০২ জুন ২০২০

২০২০ এবং নারী

-


যতটা সময় পেরিয়ে এসেছি আর যতটা বদল দেখেছি তা কম নয়।
সেই নারী যে ঘরের কোণে বন্দী থেকে স্বপ্ন দেখত মুক্তির। অনেকটা দুঃস্বপ্ন মনে করা হতো তখনকার সমাজে আজ সে সফল হয়েছে গণ্ডি পেরোতে। বর্তমান সময়জুড়ে নারীর অগ্রগতি আর ছুটে চলার গল্পই চোখে পড়ে।
দেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠান আজ নারীর দ্বারা পরিচালিত। এমনকি পুরো দেশটাও নারী শাসকের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। কোথাও থেমে নেই।
তারপরও অবাক লাগে, যখন সম-অধিকার বলে চিৎকার করতে হয়। এখনো গলা ফাটিয়ে অধিকার দাবিতে আন্দোলন করতে হয়। আরো বেশি হোঁচট খাই যখন বাস্তবতা সামনে আসে।
এতটুকুও বদলায়নি ধর্ষণ চিত্র। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের নারী ধর্ষণের গল্প ফুরায়নি এতটুকুও।
এই ২০২০ সালে এসেও বুক ফুলিয়ে বলতে পারছি না, আমরা ইভটিজিং থেকে বেরিয়ে এসেছি। অতি আধুনিক যুগে এসেছি হয়তো লেখায় আর গল্পে বাস্তব একটুও বদলায়নি।
প্রতিটি সংসারে সুখ আসে নারীর চরম সহনশীলতার গুণে। চোখ-মুখবুজে সয়ে নিতে হয় নিত্য অত্যাচার। মেয়েটা যদি প্রতিবাদ করে সংসার টিকবে না। কার্যত এখন অধিক ডিভোর্সের মূল কারণও নারীর সচেতনতা। নিতান্ত রহিমা বিবি থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষিত রাইসা পর্যন্ত শুধু একই শিক্ষা চোখে পড়ে... সয়ে নাও। মেয়েদের সয়ে নিতে হয়।
কতগুলো বখাটে ছেলের ছিটি সয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার নিয়মটাও বদল হয়নি, ধর্ষিত মেয়েটার মান-সম্মান নষ্ট হওয়ার ভয়ে চুপসে যাওয়ার ইতিহাস বদলায়নি।
এখানে বদল হয়তো আমার জীবদ্দশায় পাবো না। তারপরও স্বপ্ন দেখি এমন একদিন আসবে, যখন বলা হবে দুইজনকেই সয়ে নিতে হয়, না হলে সংসার টিকে না।
হয়তো ইভটিজিং শব্দটা উঠে যাবে অভিধান থেকে।
আরেকটু উন্মুক্ত মানসিকতা এসে বন্ধ করবে ধর্ষণ।


আরো সংবাদ