বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সঙ্কট থাকবে না—এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সঙ্কট দেখা দেয়া।’ একইসাথে দুর্নীতি ও ঋণখেলাপির ক্ষেত্রেও বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ব্যাংক রেজুলেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এর ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব এবং বিলের সাধারণ নীতির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সঙ্কট হবে না—এটা হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সঙ্কট হবে না—সেটাও হতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘সারের সঙ্কটে দরিদ্র কৃষকরা সার কারখানায় গিয়ে তা লুট করবেন না—এমনটিও হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’
রুমিন ফারহানা আরো বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না—এটিও সম্ভব নয়। একইভাবে বাংলাদেশ ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ অবস্থানে যাবে না, সেটিও হতে পারে না।’
তার দাবি, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ঋণখেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে।
‘সংসদের পরিবেশ আওয়ামী লীগ আমলের চেয়েও খারাপ’
রুমিন ফারহানার বক্তব্যের একপর্যায়ে সংসদে হৈচৈ শুরু হয়। এ সময় তিনি সংসদের পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মনে হচ্ছে তারা আবার আওয়ামী লীগ আমলে ফিরে গেছেন। তখন বিরোধীদের বক্তব্যের সময় আওয়ামী লীগের সদস্যরা হট্টগোল করতেন। এখন একই ধরনের আচরণ হচ্ছে, বরং আরও খারাপ আচরণ করা হচ্ছে।’
এ সময় ব্যাংক রেজুলেশন বিলে যুক্ত হওয়া নতুন ধারা ১৮-ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রুমিন বলেন, ওই ধারা রাখার কারণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংসদের বেশির ভাগ সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার অভিযোগ, নির্বাচনের আগে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম কাটাতে আদালতে রিট করা এবং নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার ঘটনা দেশের পুরোনো সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।
বক্তব্যে বাধা না দেয়ার আহ্বান স্পিকারের
রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সময় বারবার হট্টগোল হলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি ‘অর্ডার’ বলে সংসদে শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন এবং রুমিন ফারহানাকে বক্তব্য চালিয়ে যেতে বলেন।
হট্টগোল অব্যাহত থাকলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদও সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য বক্তব্য দিচ্ছেন। তার বক্তব্য উপস্থাপনের স্বাধীনতা রয়েছে। অন্য সদস্যরা তার বক্তব্যে বাধা দিতে পারেন না।’
স্পিকার বলেন, ‘কারো বক্তব্যে দ্বিমত থাকলে নিজের বক্তব্য দেয়ার সময় তা খণ্ডন করা যেতে পারে। কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা দেয়া কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না।’
ব্যাংক রেজুলেশন বিল সংশোধনে অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ আখতার হোসেনের
আলোচনায় এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন ব্যাংক রেজুলেশন বিল সংশোধনের উদ্যোগের জন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আর্থিক খাতে এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।’
তিনি বলেন, ‘এর আগে ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮-বি ধারা নিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছিল। ওই ধারার কারণে একীভূত বা রেজুলেশনে যাওয়া ব্যাংকগুলো পুরোনো মালিকদের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল।’
আখতার হোসেন বলেন, ‘সে সময় বিরোধী দল সরকারের কাছে ওই ধারা বাদ দেয়ার দাবি জানিয়েছিল এবং বাজেট বক্তৃতাতেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল।’ এখন সংশোধনীর মাধ্যমে ওই বিধান বাতিলের উদ্যোগ নেয়ায় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।



