ফটিকছড়ি উত্তরের ৩ ইউনিয়নে চলছে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

হরতালের ফলে সকাল থেকেই নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, বালুটিলা, চিকনছড়া ও বাগানবাজার এলাকার দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের যানবাহন বন্ধ রয়েছে। তবে জনস্বার্থ বিবেচনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, ফার্মেসি, ক্লিনিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হরতালের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

Location :

Fatikchhari
সড়কে বাঁশ ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন হরতাল সমর্থকরা
সড়কে বাঁশ ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন হরতাল সমর্থকরা |নয়া দিগন্ত

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

চট্টগ্রামে নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দফতর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে তিন ইউনিয়নে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হচ্ছে। উপজেলার নারায়ণহাট, দাঁতমারা ও বাগানবাজার ইউনিয়নে এ হরতাল চলছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের ডাকে এ হরতাল শুরু হয়।

হরতালের ফলে সকাল থেকেই নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, বালুটিলা, চিকনছড়া ও বাগানবাজার এলাকার দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের যানবাহন বন্ধ রয়েছে। তবে জনস্বার্থ বিবেচনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, ফার্মেসি, ক্লিনিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হরতালের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হরতাল সমর্থকদের পিকেটিংয়ের কারণে ঢাকা-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক ও চট্টগ্রাম-হেয়াঁকো সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ সময় বাস, ট্রাক ও সিএনজি চালিত অটোরিকশাসহ অসংখ্য যানবাহন বিভিন্নি স্থানে আটকা পড়ে। দূরপাল্লার ও স্থানীয় যাত্রীদের পায়ে হেঁটে হরতালের আওতাধীন এলাকা অতিক্রম করতে দেখা যায়।

আন্দোলনকারীরা সকাল থেকে বালুটিলা বাজার, চিকনছড়া বাজার, গার্ডের দোকান, হেয়াঁকো, দাঁতমারা, শান্তিরহাট ও নারায়ণহাট এলাকায় পিকেটিং, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোথাও কোনো ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ বা আটকের ঘটনা ঘটেনি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ভূজপুর থানা পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দফতর পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় স্থাপনের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা এ আন্দোলন করছেন। ফটিকছড়ির ভৌগোলিক বাস্তবতা ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় উপজেলা সদর যৌক্তিক স্থানে স্থাপন করা উচিত।

তারা জানান, ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চলের প্রায় আড়াই লাখ মানুষের প্রশাসনিক সেবা প্রাপ্তি সহজ করার লক্ষ্যে তারা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

হরতালের সমর্থক আজিম উদ্দিন বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দফতর ভূজপুর মৌজায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উপজেলার নাম ফটিকছড়ি উত্তর হলে সদর দফতরও উত্তরাঞ্চলে হতে হবে। জনগণের যৌক্তিক দাবি না মানলে আন্দোলন আরো কঠোর হবে।

আরেক সমর্থক মনির হোসেন বলেন, আমাদের সাথে বৈষম্য করা হয়েছে। মাত্র কয়েক কিলোমিটারের ব্যবধানে দু’টি উপজেলা সদর রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এতে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের নেতা রাকিবুল আলম চৌধুরী পিটু বলেন, সদর দফতর ন্যায্যতার ভিত্তিতে উত্তর উপজেলার ছয় ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থান জুজখোলা মৌজায় স্থাপন করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের যৌক্তিক দাবির অংশ হিসেবেই আজকের এ শান্তিপূর্ণ হরতাল কর্মসূচি। প্রশাসন যদি সাধারণ মানুষের সেন্টিমেন্ট না বোঝে এবং দাবি বাস্তবায়ন না করে, তবে আগামীতে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

ভূজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে গণমাধ্যমকে জানান, হরতাল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের সহিংসতা বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।