০৫ এপ্রিল ২০২০

কাজের ক্ষেত্রে মনোযোগী হলে সফলতা আসে : নায়লা হাসান

ভিন দেশ
-

নায়লা হাসান। তিনি এখন প্রথম উচ্চপদস্থ মুসলিম পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচিত। নায়লা হাসান নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড পুলিশ বিভাগের একজন সফল সুপারিনটেনডেন্ট। পুলিশে যোগ দিয়ে নায়লা পুলিশিং ইনভেস্টিগেশন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন সিডনির চার্লস স্টার্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ল ডিগ্রি অর্জন করেন অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আর মাস্টার্স সম্পন্ন করেন ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ বিষয়ে। পুলিশ হিসেবে কাজ করেছেন ইনভেস্টিগেশন বিভাগ, প্রসিকিউটর, ডিস্ট্রিক্ট প্রসিকিউটর ম্যানেজার, এরিয়া প্রিভেনশন ম্যানেজার ও ডিস্ট্রিক্ট কমান্ডারের। আর সর্বশেষ কর্মরত আছেন অকল্যান্ডের সুপরিনটেনডেন্ট হিসেবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তিনি বিভিন্ন কাজের ধারাবাহিকতার মধ্যে থেকে জীবনে আরো বহুদূর এগিয়ে যাবেন বলেই মনে হচ্ছে।
পর্বতে আরোহণ, খেলাধুলা, ফ্রি ড্রাইভিং, মাছ শিকারসহ বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চারমূলক কাজের সাথেও যুক্ত আছেন তিনি। হিমালয়ের পর্বত শাখা মেরাপিক পর্বতের প্রায় ছয় হাজার ৫০০ কিলোমিটার ভয়ঙ্কর পথ পাড়ি জমিয়ে সবাইকে অবাক করিয়ে দেন। পাশাপাশি জাতীয় ববসলাইয়ের (খেলাবিষয়ক) সদস্য তিনি। বিভিন্ন খেলায় অংশ নিয়েছেন অলিম্পিকের হয়ে।
নায়লা হাসান মনে করেন, আমার মতো করে যাদের জীবন গড়া তারা রীতিমতো বৈচিত্র্যময় জীবনের অধিকারী। তিনি আরো বলেন, ব্যক্তিজীবনে অতীতে ধর্মীয় অনুশাসনগুলোর সবই তেমনভাবে পালন করতে পারিনি। তবে এসব মেনে চলার চেষ্টা করি সাম্প্রতিক সময়ে। পেশাগত জীবনে ব্যাপক সময় দিয়েও নিজের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে কাউকে তেমন কিছু জানাননি দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর। পরবর্তীতে সহকর্মীসহ অন্যরা তা জানতে পেরে রীতিমতো অবাক হন। অর্থাৎ একপর্যায়ে নায়লা হাসান নিজেই মুসলিম হওয়ার বিষয়টি জানালে বিস্ময়াভিভূত হয়ে যান সবাই।
গত পবিত্র হজে প্রায় ৭৩টি দেশের ছয় হাজারেরও বেশি লোকের হজের ব্যবস্থা করা হয় সৌদি আরবের কিং সালমান বিন আবদুল আজিজের রাজকীয় অতিথি হিসেবে। এতে হজের ব্যবস্থা করা হয় নিউজিল্যান্ডের হামলায় নিহতদের নিকটাত্মীয়দের থেকে প্রায় ২০০ লোকের। যাদের মধ্যে ছিলেন নায়লা হাসানও। হজ পালন সম্পর্কে খুশি হয়ে নায়লা হাসান বলেন, এটিই আমার প্রথমবারের হজ পালন। এ জন্য রীতিমতো সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে নিজেকে। যাদের প্রচেষ্টায় আমার এ হজ পালন, তাদের প্রতি আমি চির কৃতজ্ঞ।
এক সাক্ষাৎকারে নায়লা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, একজন মুসলিম হিসেবে অন্যদের মতো আমারও স্বপ্ন ছিল পবিত্র কাবা দেখার। আমার এ-সংক্রান্ত বড় একটি ইচ্ছা পূরণ হলো। ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ জুমার নামাজ চলাকালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের আল নূর মসজিদ ও লিনউড ইসলামিক সেন্টারে মুসল্লিদের ওপর বর্বরোচিত আক্রমণ চলে। এতে নিহত হন প্রায় ৫১ জন। আহত হন প্রায় ৫০ জন। এই হামলার পরদিন নায়লা হাসান নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানান আবেগপূর্ণ ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায়। তার ভাষণটি রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এভাবেই তিনি বিশ্বের দরবারে পরিচিত বা চেনামুখ হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, আমি এখন এমন একটি পেশার সাথে জড়িত আছি, যা আমার জন্য সব ক্ষেত্রে অনেক বেশি সহায়ক। সন্ত্রাসী হামলার শিকার লোকদের নজরদারি করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙেও পড়েন নায়লা হাসান। যা হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি করেছে।
নায়লা হাসান কাজ করেছেন শিশুদের কাউন্সেলর হিসেবে। ক্লিনিক্যাল হস্তক্ষেপ সরবরাহ করেছেন মুক্ত ও সহিংসতার শিকার হওয়া ছয় বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য। তিনি এর আগে কাজ করেছেন ১৮ মাস থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের সাথে, মন্টেসরি শিক্ষা প্রোগ্রামে। পড়াশোনা করেন সাইকোথেরাপি নিয়েও। তিনি মনে করেন, শিশুদের শরীর স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য প্রভৃতি ভালো না হলে তারা দেশের জন্য সম্পদ তো নয় বরং বোঝা হয়েছে থেকে যাবে, যা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।
শিশুকাল থেকেই নায়লা হাসানের হৃদয়ে জীবনের ক্যারিয়ার গড়ার বিষয়টি বেশ নাড়া দিত। তবে যে বয়সে তিনি স্কুল ছাড়েন সেই বয়সটা ভালো কিছু করার ক্ষেত্রে খুবই অল্প বয়স। নায়লা হাসান প্রথম যখন নিউজিল্যান্ড পুলিশে যোগদান করেন, তখন অতি দ্রুতই আলাদা বা বিশেষ ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে পারছিলেন না। যেহেতু তার বিভাগের একমাত্র মহিলা ছিলেন নায়লা হাসান। তার দ্বারা সংগঠনের মধ্যে বৈচিত্র্য আনতেও কিছুটা সময় লাগে। তিনি ছিলেন যুব সম্প্রদায়ের একজন সফল পরিচালকও। তিনি সব সময় চিন্তা করেন, নিজ কর্মীদের নিয়ে কিভাবে ফ্রন্টলাইনে বা সামনের কাতারে থেকে কাজ করা যায় এবং কিভাবে আরো নিবিড়ভাবে কাজ করে যাওয়া যায়। তিনি নিউজিল্যান্ড পুলিশ সম্বন্ধে বলেন, এ দেশের পুলিশের ঠিকই কিছু মানবিক দিক রয়েছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুলিশে যোগদানের সময় বেশ কঠোর বাধার মুখোমুখি হন অভিবাসীরা। গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টির ওপর গুরুত্ব ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নায়লা বলেন, কাজের ক্ষেত্রে হৃদয় ও মন থাকলে এবং এ-সংক্রান্ত কোনো সীমা না থাকলে সফলতা অবশ্যই আসে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নায়লা হাসান সময়ের এক সাহসী নায়ক, যার জীবন ভরপুর নানা বিস্ময় ও বৈচিত্র্যে। তার বাবা ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম। মায়ের নাম জোসেফিন। বাবা-মার মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয় ইংল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। নায়লা হাসানের জন্ম নিউজিল্যান্ডে ১৯৬৮ সালের ৯ আগস্ট। তার দুই যমজ বোনের নাম সামিনা ও রুকসানা। তাদের নিয়েই বেড়ে ওঠা নায়লা হাসানের। একসময় তাদের বাবার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বিশ্ববিখ্যাত বক্সার মোহাম্মদ আলীর সাথে। ফলে উভয় পরিবারের মধ্যে ভালো যাতায়াত ছিল। ওই সময় বেশ সুন্দর কাটত তাদের জীবন। নর্থ শোর, রডনে অ্যান্ড ওয়েস্ট অকল্যান্ড পুলিশের একজন সফল কর্মকর্তা নায়লা হাসান।
তাদের মধ্যে বেশ ভালো পারস্পরিক যোগাযোগ ছিল ইংল্যান্ডে। কিন্তু নিউজিল্যান্ডে স্থায়ীভাবে চলে আসার পর নায়লা হাসান মুসলিম হিসেবে হয়ে পড়েন সংখ্যালঘু। নানারকম প্রতিকূল অবস্থায়ও পড়তে হয় তাকে। সবই তিনি সামাল দেন ধৈর্য ও বুদ্ধির সাথে।


আরো সংবাদ

আত্মহত্যার আগে মায়ের কাছে স্কুলছাত্রীর আবেগঘন চিঠি (১৩৫৩০)সিসিকের খাদ্য ফান্ডে খালেদা জিয়ার অনুদান (১২৬০৬)করোনা নিয়ে উদ্বিগ্ন খালেদা জিয়া, শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল (৯৩১৫)ভারতে তাবলিগিদের 'মানবতার শত্রু ' অভিহিত করে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ (৮৪৯০)করোনায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল ইতালির একটি পরিবার (৭৮৬৪)করোনার মধ্যেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আরেক যুদ্ধ (৭১৪০)করোনায় আটকে গেছে সাড়ে চার লাখ শিক্ষকের বেতন (৬৯৩১)ইসরাইলে গোঁড়া ইহুদির শহরে সবচেয়ে বেশি করোনার সংক্রমণ (৬৮৯০)ঢাকায় টিভি সাংবাদিক আক্রান্ত, একই চ্যানেলের ৪৭ জন কোয়ারান্টাইনে (৬৭৬১)করোনাভাইরাস ভয় : ইতালিতে প্রেমিকাকে হত্যা করল প্রেমিক (৬২৯৬)