২৪ অক্টোবর ২০২০

পরানের বিলকিস

-

মাস্টারপাড়ায় তিনতলা বাড়ি। নাম গ্রিন ভিউ। উপর-নিচ ছয় ইউনিট। প্রত্যেকটি ইউনিট ভাড়াটিয়াদের দখলে। বাড়ির মালিক জয়নাল সাহেব। তিনি থাকেন ঢাকায় বনানীতে। জয়নাল সাহেবের অবর্তমানে বাড়ি দেখভাল করেন উনার এক আত্মীয়ের ছেলে। নাম কাজী সালমান।
ভাড়া কালেকশন থেকে শুরু করে গ্যাস-কারেন্ট বিলসহ একটা বাড়ির যাবতীয় কাজ যা থাকে সব এই সালমানই করে থাকে। মূলত কেয়ারটেকার হলেও সে নিজেকে এ বাড়ির মালিক হিসেবেই পরিচয় দিয়ে থাকে।
সিঁড়ির নিচে জেনারেটরের পাশেই ছোটখাটো একটি রুমে সালমান থাকে। সকাল থেকে রাত অবধি শুয়ে-বসে নজর রাখে কে সিঁড়িপথে উঠছে-নামছে।
তিনতলার পশ্চিম পাশের ইউনিট দুই মাস হলো এক ভদ্রমহিলা ভাড়া নিয়েছেন। ভদ্রমহিলার নাম নার্গিস। তিনি একটা কলেজের বাংলা প্রভাষক। সবাই তাকে নার্গিস ম্যাডাম হিসেবে চিনেন।
ভাড়া নিয়ে সালমানের সাথে নার্গিস ম্যাডামের অনেক দরকষাকষি হয়। সালমান কিছুতেই নয় হাজার টাকার ভাড়া আট হাজারে নামবে না। পরে সালমান যখন জানতে পারল নার্গিস ম্যাডামের স্কুলপড়ুয়া এক সুন্দরী মেয়ে আছে তখনই সে ফট করে রাজি হয়ে গেল।

২.
নার্গিস ম্যাডামের মেয়ে বিলকিস। চ্যাটাংচ্যাটাং কথা বলে। গ্রিন ভিউর সিঁড়িতে সকাল-সন্ধ্যা ওঠে আর নামে। সালমানও হাতা কাটা গেঞ্জি পরে তার ছোট্ট রুমে বসে বিলকিসের কর্মকাণ্ড দেখে আর হাসে। মাঝে মধ্যে ইশারা মারে। বিলকিসও মুখভঙ্গি করে। মুচকি হাসে। উঁকিঝুঁকি মারে! সালমানও বেশ উপভোগ করে বিষয়গুলো ।
ইদানীং সালমান মোবাইলে রোমান্টিক মার্কা গানগুলো বেশি শুনছে। কিছু দিন আগে পাশের বাড়ির নোমান এসে বলে, ‘কিরে সালমাইন্না! তোর কিয়া অইছে? মনির খানের অঞ্জনা গান হুইন্না চোখের হানি হালাইতি। আইজ্জা ক্যাইল্লা দেখিয়ের তুই বহুত পাংখায় আছোত!’
সালমান পকেট থেকে চিরুনি বের করে চুল ঠিক করতে করতে বলে, ‘পাংখা থাকনের টাইমতো অংগাই !’
৩.
গত দুই দিন বিলকিসের দেখা নাই। সালমান বেশ উদাস হয়ে বসে আছে। কারো পায়ের শব্দ পেলে বিচলিত হয় । সিঁড়িপথে তাকিয়ে নিরাশ হয়ে মুখভার করে থাকে। এত চঞ্চলা মেয়েটির কিছু হলো কি না ভেবে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। চট করে মাথায় বুদ্ধি আসে তার। সে বাড়ির পিছন দিকটায় যায়। ওখানটায় দাঁড়িয়ে সে বিলকিসদের ইউনিটের পশ্চিম পাশের জানালায় লক্ষ রাখে। কিছু সময় পর হঠাৎ বিলকিসের দেখা পাওয়া যায়। তাকে দেখতে পেয়ে সেলিমের বুক ধুক করে ওঠে। উপর থেকে বিলকিস হাত নেড়ে বলে, ‘সালমান ভাইয়া! এই সালমান ভাইয়া! আম্মু দুই দিন ধরে বাসায় নাই, আপনি ফ্রি হয়ে আমার বাসায় এসে একটু নক করিয়েন!’
বিলকিসের কথাটা সালমানের মাথার উপরে দিয়া গেল। একা বাসায় তাকে দেখা করতে বলার মানে কী সে বুঝতে পারে। চট করে রুমে ফিরে আসে সালমান। জুতাজোড়া গামছা দিয়ে ভালো মতো পরিষ্কার করে। দড়িতে ঝুলে থাকা শার্ট হাত দিয়ে ভালোমতো ইস্ত্রি করে। গায়ে কড়া সুগন্ধি মেখে সে তিনতলার উদ্দেশে পা বাড়ায়। যত সিঁড়ি সে এগোচ্ছে তত পা কঁাঁপাকাঁপি বাড়ছে। বিলকিসদের দরজার সামনে এসে দাঁড়ায় সালমান। হাত দিয়ে নক করল। এখন পায়ের পাশাপাশি হাতও কাঁপছে তার। বুকের ধকধকানি ক্রমেই বেড়ে চলছে। সালমান ভাবতে থাকে, কত বসন্ত সে প্রেমহীন ছিল।
সালমানের বন্ধু মোল্লা রিয়াদ কত টিপ্পনী কাটত প্রেম বিষয়ে। আর অথচ আজ সে সফল হতে যাচ্ছে। এর পর বিলকিসের সাথে তার রিলেশন হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।
এ সময় দরজা শব্দ করে খুলে সামনে দাঁড়াল বিলকিস। সালমান লাজুক হয়ে চোখ-মুখ বন্ধ করে শরীর ডান-বামে নাড়তে থাকে। যেকোনো মুহূর্তে বিলকিস একটা ঘটনা ঘটাবে, এই ভেবে সে শিহরিত হয় ।
বিলকিস আদুরে স্বরে বলে উঠল, ‘সালমান ভাইয়া! দুই দিন ধরে বাসায় আম্মু নাই। ঘরে অনেক ময়লা জমে আছে। আপনি আমাদের ময়লার ঝুড়িটা একটু বাইরে ফেলে দিয়ে আসতে পারবেন?’
এই বলে বিলকিস ঝুড়িটা সালমানের হাতে ধরিয়ে দিলো। সালমান বড় বড় চোখ করে বিলকিসের দিকে তাকিয়ে রইল। হ


আরো সংবাদ