মেধার শিখর থেকে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাতে হবে : শিবির সভাপতি সাদ্দাম

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘কলেজ জীবনে প্রবেশের আগে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার মাধ্যমে ছাত্রশিবির তাদের মেধার মূল্যায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়েও সতর্ক করছে। ইহকালীন সাফল্যের পাশাপাশি পরকালীন মুক্তির পথেও নিজেদের পরিচালিত করতে হবে।‘

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
অতিথি ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা
অতিথি ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, ‘মেধার শিখর থেকে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাতে হবে। শুধু এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করলেই সাফল্য নিশ্চিত হয় না; অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণে অনেকেই পরবর্তী পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল করতে পারে না। বাবা-মা ও সমাজ তরুণদের কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। তাই তাদের স্বপ্নের সারথী হয়ে জীবনের সর্বোচ্চ সিঁড়িতে পৌঁছাতে হবে।’

বুধবার (১৯ আগস্ট) সিলেট মহানগর ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর শাহী ঈদগাহ টিভি গেইট এলাকার জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০০ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘কলেজ জীবনে প্রবেশের আগে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার মাধ্যমে ছাত্রশিবির তাদের মেধার মূল্যায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়েও সতর্ক করছে। ইহকালীন সাফল্যের পাশাপাশি পরকালীন মুক্তির পথেও নিজেদের পরিচালিত করতে হবে।‘

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। এসএসসিতে যারা জিপিএ-৫ পেয়েছে, তাদের অনেকেই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ নাও পেতে পারে। বাবা-মা ও সমাজ আমাদের কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। আমাদের তাদের স্বপ্নের সারথী হতে হবে। কেউ যদি সফলতার চূড়ায় উঠে আবার সেখান থেকে পড়ে যায়, তাহলে সে সমাজের বোঝা হয়ে যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘তরুণ সমাজ দেশের সম্পদ। তাদের কাজে লাগাতে না পারলে বাংলাদেশকে গোলামির জিঞ্জির থেকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের জনসম্পদ দিয়েছেন। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করা সম্ভব। অথচ তরুণদের জন্য কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।’

শিক্ষার্থীদের মেধাবী হিসেবে গড়ে তোলা ও যোগ্যতা অনুযায়ী মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে ছাত্রশিবির কাজ করে যাবে বলেও জানান তিনি।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর সভাপতি শহিদুল ইসলাম সাজুর সভাপতিত্বে ও মহানগর সেক্রেটারি আবু তাহের মুহাম্মদ ফাহিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব (ওয়াকফ প্রশাসক) মো: ফখরুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মহানগর সভাপতি মাওলানা মাহমুদুর রহমান দেলাওয়ার, মাওলানা মাসুক আহমদ, ফরিদ আহমদ ও নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠান শেষে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও অন্য উপহার তুলে দেন অতিথিরা।