কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: মহসিন ভূঁইয়াকে ( ৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার বেতাল বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মহসিন উপজেলার মসুয়া ইউনিয়নের রামদি গ্রামের আব্দুল শহিদ ভূঁইয়ার ছেলে।
গ্রেফতার ছাত্রলীগের এ নেতাকে কটিয়াদী থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে মসূয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস রতন জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মহসিনের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে জানা যায়, তিনি চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটির নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও বিডিআর বিদ্রোহ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক সিআইডি পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত আবদুল কাহার আকন্দের একান্ত প্রিয়ভাজন ছিলেন। তার ছোট ভাই কটিয়াদী উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলার চালিয়ে ছিলেন তারা। গত বছর ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে কিছুদিন আত্মগোপনে থেকে আবারো জনসমক্ষে এসে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর থেকে বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত তাকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য মসূয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা থানায় তদবির করেন।
আটকের পর ছাত্রলীগ নেতা মহসিন ভূঁইয়া জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিবির করতাম, এখন আমি মসূয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস রতন ভাইয়ের সাথে কাজ করি। রতন ভাই ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবে এই জন্য বিএনপির কিছু লোক আমাকে ধরিয়ে দিয়েছে। আমি যেন রতন ভাইয়ের নির্বাচনী কাজ না করতে পারি।
মসূয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস রতন জানান, আমি একটি কাজে থানায় গিয়েছিলাম, ছাত্রলীগ নেতা মহসিনকে ছাড়ানোর জন্য কোনো তদবির করিনি।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কটিয়াদী থেকে চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটির নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও হত্যা মামলার আসামি মো: মহসিনকে আটক করা হয়েছে। হামলা, ভাঙচুর ও নাশকতার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।



