২৬ মে ২০২০
আমিও বলতে চাই

মেয়েটি শিক্ষার আলো চেয়েছে

-

ব্যাগভরা বই নিয়ে একুশের গ্রন্থমেলা থেকে বাসায় আসতে আসতে সন্ধ্যা ৭টা বেজে গেল। সিলিংফ্যানের গতি বাড়িয়ে দিয়ে ড্রয়িংরুমের সোফায় বসার কিছুক্ষণ পর তাসলিমা এলো চা নিয়ে। মেলা থেকে আমি কী কী বই কিনেছি, তাসলিমা সেটা জানতে চাইছে।
তাসলিমা আমাদের বাসায় কাজ করে ছয় মাস ধরে। বয়স সতেরো কী আঠারো। আমাদের বাসায় আসার প্রথম দিন থেকে লক্ষ করেছি, তাসলিমা আমার বুকশেলফের বইগুলোর দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তাকায়। প্রায়ই বই নিয়ে নাড়াচাড়াও করতে দেখি। আম্মার কাছে শুনেছি আমি বাসায় না তাকলে নাকি তাসলিমা অবসরে আমার বুকশেলফ থেকে বই বের করে পড়ে। যদিও আমি তাকে বই পড়ায় পুরো মনোযোগসহকারে কখনো দেখিনি।
তাসলিমার আনা চায়ে চুমুক দিতে দিতে বললাম, ‘তুমি বই ভালোবাসো, না?’ চট করে তার জবাব, ‘অবশ্যই। আমি গ্রামে হুমায়ূন আহমেদের বই পড়তাম।’ হেসে প্রশ্ন করি, ‘পড়ালেখা কতটুকু করেছ?’ মুখ বেজার করে তাসলিমার জবাব, ‘মাত্র সিক্স পাস’। আবার প্রশ্ন করলাম, ‘এত কম কেন?’ সে নিরস কণ্ঠে বলল, ‘বাপ-ভাইয়েরা চাননি আমি লেখাপড়া করি। তাদের ধারণা মেয়ে মানুষ পড়ে লাভ কী! বিয়ের পর তারা স্বামীর ঘরে পাতিলের তলা ঘষবে। অথচ আমার পড়ার খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু পারিনি।’
এসব স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাসলিমার চোখ ছলছল করে উঠল। আমি বুঝতে পেরেছি মেয়েটি শিক্ষার পর্যাপ্ত আলো চেয়েছে। কিন্তু তার অভিভাবক মহল থেকে বাধা ছিল।
তাসলিমার মতো আমাদের সমাজে অনেক মেয়ে আছে, যারা শিক্ষিত হওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেও একশ্রেণীর অভিভাবকের কাছ থেকে সাপোর্ট পায় না। মেয়ে মানুষ পড়ালেখা করে লাভ নেই, এই ভ্রান্ত ধারণা কবে যে তাদের চিন্তচেতনা থেকে দূর হবে! হয়তো তারা কখনোই বুঝবে না যে একজন শিক্ষিত মায়ের কারণেই তার সন্তানেরা শিক্ষিত হয়, আর শিক্ষিত সন্তানদের দিয়েই পুরো দেশ শিক্ষিত হয়।
জোবায়ের রাজু
আমিশাপাড়া, নোয়াখালী


আরো সংবাদ





maltepe evden eve nakliyat knight online indir hatay web tasarım ko cuce Friv gebze evden eve nakliyat buy Instagram likes www.catunited.com buy Instagram likes cheap Adiyaman tutunu