২৬ নভেম্বর ২০২০

আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, রাশিয়াকে যা বললো তুরস্ক


নাগার্নো-কারাবাখ প্রসঙ্গে ফের মুখ খুলল তুরস্ক। সোমবার তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর।

সেখানে তুরস্ক জানিয়েছে, নাগার্নো-কারাবাখ আজারবাইজানের ভূখণ্ড। আর্মেনিয়া সেখান থেকে সরে গেলেই দ্রুত শান্তি ফিরবে। যুদ্ধের গোড়া থেকেই তুরস্ক আজারবাইজানকে সমর্থন করছিল।

আর্মেনিয়ার অভিযোগ, তুরস্কের সামরিক বাহিনীও অস্ত্র এবং যুদ্ধবিমান দিয়ে আজারবাইজানকে সাহায্য করেছে।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়েছিল গত শনিবার। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তাতে লাভ হয়নি। আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের সেনা এখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে নাগার্নো-কারাবাখ। যুদ্ধ থামার কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। কারণ, দুইটি দেশই নিজেদের দাবিতে অনড়।

আজারবাইজানের বক্তব্য, আর্মেনিয়া নাগার্নো-কারাবাখ থেকে সরে না গেলে তারা যুদ্ধ বন্ধ করবে না। বস্তুত, শুক্রবার মস্কোয় ১০ ঘণ্টার শান্তি বৈঠকেও একই কথা বলেছিল আজারবাইজান। যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও তা যে সাময়িক, সে কথাও জানিয়ে দিয়েছিল তারা।

মাঠের চেয়ে বেশি লড়াই চলছে মুখে৷ দুই পক্ষই আশ্রয় নিচ্ছে বাগাড়ম্বরের৷ নিজেদের ছোঁড়া গোলায় সাধারণ মানুষ মারা গেলেও দুই পক্ষই অপর পক্ষকে দুষছে যুদ্ধের নিয়ম না মানার জন্য৷ হামলা নিয়ে দুই পক্ষের পালটা দাবিতে সংকট আরো বাড়ছে৷

বাস্তবে যুদ্ধ বন্ধ হয়নি। শান্তি বৈঠকে একাধিকবার মধ্যস্থতার জন্য তুরস্কের নাম করেছিল আজারবাইজান। মঙ্গলবার সেই তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কথা বলেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে। এখনো পর্যন্ত রাশিয়াই যুদ্ধ বন্ধের জন্য মধ্যস্থতা করছে। রাশিয়াকে তুরস্ক জানিয়ে দেয়, তারা আজারবাইজানের পক্ষে এবং আর্মেনিয়ার সেনা নাগার্নো-কারাবাখ থেকে সরে গেলেই শান্তি ফিরে আসবে। অর্থাৎ, তুরস্ক বুঝিয়ে দিয়েছে, আজারবাইজানের দাবি না মানলে যুদ্ধ বন্ধ হবে না এবং তারা আজারবাইজানকেই সমর্থন করবে।

স্বাভাবিকভাবেই আর্মেনিয়া এ কথা মানতে চায়নি। রাশিয়াও তুরস্কের কথা মানতে পারেনি। কারণ, রাশিয়ার সমর্থন রয়েছে আর্মেনিয়ার দিকে। এদিকে ফ্রান্স, অ্যামেরিকা এবং রাশিয়া ফের শান্তি বৈঠকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ওই বৈঠকে আরো কয়েকটি দেশকেও তারা ঢোকানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু সেই বৈঠকে তুরস্ককে মূল মধ্যস্থতাকারী করার যে দাবি আজারবাইজান তুলেছে, অন্য দেশগুলি তা মানতে চায়নি।

সূত্র : ডয়চে ভেলে


আরো সংবাদ