বর্ষায় জেগে ওঠে গাইবান্ধার তেনাছিড়া বিল

‎বর্ষা এলেই পানিতে ভরে ওঠে বিস্তীর্ণ এই বিল। তখন এলজিইডির নির্মাণাধীন সড়কটি পানির মাঝখানে এক নান্দনিক সৌন্দর্য তৈরি করে। দুই পাশের সবুজ গাছপালা, শীতল বাতাস, ঢেউ খেলানো জলরাশি আর সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য একসাথে মিলে জায়গাটিকে দিয়েছে ভিন্ন এক পরিচয়। স্থানীয়রা এখন ভালোবেসে একে ডাকছেন ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে।

সোহাগ খন্দকার, সাঘাটা (গাইবান্ধা)

Location :

Gaibandha
দুই পাশের সবুজ গাছপালা, শীতল বাতাস, ঢেউ খেলানো জলরাশি আর সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য একসাথে মিলে জায়গাটিকে দিয়েছে ভিন্ন এক পরিচয়
দুই পাশের সবুজ গাছপালা, শীতল বাতাস, ঢেউ খেলানো জলরাশি আর সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য একসাথে মিলে জায়গাটিকে দিয়েছে ভিন্ন এক পরিচয় |ছবি : নয়া দিগন্ত

গাইবান্ধার সাঘাটায় তেনাছিড়া বিল বর্ষাকালে তার অপরূপ জলরাশি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে স্থানীয় এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের কাছে এখন ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

চারদিকে অথৈ পানি, মাঝখান দিয়ে চলে গেছে সরু আঁকাবাঁকা একটি পাকা সড়ক। রাস্তার দুই পাশে সারি সারি কিছু গাছ, জলে ভাসছে সাদা শাপলা আর গোলাপি পদ্ম। ছোট ছোট নৌকা ধীরে ধীরে এগিয়ে চলছে বিলের বুকে। বিকেলের নরম আলো পানির ঢেউয়ে পড়ে তৈরি করছে ঝিলমিল এক আবহ। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, যেন প্রকৃতি নিজের হাতে এঁকেছে এক জীবন্ত ক্যানভাস। এ দৃশ্য গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের তেনাছিড়া বিলের।

‎বর্ষা এলেই পানিতে ভরে ওঠে বিস্তীর্ণ এই বিল। তখন এলজিইডির নির্মাণাধীন সড়কটি পানির মাঝখানে এক নান্দনিক সৌন্দর্য তৈরি করে। দুই পাশের সবুজ গাছপালা, শীতল বাতাস, ঢেউ খেলানো জলরাশি আর সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য একসাথে মিলে জায়গাটিকে দিয়েছে ভিন্ন এক পরিচয়। স্থানীয়রা এখন ভালোবেসে একে ডাকছেন ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে।

‎প্রতিদিন বিকেল হলেই সাঘাটা, গাইবান্ধা, বগুড়া, রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসছেন এখানে। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে, কেউ বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে, কেউ আবার শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও আলোকচিত্রীদের উপস্থিতিও দিন দিন বাড়ছে।

‎শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, শাপলা-পদ্মে ভরা বিল আর ছোট ছোট ডিঙি নৌকার দৃশ্য দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। অনেকেই নৌকায় ভেসে বিল ঘুরে দেখছেন, আবার কেউ হাঁটুসমান পানিতে নেমে গোসল করে উপভোগ করছেন বর্ষার নির্মল পরিবেশ। শিশুদের হাসি, পানির কলকল শব্দ আর পাখির ডাক মিলিয়ে পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক প্রশান্তিময় আবহ।

‎পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘পরিবার নিয়ে এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। বিলে নেমে গোসল করেছি, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেছি। এমন পরিবেশে কিছুক্ষণ থাকলেই মন ভালো হয়ে যায়।’

‎নৌকার মাঝি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্ষাকাল এলেই তেনাছিড়া বিল নতুন প্রাণ ফিরে পায়। আমরা নৌকা চালিয়ে কিছু টাকা আয় করি।’

‎কলেজ শিক্ষক মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘গাইবান্ধার সাঘাটায় এই কক্সবাজার দেখতে আসছি। এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুব কম জায়গায় দেখা যায়। যদি এই জায়গাটি সংরক্ষণ করা যায়, তাহলে এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম দর্শনীয় পর্যটনকেন্দ্র হতে পারে।’

‎বগুড়া থেকে ঘুরতে আসা সাংবাদিক ও লেখক প্রতীক ওমর বলেন, ‘তেনাছিড়া বিল শুধু একটি বিল নয়, এটি গ্রামবাংলার প্রকৃত সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি। শাপলা-পদ্ম, জলরাশি, নৌকা আর সূর্যাস্তের অপূর্ব সমন্বয় যে কাউকে মুগ্ধ করবে। পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা গেলে এটি দেশজুড়ে পরিচিত একটি ইকো-ট্যুরিজম স্পট হয়ে উঠতে পারে।‘

‎সাঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘এ বছর টানা বৃষ্টিপাতের কারণে তেনাছিড়া বিলে পর্যাপ্ত পানি জমেছে। একটি রাস্তার কিছু অংশ তলে গিয়েছে, ফলে বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আগের তুলনায় অনেক বেশি ফুটে উঠেছে।’