০২ ডিসেম্বর ২০২০

ডিজিটাল বিজ্ঞাপন যুদ্ধে যুযুধান ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান শিবির

ডিজিটাল বিজ্ঞাপন যুদ্ধে যুযুধান ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান শিবির - ছবি : সংগৃহীত

প্রথম ফ্রেম : তিনটি লাশ। সাদা কাপড়ে ঢাকা। দ্বিতীয় ফ্রেম : কাপড় ঢাকা দেহের সংখ্যা বেড়ে ২১। তৃতীয় ফ্রেম : সারি সারি লাশ। যা ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা। স্ক্রিনে ফুটে উঠল কয়েকটি শব্দ— মৃত এক লাখ আমেরিকান।

করোনা মহামারীর আবহে এই বিজ্ঞাপনটি বাজারে ছেড়েছে লিঙ্কন প্রজেক্ট। ট্রাম্পবিরোধী বলে পরিচিত এই গোষ্ঠীর লক্ষ্য একটাই—দ্বিতীয়বার যেন হোয়াইট হাউসে পা না পড়ে রিপাবলিকান প্রার্থীর। কোভিড মহামারী রুখতে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট কতটা ব্যর্থ, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চলছে জোরকদমে। ট্রাম্পের ধাঁচেই। ২০১৬ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায় টুকরো টুকরো হিংসার ছবি নিয়ে ভিডিও পোস্ট করেছিল রিপাবলিকান শিবির। সঙ্গে বার্তা—আমেরিকাকে ধ্বংস হতে দেবেন না। ভোটারদের মনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল বিজ্ঞাপনগুলি। যার ফল দেখা যায় ভোটবাক্সে।

ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের প্রভাব কতটা— এই ঘটনাগুলো থেকেই স্পষ্ট। মন্তব্য এক মার্কিন পত্রিকার সম্পাদক জোয়ানা উইসের। ফরেন প্রেস সেন্টারস আয়োজিত ভার্চুয়াল রিপোর্টিং ট্যুরের ওয়েবিনারে আলোচনার সময় তিনি বলেন, ‘করোনা আবহে প্রচার চালাতে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের কোনো বিকল্প নেই। টিভি-কাগজের তুলনায় এখন সোশ্যাল মিডিয়ার গুরুত্ব অনেকটাই বেশি। সেকথা মাথায় রেখে ফেসবুক-ট্যুইটার-ইনস্টাগ্রামে কোটি কোটি ডলার খরচে পিছপা হচ্ছে না ট্রাম্প বা বাইডেন কেউই। যার বেশিরভাগ অংশই খরচ হচ্ছে স্যুইং স্টেটগুলোর জন্য। গতবারের মতোই। সেখানে বিভিন্ন বয়সীদের জন্য হরেক বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে। যা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে ভোটারদের পছন্দ অনুযায়ী পৌঁছে যাচ্ছে ভোটারদের মোবাইল-ট্যাবলেটে।’ এবারের নির্বাচনে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের খরচ ৭০০ কোটি ডলার ছাড়াতে পারে বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। তবে নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে থেকে আর কোনো নতুন বিজ্ঞাপন নেয়া হবে না বলে জানিয়েছে ফেসবুক।

বিদায়ী প্রেসিডেন্টের ব্যর্থতা তুলে ধরতে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে কয়েক শ' কোটি ডলার খরচ করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। ট্রাম্প করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর কয়েক দিনের জন্য অবশ্য সেই সমস্ত বিজ্ঞাপন বন্ধ রেখেছিল ডেমোক্র্যাটরা। তবে বাইডেন আরো বেশি খরচ করছেন আমেরিকার যোগ্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের ইমেজ তুলে ধরতে।

বসে নেই টিম রিপাবলিকানও। ‘কিপ আমেরিকা গ্রেট’ প্রচার চলছে। চীন, অভিবাসনের মতো ইস্যুতেও শানানো হচ্ছে আক্রমণ। পাশাপাশি ট্রাম্প যে নারী ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের পাশে রয়েছেন, তা দেখানোরও জোর চেষ্টা চলছে। জোয়ানা উইসের মতে, মানুষ অত্যন্ত আবেগপ্রবণ। দুই প্রার্থীই তা জানেন। সেই কারণে মুখে পজিটিভ বার্তা দেয়ার কথা বললেও মানুষের ভয়, আতঙ্ককে ব্যবহার করা হচ্ছে। ডিজিটাল বিজ্ঞাপন-যুদ্ধের মধ্যেই ভুয়া খবর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। ভুয়া খবর রুখতে কড়া নজরদারির বার্তা দিয়েছে গুগল। একই কথা জানিয়েছেন ফেসবুক কর্তা মার্ক জাকারবার্গও।

সূত্র : বর্তমান

 


আরো সংবাদ