চা রফতানি ২০২৪ সালে কিছুটা বেড়েছে, আরো বাড়াতে হবে : টি বোর্ডের চেয়ারম্যান

‘চা রফতানির জন্য সবার আগে যে দেশগুলোতে রফতানি করা হতো সেসব দেশের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। বিগত কয়েক বছরে কোনো কারণে আমাদের সে যোগাযোগ বা সম্পর্কটা তাদের সাথে দুর্বল হওয়ায় এই বাজারটা অন্য দেশ দখল করে নিয়েছে। সেগুলোকে উদ্ধার করতে হবে।’

ছবি : নয়া দিগন্ত

চা রফতানি ২০২৪ সালে কিছুটা বেড়েছে, আরো বাড়াতে হবে মন্তব্য করে বাংলাদেশ টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল শেখ মো: সরওয়ার হোসেন বলেছেন, ‘চা রফতানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে রিলেশনশিপ মেটার করে। এই রিলেশনশিপ অনেক সময় পলিটিক্যাল লিডারশিপের উপর নির্ভর হয়। যে সকল দেশ আমাদের কাছ থেকে রফতানি করতো তাদের কোনো কারণে হয়তো বুঝাপড়াতে গ্যাপ ছিল। সেটা কিন্তু ডিপলোম্যাটিক কারণেও হতে পারে। প্রতিটি মানুষ কেনাকাটার আগে সিদ্ধান্ত নেয় কোথা থেকে ক্রয় করবে। এটাও একটা রিলেশনশীপের বিষয়। দেশ থেকে দেশ এই সম্পর্কের বিষয়টি কৌশলগত কারণে হয়ে যায়।’

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্রের (বিটিআরআই) ৫৯তম বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্রের বার্ষিক কোর্স প্রশিক্ষণের সমাপনী দিনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন বাগানের ২০ জন সহকারী ব্যবস্থাপক প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে গুণগত মানের ভ্যারাইটি চা উৎপাদনের উপর সাত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্স শুরু হয়।

টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘চা রফতানির জন্য সবার আগে যে দেশগুলোতে রফতানি করা হতো সেসব দেশের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। বিগত কয়েক বছরে কোনো কারণে আমাদের সে যোগাযোগ বা সম্পর্কটা তাদের সাথে দুর্বল হওয়ায় এই বাজারটা অন্য দেশ দখল করে নিয়েছে। সেগুলোকে উদ্ধার করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের যে মিশনগুলো রয়েছে, বিশেষ করে এম্বেসিগুলোকে ওই দেশের ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করতে হবে। তারা যেন আমাদের চা রফতানি করে। প্রয়োজনে টি সেক্টর থেকে ওই দেশে প্রতিনিধি যাবে এবং আমাদের চাগুলো প্রদর্শনী করবে বিভিন্ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে যেন তারা ইনকারেজ হয়। অনেকেই হয়ত জানেও না যে বাংলাদেশে কোয়ালিটি চা উৎপাদন হয়। এছাড়া যারা চা ইমপোর্ট করেন তারা যদি চা ইমপোর্ট কমিয়ে এক্সপোর্ট করেন তাহলে দেশ উপকৃত হবে। বিশেষ করে আমাদের উৎপাদনকারী যারা আছেন তারা বছর শেষে চা বিক্রি করতে গিয়ে হিমশিম খান। আমি ইমপোর্টটাকে ডিসকারেজ করার পক্ষে সব সময় বলে জানান তিনি।’

এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘কয়েকটা গ্রুপের উপর এই চা সেক্টর নির্ভর করছে। আমি সিন্ডিকেট বলবো না, কিন্তু কয়েকটা গ্রুপের ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে চায়ের মার্কেট প্রাইসটা কি রকম হবে। চায়ের সর্বনিম্ন কেজি ১৬০ টাকার নিচে নামালে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনিতেই বেশিরভাগ বাগান এখন ক্ষতিতে আছে। কারণ কষ্ট অব প্রডাকশন ২২০ টাকার উপরে। সেখানে আমাদের এর নিচে বিক্রি করলে তারা লসেই থাকবে। এজন্য লো প্রাইস আর কমানো যাবে না।’

নিম্নমানের চা ভারত থেকে চোরাই পথে আসার ব্যাপারে টি বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, ‘যারা ওপার থেকে সেগুলো পাঠাচ্ছে দোষ শুধু তাদের না, আমরা নিজেরাও চরিত্রহীন। ওপার থেকে নিয়ে আসতেছে আমাদের লোকই। সবকিছু আইনকানুন দিয়ে হয় না। আমাদের নিজেদের চরিত্র ঠিক করতে হবে। নিজেদের আত্মসম্মানবোধ ও দেশপ্রেমের ঘাটতি থাকলে বর্ডারে যতই সীল মারা হয় না কেন, কোনো না কোনোভাবে সেগুলো আসবেই।’

ন্যাশনাল টি কোম্পানির শ্রমিক অসন্তোষের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিগত কয়েক বছরে এ কোম্পানিতে অনেক অনিয়ম হয়েছে। সেই অনিয়মের জন্য অনেক ব্যাংক লোন হয়েছে। পরবর্তীতে সেটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন সরকার চেষ্টা করছে। নতুন পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে। তারা সততার সাথে কাজ করলে অবশ্যই এ কোম্পানি ভালো করবে।’

‘এছাড়া দেশের বাইরে চায়ের কম্পিটিশন বেড়েছে। এখন অনেকগুলো দেশেই সস্তায় চা উৎপাদন করছে। যেখানে আমরা প্রাইসের জন্য স্ট্রাগল করছি। সব কিছু মিলিয়ে আমাদের রফতানি অনেক কমেছিল এটা সত্য। তবে সেটা ২০২৪ সালে কিছুটা বেড়েছে। এই বাড়াতে আমরা খুব বেশি খুশি না। আমাদের অনেক সুযোগ আছে তাই রফতানি আরো বাড়াতে হবে বলে জানান তিনি।’

এ সময় যুগ্ম সচিব ও বাংলাদেশ চা বোর্ডের সদস্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) ড. পিযুষ দত্ত, বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক মো: ইসমাইল হোসেন, বাংলাদেশ চা প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক ড. রফিকুল হকসহ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা প্র্যাক্টিক্যাল শিক্ষাগুলো নিজ বাগানে গিয়ে অ্যাপ্লাই করতে পারলে ভালো ফল আসবে এবং গুণগত মানের চা উৎপাদন করা যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন অতিথিরা।