১৮ অক্টোবর ২০২১
`

অদ্ভুত রয়্যালটি কাণ্ড

-

ফেব্রুয়ারিতে বই নিয়ে হইচই থাকলেও মার্চে সেটা সিথিল হয়ে আসে কিছুটা। মার্চের এ সময়টাতে লেখকরা ফেব্রুয়ারির অঙ্ক নিয়ে বসেন। কার কতটা বই পাঠকের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে কিংবা লেখক সম্মানী হিসেবে কত টাকাইবা পেতে যাচ্ছেন তারা? যে টাকা রয়্যালটি পাবেন তা দিয়ে সিঙ্গাপুর বাড়ি বানানো না যাক অন্তত আইফোন কেনা যাবে কিনা? তার জল্পনা কল্পনা চলতে থাকে এই মাসে।
সাবের আকন্দের চিন্তা শুরু হয়েছে সে ফেব্রুয়ারি থেকেই। বইমেলায় তার প্রথম বই প্রকাশ করেছে একান্ন প্রকাশনী। সেটা চিন্তার কারণ নয়! টেনশনের জায়গাটা অন্যখানে।
সাবের আকন্দ যখন বই করা নিয়ে ভাবছিলেন তখন জৈন্তাপুর পুরো গ্রামটাতে এক অদ্ভুত হিড়িক পড়ে গেছে! সাবেরের কৃষক বাবা পুরো গ্রাম রটিয়েছেন লেখক ছেলের গুণকীর্তন গেয়ে গেয়ে। ভাবতে পারো? আমার পোলা বই লিখতাছে! তার নাম বইয়ে ছাপবে! তার বই বিশ্বের বেবাক মানুষ পইড়বে! সাবের আকন্দের বাবা এতটুকু বলে ক্ষান্ত থাকলে হতো! কিন্তু সাবেরের বাবা বইয়ের খবর রটানোর পাশাপাশি সাবের বই করে ধনী হয়ে যাওয়ার গপ্পোও শোনাচ্ছে।
খবর আরো শুনোনা... পোলাতো এখন প্রাইভেটকার নিয়া গেরামে আইবো... বই কইরা কত টাকা জানি পায়! মানুষজন আগ্রহ নিয়ে জানতে চায় কত পাইব টেকা? সাবের আকন্দের বাবা মুখ গম্ভীর করে একটা হিসাব করার ভাব নিয়ে বলে, লাখ দশ তো অইবই! কও কী? তোমরা তো তাইলে বড়লোক অইয়া গেলা! সাবেরের বাবা এসব শুনে মহা তৃপ্তি পান।
এদিকে যতসব জিলাপির কঠিন প্যাঁচে পড়ে গেলেন সাবের আকন্দ! গ্রাম থেকে একের পর এক ফোন আসতে থাকে তার কাছে... কী অবস্থা লেখক ভাই? গ্রামে আইসবা কবে? তোমার গাড়ি কত দিয়া কিনছ? গ্রামে আসলে তোমার গাড়িত একটু ঘুরাইয়ো... ইত্যাদি ইত্যাদি! এ দিকে মেলা শেষে একান্ন প্রকাশনীর প্রকাশক জানিয়েছেন, তার নতুন যে বইটা এবার প্রকাশিত হয়েছে তা মোটে ১৩ কপি বিক্রি হয়েছে! কিসের রয়্যালটি! গোডাউনে পড়ে থাকা বইগুলো কবে কিনে নিবেন বলেন? আমি তো লস দিয়ে আপনার বই করব না তাই না? লেখক সাবের আকন্দ পড়লেন মস্ত ফাঁপড়ে! পরদিন সকালবেলায় সাবের আকন্দের বড়লোক বন্ধু রুদ্র থেকে কিছু টাকা ধার নিলেন। যে করেই হোক গ্রামে তাকে প্রাইভেটকারে করে যেতেই হবে। নাহলে ইজ্জত বলে কিছুই থাকবে না! গাড়ি ভাড়া করে যখন সাবের আকন্দ রওনা হলেন জৈন্তাপুরের পথে, তখন তার ফোনে একের পর এক ফোন আসতে লাগল বিরতিহীন! ভাই কখন পৌঁছাইবা? সোজা স্কুল মাঠে চইলা আইস! এখানে ফুল নিয়া দাঁড়াইয়া আছি আমরা। গাড়ি থেকে যখন নামলেন সাবের তখন দুপুর! গ্রামের সব মানুষ তাকে ঘিরে ধরেছে... লেখক সাহেব জিন্দাবাদ! লেখক সাহেব জিন্দাবাদ! এর ফাঁকে ফোন বেজে উঠল সাবেরের। দেখে প্রকাশকের ফোন! কী ভাই? কবে টাকা দিয়ে বইগুলো নিয়ে যাবেন বললেন না যে? বাকি লেখকদের রয়্যালটি দিতে পারতেছি না। সাবের আকন্দের ভয়ে বুক ধুক-পুক করে কাঁপছে! ভাবছেন কী করবেন এখন তিনি? ইজ্জত যায় যায় অবস্থা!



আরো সংবাদ


মেয়ের চিকিৎসায় ১০ দিন ধরে ঢাকার হাসপাতালে থেকেও মন্দির ভাঙার আসামি (১২২৬৩)‘বাতিল হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প’ (১১৮৪৮)প্রধানমন্ত্রী মোদি কি আগামী নির্বাচনে হেরে যাচ্ছেন বলে এখনই টের পেয়েছেন (৯৪৪৭)কাশ্মিরে নতুন করে উত্তেজনা ভারতের তালেবানভীতি থেকে? কেন সেই ভীতি? (৯৩৫৭)কাশ্মিরে এক অভিযানে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভারতীয় সেনা নিহত (৮০০৬)৭২-এর সংবিধানে ফিরে যেতেই হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী (৬১৯৩)সঙ্কটের পথে রাজনীতি (৫৯৭৪)গ্রাহকদের উদ্দেশে কারাগার থেকে যা বললেন ইভ্যালির রাসেল (৪৮৫৯)কিছু ‘বিভ্রান্তিকর খবরের’ পর বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে ভারত (৪৮২৫)পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর সরকারি ছুটি পুনর্নির্ধারণ (৪৭৮৬)