মাকে বাঁচাতে ইবি শিক্ষার্থী রাজ্জাকের আকুল আবেদন

কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাজ্জাক মোড়লের মা। তাকে বাঁচাতে সবার কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

Location :

Kushtia
রোগীর ছেলে রাজ্জাক মোড়ল
রোগীর ছেলে রাজ্জাক মোড়ল |নয়া দিগন্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী রাজ্জাক মোড়ল। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এই শিক্ষার্থী। মাকে বাঁচাতে তাই সবার কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

রাজ্জাক ইবির ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা মো: কবির মোড়ল (৬০) পেশায় একজন দিনমজুর। তার মা মোছাম্মৎ রোকেয়া খাতুন (৫১) সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের মহিষকুড় গ্রামের বাসিন্দা ও একজন গৃহিণী।

রাজ্জাক জানান, মাসখানেক আগে তার মা পেট ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সাতক্ষীরার আনোয়ারা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো: মুশফিকুর রহমানের অধীনে পেটের আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, ইকোকার্ডিওগ্রাফি এবং সিটি স্ক্যান করানো হয়। পরীক্ষায় পেটে একটি বড় টিউমার ধরা পড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত অস্ত্রোপচার করে পেটের টিউমারটি অপসারণ করা হয় ও সাময়িকভাবে পেটে কৃত্রিম মলদ্বার স্থাপন করা হয়।

পরে ডা: শাহরিয়ার মামুনের অধীনে টিউমারের বায়োপসি পরীক্ষা করানোর পর কোলন ক্যান্সার শনাক্ত হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে অনতিবিলম্বে ঢাকা বা ভারতে নেয়ার ও কেমোথেরাপি শুরুর পরামর্শ দেন।

তবে নিম্ন আয়ের এই পরিবারের পক্ষে টিউমার অপারেশনের টাকা জোগাড় করা সম্ভব হলেও কেমোথেরাপির টাকা জোগাড় করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। প্রথম ধার-দেনা করে কেমোথেরাপি সম্পন্ন করে পরিবারটি। তবে এখনো প্রায় সাত থেকে আটটি কেমোথেরাপি দিতে হবে বলে জানান রাজ্জাক।

কেমোথেরাপির একাধিক সাইকেল সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী ধাপে পেটের আইলিওস্টোমি ব্যাগটি ভেতরের রাস্তায় জোড়া দেয়ার জন্য আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হবে।

ইতোমধ্যে চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক খরচসহ সব মিলিয়ে পরিবারটির প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। একাধারে কেমোথেরাপির দামি ওষুধপত্র, নিয়মিত রক্তের পরীক্ষা ও দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের বিশাল ব্যয় বহন করা একজন দিনমজুর বাবার পক্ষে একেবারেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অর্থাভাবে মায়ের মূল চিকিৎসা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে জানান রাজ্জাক।

এমতাবস্থায় মায়ের চিকিৎসার অর্থের জোগানের লক্ষ্যে সবার কাছে সাহায্য চেয়ে রাজ্জাক বলেন, ‘আমার দিনমজুর বাবার পক্ষে বা আমাদের পরিবারের সাধ্যের মধ্যে এই দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়বহুল ক্যান্সার চিকিৎসা চালানো আর সম্ভব হচ্ছে না। কেমোথেরাপি ও পরবর্তী অপারেশনের খরচ জোগাতে না পারলে মাকে বাঁচানো কঠিন হয়ে যাবে। তাই বাধ্য হয়ে সবার কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছি। আপনাদের সামান্য সহানুভূতি ও আর্থিক সহযোগিতাই হয়তো আমার মাকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে। আপনাদের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ালে আমরা চিরকৃতজ্ঞ থাকব। দয়া করে সবাই আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন।’

সহযোগিতা ও অনুদান পাঠানোর জন্য :
বিকাশ/নগদ/রকেট (Personal): ০১৯৯৮৮৩৫১০৮

ডাচ বাংলা ব্যাংক পিএলসি
অ্যাকাউন্টের নাম : মো: রাজ্জাক মোড়ল (MD. RAZZAK MORAL)
অ্যাকাউন্ট নম্বর : ১৮০১০৭০০২৮৬০২
ব্যাঞ্চ : সাতক্ষীরা

অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি
অ্যাকাউন্টের নাম : মো: রাজ্জাক মোড়ল
অ্যাকাউন্ট নম্বর : ০২০০০২৩৭৩১৫১১
ব্যাঞ্চ : থানা পাড়া, কুষ্টিয়া