০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯, ৭ জিলহজ ১৪৪৩
`

‘আমি ফার্স্ট ক্লাস, চাকরি দেবেন’? গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে আবেদন হায়দারের

‘আমি ফার্স্ট ক্লাস, চাকরি দেবেন’? গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে আবেদন হায়দারের - ছবি : সংগৃহীত

এক হাতে ডিগ্রি, মনে আত্মবিশ্বাস। সেই সাথে জীবনে কিছু করে দেখাবার ইচ্ছে। একটা কটি জিনিসই ছিল মিডলসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হায়দার মালিক-এর ঝুলিতে। কিন্তু করোনা অতিমারির কারণে বিশ্ব যেন পিছিয়ে গেছে কয়েক বছর। ফলে মন্দা চাকরির বাজার। তার ভুক্তভোগী যুব সমাজ। শামিল হায়দারের মতো বহু মানুষ।

কিন্তু জীবন তো থেমে থাকার নয়। সে তার আপন গতিতে এগিয়ে যাবে। তাই ভালো একটা চাকরির দরকার ছিল হায়দার মালিকের। এত ভালো ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও মিলছিল না কাজ। কিন্তু হাল ছাড়েননি হায়দার।

গত ২ নভেম্বর লন্ডনের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র ক্যানারি হোয়ার্ফের টিউব স্টেশনের বাইরে ব্যাঙ্কিং ও ফিনান্সের ফার্স্ট ক্লাস ডিগ্রি হাতে নিয়ে গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন তিনি। সেই প্ল্যাকার্ডে সাঁটালেন বায়োডেটার কিউআর কোড। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘প্রথম শ্রেণির ডিগ্রি আছে আমার, চাকরি দেবেন’। প্রথমে কিছু ইতস্তত বোধ ছিল হায়দারের মনে। কিন্তু হায়দার বুঝতে পারেন, জীবন যুদ্ধে তাঁকে এগিয়ে যেতেই হবে।

প্রথম দিকে সেভাবে সাড়া না পড়লেও মাত্র ১৪ দিনের মাথায় চাকরি পান হায়দার। পথচলতি মানুষের সাথে কথা বলতে শুরু করেন। এই সময়ে অনেকে ভিজিটিং কার্ডও দিয়ে যান। ঘটে যায় ‘মিরাক্যাল’। তাও আবার মাত্র ১৪ দিনের মাথায় এক অচেনা ব্যক্তির সহযোগিতায়। হায়দার যোগ দেন ‘ট্রেজারি অ্যানালিস্টের’ পদে।

হায়দারের পাশে ওই সময় এসে দাঁড়ান অচেনা ইম্যানুয়েল। নিজের উদ্যোগে লিঙ্কড-ইনে হায়দারের ছবি পোস্ট করে তিনি আবেদন জানান, কারো হাতে চাকরি থাকলে তিনি যেন দ্রুত হায়দারের সাথ যোগাযোগ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে।
ট্রেজারি অ্যানালিস্টের চাকরি পাওয়ার পর হায়দর মালিক তার শুভান্যুধায়ীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বিশেষ করে অচেনা ইম্যানুয়েলের প্রতি তিনি তার কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

হায়দারের কথায়, ওই দিনও সকালটা শুরু হয়েছিল একইভাবে। সকাল ৭টার মধ্যেই স্টেশনে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। যখন ফোনটা বেজে ওঠে তখন ঘড়িতে বাজে সাড়ে ৯টা। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে ভেসে আসে একটি কন্ঠ। ও প্রান্তের কন্ঠস্বর বলে ‘ট্রেজারি অ্যানালিস্টের চাকরি আছে, তবে ইন্টারভিউয়ের জন্য পৌঁছতে হবে এক ঘণ্টার মধ্যে’। সাথে গাড়ি ছিল। তাই গন্তব্য পৌঁছতে অসুবিধে হয়নি, হায়দারের। প্রথম ধাপে উতরে যাওয়ার পর ১৬ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে পরীক্ষা হয়। সেখানেই সিলেক্ট হন হায়দার। তারপরেই আসে জয়েনিং লেটার।

পরিশ্রম, স্বপ্ন সব সার্থক হয়েছে, হায়দর মালিকের। তবে এর পরও এসেছে একাধিক চাকরির প্রস্তাব। চাকরি পেয়েই সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভোলেননি হায়দার।

হায়দার জানিয়েছেন, কিশোর বয়সে পাকিস্তান থেকে তার লন্ডনে আসা। বাবা ট্যাক্সি চালাতেন। তবে এখন অবসর নিয়েছেন। বাবার থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে অভিনবভাবে জীবনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়ান হায়দার মালিক। তাহলে স্বপ্ন দেখতে পারলে, জীবনে মিরাকলও ঘটে, এবার সেটাই বিশ্বাস করতে শুরু করেছে হায়দার।

সমাজমাধ্যমে নিজের দুটি ছবি পোস্ট করে, হায়দর মালিক লিখেছেন, ‘১৪ দিনে অনেক কিছু বদলে যায়’।
সূত্র : পুবের কলম


আরো সংবাদ


premium cement