২০ আগস্ট ২০২২
`

মুসলমান হওয়ায় মন্ত্রিত্ব বাতিল : নুসরাত গনি

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নুসরাত গনি - ছবি : সংগৃহীত

ব্রিটেনের সাবেক পরিবহনমন্ত্রী নুসরাত গনি জানিয়েছেন, ২০২০ সালে ব্রিটিশ মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের সময় মুসলমান হওয়ার কারণেই তাকে বাদ দেয়া হয়েছিলো।

রোববার ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য সানডে টাইমসের সাথে সাক্ষাতকারে এই কথা বলেন দেশটির পার্লামেন্টে রক্ষনশীল কনজারভেটিভ পার্টির দলীয় এই সদস্য।

২০১৮ সালে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে ব্রিটেনের মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নেন নুসরাত গনি। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের অধীন মন্ত্রিসভায় তিনি পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে তিনি দায়িত্ব নেন।

কিন্তু ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের সময় গনিকে বাদ দেয়া হয়।

সানডে টাইমসের সাথে নুসরাত গনি বলেন, তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলে এক সরকারি হুইপ তাকে জানান, মন্ত্রিসভার পুনর্গঠনে মুসলিম হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখেছে। তার মুসলমান হওয়ার কারণে মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা অস্বস্তির মধ্যে পড়ে গিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এটি ছিলো যেনো পেটে লাথি মারার মতো। আমি নিজেকে অপমানিত ও ক্ষমতাহীন হিসেবে অনুভব করছিলাম।’

ব্রিটেনের উইলডেন জেলা থেকে নির্বাচিত এই পার্লামেন্ট সদস্য বলেন, যদি তিনি এই বিষয়ে ‘বাড়াবাড়ি’ করেন তবে তাকে ‘দল থেকে বহিস্কার করা হবে এবং তার ক্যারিয়ার ও সম্মান ধ্বংস হবে।’

এদিকে নুসরাত গনির এই অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে কনজারভেটিভ দলীয় চিফ হুইপ মার্ক স্পেনসার।

এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং আমি একে মানহানিকর হিসেবে বিবেচনা করছি।’

স্পেনসার বলেন, নুসরাত গনিকে তিনি কখনোই বলেননি যে মুসলমান হওয়ার কারণে তাকে মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে ব্রিটিশ শিক্ষামন্ত্রী নাদিম জাহায়ি জানিয়েছেন, এই অভিযোগ তদন্ত করা উচিত।

এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যে ইসলামোফোবিয়া বা অন্য কোনো বর্ণবাদের স্থান নেই। এই অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করা উচিত।

ব্রিটেনের প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা কেয়ার স্টারমার জানিয়েছে, নুসরাত গনির এই অভিযোগ অবিলম্বে তদন্ত হওয়া উচিত।

এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘এমন বস্তু পড়াটাই মর্মান্তিক।’

নুসরাত গনির এই অভিযোগ এমন সময় এলো যখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী করোনা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ডাউনিং স্ট্রিটে পার্টি করার জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ফলে তাকে পদচ্যুত করার চেষ্টারত পার্লামেন্ট সদস্যদের ‘ব্ল্যাকমেইল’ করা হচ্ছে বলে এর আগে অভিযোগ করেন কনজারভেটিভ দলীয় পার্লামেন্ট সদস্য উইলিয়াম র‌্যাগ।

সূত্র : বিবিসি


আরো সংবাদ


premium cement