২০ এপ্রিল ২০২১
`

খাশোগি হত্যায় এমবিএসের ওপর নিষেধাজ্ঞা না দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাখ্যা

সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস - ছবি : আলজাজিরা/রয়টার্স

নির্বাসিত সৌদি সাংবাদিক ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্টের নিবন্ধক জামাল খাশোগিকে হত্যায় এমবিএস নামে পরিচিত সৌদি আরবের ডি ফ্যাক্টো শাসক ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস এক সংবাদ সম্মেলনে বাইডেন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন।

নেড প্রাইস বলেন, ‘আমরা মার্কিন-সৌদি সম্পর্ককে সঠিক পথে নিয়ে আসতে কাজ করছি।’

বাইডেন প্রশাসন সৌদি আরবের সাথে ‘সম্পর্কচ্ছেদ’ নয় বরং ‘সম্পর্কের পুনর্বিন্যাস’ চায় বলে জানান প্রাইস।

তিনি বলেন, যদি বাইডেন প্রশাসন মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ফেলে ‘আরো কঠোর ও নাটকীয়’ পদক্ষেপ নেয়, তবে ওয়াশিংটন রিয়াদের ওপর প্রভাব হারাবে।

প্রাইস বলেন, ‘এই অঞ্চলের রিয়াদের সিদ্ধান্তের বিপুলভাবে প্রয়োগ ঘটে।’

তিনি বলেন, বাইডেন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই রিয়াদ ‘সঠিক লক্ষ্যে পা ফেলছে’। এই প্রসঙ্গে তিনি সৌদি নেতৃত্বের জোটের কাতার অবরোধের অবসান ও সৌদি নারী অধিকার কর্মী লুজাইন আল-হাযলুলসহ আরো দুই সৌদি-মার্কিন নাগরিকের কারাগার থেকে মুক্তির কথা উল্লেখ করেন।

এদিকে মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ইতোমধ্যেই বাইডেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

জামাল খাশোগির নিবন্ধ প্রকাশ করা পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টের প্রকাশক ফ্রেড রাইন প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভাঙার অভিযোগ করে বলেছেন, ‘বাইডেন প্রশাসনের অধীনে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পকালীন কৌশলগত গুরুত্ব পাওয়া স্বৈরশাসককে বাধাহীন হত্যার এক অনুমোদন দেয়া হলো।’

এর আগে শুক্রবার জামাল খাশোগির হত্যায় যুক্তরাষ্ট্রের ডাইরেক্টর অব ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্সের দফতর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তা নিয়ে প্রস্তুত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অনুমোদনেই তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে জামাল খাশোগিকে বন্দী বা হত্যার অভিযান চালানো হয়।

প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটিতে ভ্রমণে ৭৬ সৌদি নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। পাশাপাশি সৌদি যুবরাজের ঘনিষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও দেশটির গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক উপ-প্রধান মেজর জেনারেল আহমদ আল-আসিরি ও সৌদি রয়্যাল গার্ডের বিশেষ ‘ফিরকাত আল-নিমর’ বা ‘টাইগার স্কোয়াডের’ ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেয় মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।

সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ থাকা জামাল খাশোগি সৌদি আরবের ডি ফ্যাক্টো শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও তার নীতির কড়া সমালোচক ছিলেন। যুবরাজের সমালোচনার জেরে তিনি দেশ ছেড়ে নির্বাসনে ছিলেন।

তুর্কি নাগরিক ও গবেষক খাদিজা চেঙ্গিসকে বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করতে গেলে ওয়াশিংটন পোস্টের এই নিবন্ধককে ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে হত্যা করে লাশ টুকরা টুকরা করা হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রথমে হত্যাকাণ্ডের বিষয় অস্বীকার করলেও পরে তারা জানায়, কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় দুর্ঘটনাক্রমে এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। ওই সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে বিচারের আওতায় আনা হয়।

সূত্র : আলজাজিরা



আরো সংবাদ