টানা বর্ষণে মিরসরাই প্লাবিত, পানিবন্দী হাজারো মানুষ

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, টানা চারদিনের বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। খবর পেয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

Location :

Mirsharai
নয়া দিগন্ত

টানা চারদিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বিদ্যুৎহীনতা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা এবং শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন খাল-ছড়ার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করেছে। উপজেলার খৈয়াছড়া, ওয়াহেদপুর, কাটাছড়া, ইছাখালী ইউনিয়ন, মিরসরাই পৌরসভা এবং বারইয়ারহাট পৌরসভার বিভিন্ন বাড়িতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে গ্রামীণ ও সংযোগ সড়কের বিভিন্ন অংশ। পাহাড়ি ঢলে অনেক গ্রামীণ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে কৃষি খাতেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আউশ রোপা, আমনের বীজতলা ও বিভিন্ন সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।

উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, ‘৬ শতক জমিতে আমনের বীজতলা বসিয়েছিলাম। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলের কারণে সব তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি কমলে আবার নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হবে।’

খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পূর্বপোলমোগরা এলাকার বাসিন্দা নুরুল হুদা বলেন, ‘টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে হঠাৎ করে বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। ঘরের আসবাবপত্র ও খাবার সামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’

সৈদালী এলাকার গৃহিণী কোহিনুর আক্তার বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি উঠানসহ ঘরের ভেতরে পানি। রান্না করতে পারছি না। বিশুদ্ধ পানিরও সঙ্কট দেখা দিয়েছে। টিউবওয়েল পানিতে ডুবে গেছে।’

ওচমানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো: আলা উদ্দিন জানান, জোরারগঞ্জ-মুহুরী প্রজেক্ট সড়ক আগে থেকেই বেহাল ছিল। টানা বৃষ্টিতে সেখানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। টেকেরহাট সড়কের অবস্থাও নাজুক হওয়ায় মানুষকে চলাচলে ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

টানা চারদিনের বৃষ্টিতে রিকশা ও ভ্যানচালকসহ দিনমজুররা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কাজ না থাকায় তারা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

মিরসরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: ফেরদৌস হোসেন জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বুধবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ও সব পরীক্ষা স্থগিত ছিল। আজও উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং পরীক্ষা গ্রহণ স্থগিত থাকবে।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, টানা বৃষ্টিতে আউশ রোপা, আমন বীজতলা ও সবজিক্ষেতের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। মাঠ পরিদর্শন করে প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে ৫০ হেক্টর আউশ, ৫ হেক্টর আমন বীজতলা এবং ১৫ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, টানা চারদিনের বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। খবর পেয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে।

মিরসরাই আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে এলাকার মানুষ যাতে কষ্টে না থাকেন, সেজন্য দলীয় নেতাকর্মীদের ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর ও তালিকা তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পানিবন্দী মানুষের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে।