২৭ জানুয়ারি ২০২১
`

‘শত্রুর’ ভূমিকায় নেমে কার উপকার করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প?

ডব্লিউএইচওতে পুরো অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। - ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হঠকারী বক্তব্য বা একপেশে সিদ্ধান্তের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। এর আগে জলবায়ু পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা অগ্রাহ্য করে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, পরমাণু চুক্তি বাতিল করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বিরোধ বাড়ানোতেও ভূমিকা রেখেছেন। তখন সমালোচনা হয়েছে, এখনো হচ্ছে। কিন্তু ট্রাম্প সমালোচনা থেকে শিক্ষা নিলে তো!

সবচেয়ে বেশি আর্থিক সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেই পায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গতবছর ডব্লিউএইচও’র মোট বাজেটের ১৫ শতাংশ (৪০০ মিলিয়ন ডলার) দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

হঠাৎ পুরো অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প।

ঘোষণাটা এলো এমন সময়ে যখন কিনা বিশ্বের ১৮৫টি দেশে এক লাখ ২৬ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে করোনাভাইরাসে। ডব্লিউএইচও বলছে এখনো সবচেয়ে খারাপ সময়টা আসেনি, আরো সতর্ক না হলে, আরো জোরদার লড়াই না করলে সংক্রমণ ছড়াবে, মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হবে অনেক, ট্রাম্পের ঘোষণা এলো তখন।

এমন নয় যে, ডব্লিউএইচও সব কাজ ঠিক করেছে। গতবছর চীনে প্রথম যখন সংক্রমণ দেখা দেয়, ডব্লিউএইচও সক্রিয় হলে সেই তথ্য সবার জানা হতো, সব দেশ সতর্ক হলে বিপর্যয় এতটা হয়তো হতো না।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন তা স্বীকার করেই ট্রাম্পের অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণার সমালোচনা করেছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্ব ব্যাংক, জাতিসঙ্ঘ, নোবেল কমিটি, ওপেক, ওআইসি, আইএমএফ- বলতে গেলে সবারই কিছু-না-কিছু বড় সমালোচনা আছে। ভালো কাজও আছে সবার। ডব্লিউএইচও’র জন্য এটা ভালো কাজ দেখানোর সময়। এমন সময়ে বাগড়া দিয়ে, ‘শত্রুর’ ভূমিকায় নেমে কার উপকার করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প?

দেশে ট্রাম্প প্রশাসনের একেবারে লেজেগোবরে অবস্থা। শুরুতে করোনা ভাইরাসকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এখন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ২৮ হাজার ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প নিজেও মনে করেন, সংখ্যাটা এক লাখ ছাড়াতে পারে। বেসামাল হয়ে, বড় দেশের ছোট মনের নেতা হয়ে সেই বিপর্যয় এড়াতে পারবেন না ট্রাম্প। দেশে ভোট বাড়তেও পারে, তবে সারা বিশ্বে তার প্রতি শ্রদ্ধা আরো কমবে।

সূত্র : ডয়চে ভেলে



আরো সংবাদ