০৬ এপ্রিল ২০২০
ফ লো আ প

পুতুল হত্যা মামলা

-

নয়া দিগন্তের নারী পাতায় গত ২৭ জানুয়ারি ‘সন্তান হত্যার বিচার চান মা’ শিরোনামে পঞ্চগড়ের পুতুল হত্যার খবর প্রকাশিত হয়। খবরটি প্রকাশিত হওয়ায় খুন হওয়া লক্ষ্মী রানী পুতুলের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের করুণ কাহিনী বেরিয়ে আসছে। পুতুল নিজ হাতে নিয়মিত সকালে ভাত রান্না করলেও গরম ভাত খেয়ে স্কুলে যেতে পারত না। সৎ মা চায়না রানী পান্তা খেয়ে স্কুলে যেতে বাধ্য করত পুতুলকে। নিকটতম প্রতিবেশীসহ স্কুলের প্রধান শিক্ষক এমন মতামত দিয়েছেন। অপর দিকে লক্ষ্মী রানী পুতুলের বিয়ের দিন তারিখ ঠিক হয়েছিল কিন্তু কৌশলে সৎ মা চায়না রানী তার নিজের মেয়ে পূজার সাথে ওই পাত্রের বিয়ে দেয়। বিভিন্ন সময় অন্যের বাড়িতে কাজ করা টাকাও নিয়ে নিত সৎ মা চায়না। সামাজিকভাবে সাকালু-চায়নার কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ইউপি সদস্য হকিকুল ইসলাম ও আবদুল কুদ্দুস জানান, সাকালু চায়নাকে গ্রেফতারের জন্য পলাতকের তথ্য দিতে পারবে নূর ফল। বর্তমানে সাকালু-চায়না পলাতক রয়েছে। সাকালুর আপন ভাই এন্ডু, মহেন, দিলীপকে জিজ্ঞেস করলেই আত্মগোপনের রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব বলে এলাকাবাসী মনে করে। অবশ্য নূর ফল সাকালুর
তথ্য জানেন না বলে জানান।
উল্লেখ্য দশম শ্রেণীর ছাত্রী লক্ষ্মী রানী পুতুলকে গলাটিপে হত্যার অভিযোগে (২৩ জানুয়ারি) পঞ্চগড় আমলি আদালত-৫, আটোয়ারি, পঞ্চগড়ে মা শান্তি বালা (থুইনী) বাদি হয়ে সৎমা চায়না রানী ও সাবেক স্বামী হৃদয় শর্মা সাকালুর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আদালত মামলা গ্রহণ করে আটোয়ারি ওসি মামলা রেকর্ড করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে, আটোয়ারি উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের নাপিতপাড়া গ্রামে।
সমাজসেবক মোজাম্মেল হক প্রধান বলেন, সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কারণ অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে চায় না। এটাই আমাদের দেশ ও জাতির শিষ্টাচারে পরিণত হয়েছে। লক্ষ্মী রানী পুতুলের বিচারের জন্য সঠিক নির্দেশনা কেউ দেয়নি। সেখানে একজন সাংবাদিক নিজের উদ্যোগে যেভাবে এগিয়ে এসেছেন তা বলরামপুরের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। যার সাহসী ব্যক্তিত্ব রয়েছে, যিনি স্রোতের বিপরীতে দাঁড়াতে পারেন এবং অপরের দুঃখকে নিজে কাঁধে নিয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে পারেন তিনিই সাংবাদিক। নয়া দিগন্তকেও ধন্যবাদ জানাই।


আরো সংবাদ