নড়াইলের তুলারামপুর এলাকায় তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনের ম্যানেজার নাহিদ সরদারকে (৩৩) ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে নিহত নাহিদ সরদারের স্ত্রী আফিয়া বেগম ও মা শিউলি বেগমের হাতে সাত লাখ টাকার চেক তুলে দেয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নড়াইল জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাস, বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাজ্জাদুল করিম কাবুল, সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান রতন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান, খুলনা বিভাগীয় কার্যকরি সভাপতি এম মাহবুব আলম, সাধারণ সম্পাদক মোড়ল আব্দুস সোবহান, খুলনা বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক (ট্যাংকলরি) সুলতান মাহামুদ, সহ-সভাপতি শেখ মুরাদ হোসেন, নির্বাহী সদস্য শেখ আমানত আলী, যশোর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জহির হাসান, সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম, হাসানুজ্জামান হাসান, সাইফুর রহমান হিট্টু, সালমা রহমান কবিতা, কামরুল আলম, নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ লাবলু, সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদসহ নেতৃবৃন্দ।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাজ্জাদুল করিম কাবুলসহ বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ তেল পাম্পগুলোতে সব সময় নিরাপত্তা প্রত্যাশা করেন। পাম্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে রাত-বিরাতে খুব সমস্যা হয়। বিশেষ করে রাতের বেলা বেশি নিরাপত্তা প্রয়োজন। এজন্য জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
বক্তারা আরো বলেন, মর্মান্তিক এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আমরা নাহিদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। তার স্ত্রী ও মায়ের হাতে সাত লাখ টাকার চেক তুলে দিতে পেরে আমরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি। এই টাকা নাহিদের সাড়ে তিন বছরের শিশুকন্যা নামিরাসহ তার পরিবারের উপকারে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
উল্লেখ্য, তেল না পেয়ে নড়াইল-ঢাকা-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়কের তুলারামপুর এলাকার তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনের ম্যানেজার নাহিদ সরদারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যা করেন ট্রাকচালক সুজাত মোল্যা (৪৬)। এ ঘটনায় নাহিদের সঙ্গী জিহাদ মোল্যার (২৭) পা ভেঙে যায়।
গত ২৮ মার্চ রাত ২টার দিকে পাম্পের পাশে মহাসড়কের উপর এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ট্রাকচালক সুজাত মোল্যার বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার পেড়লী গ্রামে। এবং নিহত নাহিদ পেড়লী গ্রামের আকরাম সরদারের ছেলে। এছাড়া আহত জিহাদ মোল্যার বাড়ি চামরুল গ্রামে।
এ ঘটনায় ট্রাকচালক সুজাত মোল্যাকে পরদিন (২৯ মার্চ) বিকেলে যশোরের বাঘারপাড়া থেকে গ্রেফতার করে র্যাব। এছাড়া যশোরের বেনাপোল থেকে ট্রাকটি জব্দ করে পুলিশ। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন আছে। সুজাত মোল্যা কারাগারে আছেন।



