সরাইলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, জনমনে স্বস্তি

মহাসড়কে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করায় দিনে ও রাতে চুরি, ছিনতায় ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার প্রবণতা কমে আসবে বলে স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা

Location :

Sarail
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরার দৃশ্য
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরার দৃশ্য |নয়া দিগন্ত

ব্রাহ্মণবাড়য়ার সরাইলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সরাইল কুট্টাপাড়া মোড় থেকে ইসলামাবাদ (গোগদ) পর্যন্ত এলাকা জুড়ে এই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এতে মহাসড়কে দিনে ও রাতে চুরি, ছিনতায় ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার প্রবণতা কমে আসবে বলে স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয়রা ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানায়, সরাইল কুট্টাপাড়া মোড় থেকে পূর্বদিকে ইসলামাবাদ পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের এ অংশে দিনে ও রাতে প্রায়ই ছিনতায় ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। রাতে যানবাহন থামিয়ে ডাকাতি হওয়ার মতো অনেক ঘটনা মহাসড়কের এ অংশে আগে ঘটেছে। এছাড়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালককে খুন করে মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার মত ঘটনাও মহাসড়কের এ অংশে ঘটেছে।

সর্বশেষ গত ১০ জুলাই রাত ১০টার দিকে উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্র্যাক অফিসের পূর্বপাশে কুট্টাপাড়া গ্রামের আজগর আলীর ছেলে জিহাদ মিয়াকে (১৭) দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে। পরে ১৯ জুলাই সকাল ১১টার দিকে মহাসড়কের কুট্টাপাড়া মোড়ে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী জিহাদ হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ করেন।

এ সময় সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য মো: আনোয়ার হোসেন মাস্টার মহাসড়কে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ জিহাদ হত্যায় জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকার আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নেন।

বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয়ার পর আনোয়ার হোসেনসহ সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনজুর কাদের ভূঁইয়া, খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি মো: আবু তাহের দেওয়ান ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার জিহাদ হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ও মহাসড়কের বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখেন। এ সময় আনোয়ার মহাসড়কের কুট্টাপাড়া মোড় থেকে ইসলামাবাদ পর্যন্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে স্থানীয় ভিক্টর ব্যাগ ফ্যাক্টরির মালিককে অনুরোধ করেন।

পরে সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া মোড় থেকে ইসলামাবাদ (গোগদ) পর্যন্ত মহাসড়কের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভিক্টর ব্যাগ ফ্যাক্টরির নিজস্ব অর্থায়নে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এতে মহাসড়কের এ অংশে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশেই কমে আসবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। যেকোনো অপরাধ এখানে সংঘটিত হলে জড়িতদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসাও অনেকটা সহজ হবে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী।

আনোয়ার হোসেন মাস্টার বলেন, ‘ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল কুট্টাপাড়া মোড় থেকে ইসলামাবাদ পর্যন্ত এলাকায় আগে অনেক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু মহাসড়কে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় অপরাধীদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা অনেক সময় সম্ভব হয় না। জনস্বার্থ বিবেচনায় সরাইল থানার ওসি ও হাইওয়ে থানার ওসিকে সাথে নিয়ে স্থানীয় ভিক্টর ব্যাগ ফ্যাক্টরির মালিককে অনুরোধ করা হয় মহাসড়কের এই অংশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য। পরে অনুরোধে সাড়া দিয়ে তারা নিজস্ব অর্থায়নে মহাসড়কের এ অংশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আশা করি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে মহাসড়কের এ অংশে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমে যাবে ও অপরাধের সাথে জড়িতদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

ভিক্টর ব্যাগ ফ্যাক্টরির মালিক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘বিএনপি নেতা আনোয়ারের অনুরোধে মহাসড়কের কুট্টাপাড়া থেকে ইসলামাবাদ পর্যন্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছি। আশা করি এতে অপরাধ প্রবণতা কমে আসার পাশাপাশি এলাকার জনগণ উপকৃত হবেন।’