রাস পাবে। ২০১৫ সালে জলবায়ুবিষয়ক প্যারিস সম্মেলনে আমরা অনেক কিছু হারিয়েছি এবং ১৪ ডিসেম্বর পোল্যান্ডে শেষ হওয়া জলবায়ু সম্মেলন ছিল আরো বেশি হতাশাজনক। জলবায়ু অভিঘাতে ক্ষতি মোকাবেলায় আমাদের নিজেদের মতো করেই চেষ্টা করতে হবে বলে গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অধিকারভিত্তিক নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে জলবায়ু সম্মেলন নিয়ে এভাবেই হতাশা ব্যক্ত করা হয়।
পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের ফলাফল প্যারিস জলবায়ু চুক্তির সাথে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তারা জানান। তারা প্রস্তাবিত প্যারিস সম্মেলনেরও তীব্র সমালোচনা করেন। কারণ বিশ্ব তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, বাস্তচ্যুতি ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত সেখানে ছিল না। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনে অতি বিপদাপন্ন দেশগুলোর স্বার্থ ক্ষুণœ হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
‘বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনের ফলাফল পর্যালোচনা এবং নাগরিক সমাজের সুপারিশসমূহ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তারা আরো বলেন, প্যারিস রুলবুক জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পুরোপুরিভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় অতি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ওপর বোঝা আরো বাড়বে, তাদেরকে নিজের সম্পদ ও সামর্থ্যরে ওপরই নির্ভর করতে হবে।
তারা বলেন, প্যারিস চুক্তিতে ধনী দেশগুলো দায়িত্ব এড়িয়ে গেছে। আমরা ক্ষতিপূরণের দাবিটিও হারিয়েছি। ফলে ২০১৮ সালে এসে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশগুলোর পক্ষ থেকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নিঃশর্ত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও থাকল না। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সঙ্কট মোকাবেলায়, অভিযোজন ও প্রশমনের সব দায়িত্ব বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে নিজেদেরই নিতে হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, ২০২০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল তৈরির যে প্রতিশ্রুতি ধনী দেশগুলো দিয়েছিল, সেখান থেকে তারা সরে গেছে। এমনকি ২০২৫ সালের পরের আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি নিয়েও তালবাহানা শুরু হয়েছে। ঐতিহাসিক দায়িত্ব ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কথা বলার কোনো সুযোগ অতি বিপদাপন্ন দেশগুলোর রইল না।
তারা সংবাদ সম্মেলনে জানান, ইউএনএফসিসি এখন শুধু তথ্য সংগ্রহ আর আলাপ-আলোচনার একটি ফোরামে পরিণত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কোনো বৈশ্বিক উদ্যোগ নেয়ার কোনো অবস্থা এর নেই। বাংলাদেশের উচিত জরুরি ভিত্তিতে ফিলিপাইনের মতো একটি জলবায়ু কমিশন গঠন করা, দেশের অভ্যন্তরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় কাজ করার পাশাপাশি এই কমিশন বৈশ্বিক পর্যায়ে আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরতে পারবে। বক্তারা আশা করেন, আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে ভবিষ্যতে আরো বেশি গুরুত্ব দেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে সঞ্চালনা করেন ইক্যুইটিবিডির প্রধান সঞ্চালক রেজাউল করিম চৌধুরী। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সৈয়দ আমিনুল হক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফেডারেশন অব এনভায়রনমেন্টাল জার্নালিস্টের কামরুল ইসলাম চৌধুরী, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের মো: শামসুদ্দোহা ও বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের বদরুল আলম।

 


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme