০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

ফ্লয়েডের মতো বিচার পাবেন কি আহমদও

আদালতের বাইরে বিচারের দাবিতে ধর্না। সোমবার জর্জিয়ায় - ছবি : সংগৃহীত

শান্তি বজায় রাখুন। আহমদ আরবারি হত্যা মামলা শুরু হওয়ার দিনে জর্জিয়ার কৃষ্ণাঙ্গ-অধ্যুষিত এই শহরে এটাই বার্তা প্রশাসনের। শহরবাসীকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মামলা দেখতে আসা অন্যদেরও।

গত বছর ২৩ ফেব্রুয়ারি কৃষ্ণাঙ্গ যুবক, ২৫ বছর বয়সী আহমদ আরবারিকে গুলি করে খুন করেন তিন শ্বেতাঙ্গ। আহমদ তখন জগিং করছিলেন। অভিযুক্তদের প্রথমে গ্রেফতার করেনি স্থানীয় পুলিশ। কিন্তু এই ঘটনার আড়াই মাস পরে আরবারিকে গুলি করার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ায় নড়েচড়ে বসে তারা। ৭ মে গ্রেফতার করা হয় তিন অভিযুক্ত- ৬৪ বছর বয়সী গ্রেগরি ম্যাকমাইকেল, তার ৩৪ বছরের ছেলে ট্র্যাভিস এবং তাঁদের প্রতিবেশী, ৫০ বছর বয়সি উইলিয়াম ব্রায়ানকে। তিনজনের বিরুদ্ধেই খুনের মামলা রুজু করা হয়। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ড হতে পারে। সোমবার মামলার জুরি নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলে শুনানি-পর্ব শুরু হবে।

কেন খুন করা হয়েছিল আহমদকে? অন্যতম অভিযুক্ত, প্রাক্তন পুলিশ গ্রেগরি ম্যাকমাইকেল প্রথমে দাবি করেছিলেন, সে সময়ে তাদের এলাকায় চুরির ঘটনা খুব বেড়ে গিয়েছিল। বিভিন্ন বাড়ি থেকে পাওয়া সিকিওরিটি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দুষ্কৃতিকারীর যে চেহারা স্থানীয়েরা দেখেছিলেন, আহমদকে নাকি সে রকমই দেখতে। জর্জিয়ার তৎকালীন আইন অনুযায়ী, যেকোনো সাধারণ মানুষ এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে পুলিশের হাতে তুলে দিতে পারে। ম্যাকমাইকেলরা আরবারিকে গ্রেফতারই করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আরবারি তাদের বাধা দেন, এমনকি তাদের কিল-চড়ও মারেন। গ্রেগরির কাছে বন্দুক ছিল। ‘আত্মরক্ষা’র জন্যই তিনি গুলি ছোড়েন।

এপ্রিলে আহমদকে গুলির ভিডিওটি প্রকাশ্যে এলে দেখা যায়, গ্রেগরির দাবি ঠিক নয়। ভিডিয়োটি তুলেছিলেন অন্যতম অভিযুক্ত উইলিয়াম ব্রায়ান। ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, ফুটপাত ধরে জগিং করছেন আহমদ, আর গাড়িতে চেপে তাকে অনুসরণ করছেন বাবা-ছেলে গ্রেগরি ও ট্র্যাভিস। একটু দূরে, আর একটি গাড়িতে, রয়েছেন ব্রায়ান। ভিডিওটি তিনিই তুলছেন। অনুসরণ করতে করতে আহমদকে কটূক্তি করে যাচ্ছিলেন গ্রেগরিরা। কিছুক্ষণ এ রকম চলার পরে গাড়ি থেকে নামেন তিনজন। আহমদকে ঘিরে ধরেন তারা। চারজনের মধ্যে প্রবল কথা কাটাকাটি হতে থাকে। আহমদকে ধাক্কা মারেন গ্রেগরি। তাকে পাল্টা মারার চেষ্টা করে আহমদ। তার পরে গ্রেগরি বন্দুক বার করে পর পর তিনবার আহমদকে গুলি করেন। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন কৃষ্ণাঙ্গ যুবকটি। তখন গাড়িতে উঠে চলে যান বাকি তিনজন।

কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ এসে আহমদকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তে জানা যায়, খুব কাছ থেকে করা দু’টি গুলি আহমদের হৃদ্‌যন্ত্র এ-ফোঁড় ও-ফোঁড় করে দিয়েছিল। আর একটি গুলি লেগেছিল তার হাতে। ঘটনার সময়ে আহমদ কোনো রকম নেশা করেননি, এ কথাও জানা যায় ময়নাতদন্তে।

আহমদ-হত্যার ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার পরে অভিযুক্তদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না, এই অভিযোগে উত্তাল হয়েছিল ব্রুন্সউইক। পরিস্থিতি সামলাতে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরিস্থিতি আরো পাল্টে যায় ২৫ মে-র পরে। মিনিয়াপোলিসে শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাঁটুর চাপে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান আর এক কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড। নির্বিচারে কৃষ্ণাঙ্গ-হত্যার প্রতিবাদে মুখর হয় গোটা দেশ। সেই আন্দোলনের আঁচ লাগে আহমদ-মামলাতেও। শুধু তাই নয়, এ বছর মে মাসে জর্জিয়ার ‘অ-পুলিশি গ্রেফতার’ আইনটিও বাতিল করে দেয়া হয়। এই আইন দর্শিয়েই আহমদকে গুলি করেছিলেন ম্যাকমাইকেল। এ বছর আহমদের মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন টুইট করেছিলেন, ‘একজন কৃষ্ণাঙ্গ প্রাণের ভয় না করে জগিং করতে পারবেন, এটাই তো কাম্য!’

আহমদের বাবা, ৫৮ বছর বয়সী মার্কাস আরবারির কথায়, ‘আমার ছেলেকে মারার একটাই কারণ ছিল- সে কৃষ্ণাঙ্গ!’ সোমবার সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, শুনানির প্রত্যেক দিন আদালতে হাজির থাকবেন। মার্কাস বলেন, ‘ধর্মের অনুশাসন আমাকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দিচ্ছে না। কিন্তু আমার ভিতরে প্রচণ্ড রাগ জমা হয়েছে। আশা করব, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।’

এই মামলা ঘিরে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। আমেরিকার অন্যান্য শহর থেকে মানবাধিকার ও কৃষ্ণাঙ্গ-অধিকার কর্মীরা ভিড় জমিয়েছেন ব্রুন্সউইকে। রয়েছেন অসংখ্য সাংবাদিকও। মামলা-ঘিরে এই উত্তেজনাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন স্থানীয়েরা। এমনই একজন, থিয়া ব্রুকসের কথায়, ‘এরা তো মামলা শেষ হলে শহর ছেড়ে চলে যাবেন। কিন্তু কালো বা সাদা, আমাদের গায়ের রং যা-ই হোক না কেন, আমাদের এখানেই সবাই মিলে থাকতে হবে। তাই সকলের কাছে আর্জি জানাচ্ছি, আপনারা শান্তি বজায় রাখুন।’
সূত্র : আনন্দবাজার



আরো সংবাদ


ক্যারিবিয়ান সিরিজেও পাকিস্তান দলের হেড কোচ সাকলাইন মুশতাক কুসিক কাউন্সিলর সোহেল হত্যা মামলার প্রধান আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ওমিক্রন আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান সৌদি আরবে চুয়াডাঙ্গায় পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর ওপর হামলা ল্যান্ডিং গিয়ারে ত্রুটি, চট্টগ্রামে বিমানের জরুরি অবতরণ এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু আজ বোমা মেলেনি, মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি নিরাপদ ঘোষণা মালয়েশিয়া থেকে আসা বিমানে বোমাতঙ্ক শাহজালালে সতর্কতা দেড় বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে রেমিট্যান্স প্রবাহ : নভেম্বরে কমলো ২৫.২৬ শতাংশ ২০২২ সালের শিক্ষাপঞ্জিতে ৮৫ দিনের ছুটি প্রস্তাব সরকার পরিবহন মালিকদের সাথে আঁতাত করে ভাড়া বাড়িয়েছে : জিএম কাদের

সকল

রিসোর্টে নিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করলেন টিকটকার (১০৫৯৯)ভয়াবহ বিস্ফোরণে কাঁপল বাড়ি, ছিন্নভিন্ন ৩ জনের দেহ (৭৫৯০)তুরস্কের অর্থনৈতিক সঙ্কট, বাংলাদেশে শঙ্কা (৭৫৫৯)'কোনো রকমের পূর্বশর্ত ছাড়াই এনপিটিতে যুক্ত হতে হবে ইসরাইলকে' (৭৫১৭)ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’, চলতি সপ্তাহেই ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস (৬৪৪৪)সামরিক হামলার ভীতিই ইরানকে পারমাণবিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখবে : ইসরাইল (৫৮৮৩)দেশ ছেড়ে পালাতে চেয়েছিলেন কাটাখালীর মেয়র আব্বাস (৫৩৮২)টানা ৬ষ্ঠবারের মতো নির্বাচিত চেয়ারম্যান ফজু (৫০৩৭)হাইকোর্টের দ্বারস্থ সেই তুহিনারা, হিজাব পরায় বসতে পারবে না এসআই পরীক্ষায়ও! (৪৫৪০)করোনা শেষ ওমিক্রনেই ! (৩৬০৯)