০৩ আগস্ট ২০২০

তুরস্ক-সিরিয়া সঙ্ঘাত : কুর্দিদের সাথে সিরিয়ার চুক্তি

-
24tkt

সিরিয়ার কুর্দিরা বলছে যে, সিরিয় সরকার দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তে সেনাবাহিনী পাঠিয়ে তাদের বিরুদ্ধে তুরস্কের চালানো আগ্রাসন প্রতিহত করার চেষ্টা করবে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এর আগে জানায় যে, উত্তরাঞ্চলে সরকারি বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে শুরু হওয়া তুর্কি অভিযানের মূল উদ্দেশ্য কুর্দি বাহিনীগুলোকে সীমান্ত এলাকা থেকে উৎখাত করা।

কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস বা এসডিএফ-এর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো গত সপ্তাহে তীব্র বোমা হামলার শিকার হয়েছে। সীমান্তবর্তী দুটি শহরে তুরস্কের বাহিনী শক্ত অবস্থান নিতে শুরু করেছে।

সীমান্তের দুই প্রান্তেই বেসামরিক নাগরিকসহ অনেক যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

রোববার কুর্দি কর্মকর্তারা বলেছেন, বিদেশি ইসলামিক স্টেট যোদ্ধাদের পরিবারের প্রায় আট শ' সদস্য যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে উত্তরাঞ্চলের আইন ইসা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে গেছেন।

তুরস্কের আগ্রাসন এবং ওই এলাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কারণ সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পশ্চিমা জোটের প্রধান সহযোগীই ছিল এসডিএফ।

কিন্তু তুরস্ক এসডিএফ'এর কুর্দি সেনাদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে। তুরস্কের বক্তব্য, তারা সিরিয়ার ভেতরে কমপক্ষে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত কুর্দিদের হটিয়ে 'নিরাপদ অঞ্চল' তৈরি করতে চায়।

তুরস্কের ভেতরে থাকা ৩০ লাখের বেশি সিরিয় শরণার্থীকে ওই অঞ্চলে পুনর্বাসিত করার পরিকল্পনার কথাও বলেছে তুর্কি কর্তৃপক্ষ।

সমালোচকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এর ফলে ওই অঞ্চলে বসবাসরত কুর্দিরা জাতিগত নিধনের শিকার হতে পারে।

চুক্তি সম্পর্কে কী জানা যাচ্ছে?

উত্তর সিরিয়ার কুর্দি নেতৃত্বাধীন প্রশাসন বলছে, চুক্তি অনুযায়ী পুরো সীমান্ত জুড়ে সিরিয় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। এই সেনা মোতায়েন এসডিএফ'কে 'তুরস্কের সেনা এবং ভাড়াটে বিদেশি সেনাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবং সঙ্ঘাতপূর্ণ এলাকাগুলো মুক্ত করতে সহায়তা করবে' বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে তারা।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে: এই পদক্ষেপ আফরিনের মত যেসব সিরিয় শহর তুর্কি বাহিনীর অধীনে রয়েছে, সেসব শহর মুক্ত করতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

তুরস্কের সেনাবাহিনী এবং তাদের সমর্থক সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ২০১৮ সালে দুই মাসের এক অভিযানের পর আফরিন শহর থেকে কুর্দি যোদ্ধাদের বিতাড়িত করে।

এই চুক্তি কুর্দিদের জোট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা রাখতে পারে - বিশেষ করে ওই এলাকায় দীর্ঘসময় ধরে থাকা মার্কিন সেনাবাহিনীর সমর্থন হঠাৎ শেষ হয়ে যাওয়ার পর।

তবে সিরিয়ার সরকার কুর্দি বাহিনীদের সাথে কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

এসডিএফ প্রধান মাজলুম আবদি ফরেন পলিসি ম্যাগাজিনের জন্য লেখা এক প্রতিবেদনে স্বীকার করেছেন যে, আসাদ সরকার ও তাদের রুশ মিত্রদের সাথে 'যন্ত্রণাদায়ক আপস' করবে তারা।

তিনি লিখেছেন, "আমরা তাদের প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করি না। সত্যি বলতে কাকে বিশ্বাস করবো তা ঠিক করা খুবই কঠিন।"

"কিন্তু আমাদের আপস এবং আমাদের মানুষের গণহত্যা - দুটির একটি বেছে নিতে হবে। তাই আমরা আমাদের মানুষের ব্যাপারেই চিন্তা করেছি।"

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে হঠাৎই উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার কিছু অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নেয়ার পরপর তুরস্ক সিরিয়ার সেসব অঞ্চলে আগ্রাসন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

সেসময় মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়টিকে এসডিএফ 'পিঠে ছুরি চালানো'র সাথে তুলনা করেছিল।

তুরস্ক এখন পর্যন্ত কতদূর অগ্রসর হয়েছে?

তুরস্ক সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আরো শক্ত অবস্থান নিচ্ছে।

রোববার তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান বলেছেন, তার বাহিনী ১০৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করে নিয়েছে, যার মধ্যে ২১টি গ্রামও রয়েছে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অন্যতম প্রধান সীমান্তবর্তী অঞ্চল রাস আল-আইন তুরস্কের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। যদিও এসডিএফ বলেছে তারা তুরস্কের সেনাদের শহরের বাইরে হটিয়ে দিয়েছে।

এরদোগান বলেছেন তুরস্কের বাহিনী তাল আবইয়াদ শহরও ঘেরাও করে রেখেছে।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক পর্যবেক্ষক গ্রুপ সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, তুরস্ক ওই এলাকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

এসডিএফ'এর বিরুদ্ধে অভিযানে তুরস্কের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য রাস আল-আইন এবং তাল আবইয়াদ শহর দুটি।

এখন পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা

ওই এলাকায় সঙ্ঘাতের ফলে হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সীমান্তের দুই পাশেই বেসামরিক নাগরিকসহ সেনারাও নিহত হয়েছেন।

উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় ৫০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক এবং এক শ' জনের বেশি কুর্দি যোদ্ধা মারা গেছে বলে বলছে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস।

এসডিএফ বলেছে, কুর্দি বাহিনীর ৫৬ জন মারা গেছেন এবং তুরস্কের দাবি সংখ্যাটা ৪৪০ জন।

তুরস্ক থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ তুরস্কে ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক মারা গেছে।
তুরস্ক জানিয়েছে, তুরস্কের চারজন সেনা এবং তুরস্ক সমর্থক ১৬ জন সিরিয়ান সৈন্য নিহত হয়েছেন।

জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার সংস্থা বলছে, প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার বেসামরিক নাগরিক এখন ভাসমান রয়েছেন এবং এই সংখ্যা বাড়তে পারে। ওই অঞ্চলে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত তারা।

- বিবিসি


আরো সংবাদ

কালিহাতীতে বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু করোনাবিরোধী মিছিল করায় গ্রেফতার শতাধিক ইসরাইল-সিরিয়া সীমান্তে ফের উত্তেজনা, নিহত ৪ আফগান জেলে আইএস হামলা ‘অন্যায় সমর্থন না করায় আমাকে দুইবার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল জয়নাল হাজারী’ তল্লাশি চৌকিতে সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু দেশবাসীকে ক্ষুব্ধ করেছে: মির্জা ফখরুল এবার ভারতে অক্সফোর্ডের করোনা টিকার ট্রায়াল করোনা : বিধিনিষেধের মেয়াদ বৃদ্ধি কতটা সুফল দেবে সহকর্মীরাসহ স্ত্রীকে ধর্ষণ করে রেললাইনে ফেলে দিলেন স্বামী বিচারবহির্ভূত হত্যা তীব্র আকার ধারণ করছে : রিজভী পীরগাছায় বৃক্ষ রোপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ

সকল

সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা : পুলিশের ২১ সদস্য প্রত্যাহার (১৩৬৯৪)আজারবাইজানে ঢুকেছে তুর্কি জঙ্গিবিমান; যৌথ মহড়া শুরু (৮৮৬৫)ভারতের যেকোনো অপকর্মের কঠিন জবাব দেয়ার হুমকি দিলো পাকিস্তান (৭৭০৪)হামলায় মার্কিন রণতরীর ডামি ধ্বংস না হওয়ার কারণ জানালো ইরান (৭৫৭১)অবশেষে ১৪ লাখ টাকায় বিক্রি হলো সেই ‘ভাগ্যরাজ’ (৬৪৪৭)আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে কেন সন্দিহান ইরান-কাতার? (৬৩৯৬)লিবিয়া ইস্যুতে তুরস্ক ও আমিরাতের মধ্যে তুমুল বাগযুদ্ধ (৬৩৯৬)হিজবুল্লাহর জালে আটকা পড়েছে ইসরাইল! (৫৯২৩)ভারত-চীন সীমান্তের নতুন স্থানে চীনা বাহিনীর অবস্থান, আতঙ্কে ভারত (৫৪৭৯)পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি (৫১৯১)