১৮ অক্টোবর ২০২১
`

জব্দ

-

রাজু তার কলেজ লাইফ খুব ইনজয় করে। এখানে তার অনেক বন্ধু। সবাই তাকে খুব ভালোবাসে। রাজুও তাদের ভালোবাসে। ক্যাম্পাসের সামনে একটি বকুল ফুলের গাছ আছে। খুব সুন্দর গাইড ওয়াল দিয়ে গাছের নিচের সাইড বাঁধানো। এখানে ক্লাস শেষে রাজু ও তার সব বন্ধুরা আড্ডা মারে। সময় শেষ হয় আড্ডা কমে না।
সন্ধ্যার পরে বকুল ফুলের ঘ্রাণ তীব্রভাবে পাওয়া যায়। এ ঘ্রাণ রাজু বেশি উপভোগ করে। আড্ডাও জমে বেশ। সে বন্ধুদের যেমন ভালোবাসে, তেমনি গাছটাকেও ভালোবাসে।
রাজু টুকিটাকি পত্রিকায় লেখালেখি করে। এটা তার সব বন্ধুরা জানে। কিছু দিন আগে ভালোবাসা দিবসে তার একটি লেখা প্রকাশ হয়। বকুল গাছের নিচে বসে সেলিম পুরো গল্প পাঠ করে সবাইকে শুনিয়েছে। গল্প শেষে সবাই খুব প্রশংসা করেছে। নিঝুম বকুল ফুলের মালা গেঁথে রাজুকে দিয়ে বলেছিলÑ ‘এ গল্প তুই নিশ্চয়ই আমাকে নিয়ে লিখেছিস, তা আমি বুঝতে পেরেছি!’
এ কথায় রাজু আশ্চর্য হয়, কিন্তু তা সে প্রকাশ করে না। এমন একটা ভাব ধরে যেন সত্যি সত্যি নিঝুমের কথা চিন্তা করেই গল্পটি লেখা হয়েছে।

২.
প্রতিদিনের মতো আজো রাজুরা বকুলতলায় বসে আড্ডা জমাচ্ছে। রাজু দাঁড়িয়ে আছে। সে হাত-পা নেড়ে অভিনয়ের মতো করে কথা বলছে। পাশে নিঝুম নীলা তিথি রোদেলা বসে থেকে মুগ্ধ নয়নে তা উপভোগ করছে। সেলিম মাথা নিচু হয়ে মোবাইল চালাচ্ছে। অন্য দিকে রিয়াদ বুঝে না বুঝে রাজুর সব বিষয়ে সম্মতি জানাচ্ছে মাথা নেড়ে।
কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে হেলেদুলে আদর আসছে দেখে রাজু তার কথা বলা থামিয়ে দেয়। তার মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যায়। আদর ছেলেটা তাদের বন্ধুমহলে নতুন যোগ দিয়েছে। প্রতিটি কর্মকাণ্ডে সে তার পাণ্ডিত্য জাহিরে ব্যস্ত থাকে। মাত্রাতিরিক্ত চাপাবাজি আর রাজুকে খাটো করে কথা বলার কারণে আদর নামের এই চিড়িয়াকে খুব একটা সুবিধার চোখে দেখে না রাজু। আদর আড্ডায় যোগ দিলে রাজু মুখে মেকি হাসি রেখে কথা চালিয়ে যায়।
আদর এসে রাজুর দিকে না তাকিয়ে সবাইকে বলল, আমার প্রাণের বন্ধুরা, কেমন আছো তোমরা?
সবাই মাথা নেড়ে ভালো আছি জানায়। রাজু মাথা নাড়ে না। আদরের এক্সট্রা পিরিতি দেখে তার পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে।
আদর এবার রাজুর দিকে ফিরে তাকায়। রাজুর কাঁধে হাত রেখে বলে, কি-ও আমাদের হিজু ভাই রাজু, তোমার ছাইপাশ লেখা এখনো ছাপা হয় নাকি পত্রিকায়?
আদরের মুখে এমন কথা শুনে রিয়াদ খিলখিল করে হেসে উঠল। মেয়েরা সব হাসি হাসি মুখ করে রইল।
এমন অপমানসূচক কথা শুনে রাজুর পুরো শরীরে আগুন ধরে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। রাগে তার পুরো শরীর কাঁপতে লাগল। তার সব বন্ধুবান্ধবের সামনে এমন তাচ্ছিল্য করে কথা বলা রাজু বরদাশত করবে না। আজকেই আদর নামের এই বাঁদরকে জব্দ করতে হবে। রাজুর কাছে অনেক কৌশল জানা আছে, তবে সে ভদ্রতার খাতিরে এতদিন কিছু বলেনি। তবে আজকে সে একটু অভদ্র হবে ।
রাজু নিজেকে প্রস্তুত করল। ছোট্ট করে একটি হাসি দিয়ে বলল, সবজান্তা সমীপে আমাদের আদর সাহেব।
আমার লেখার খবর নেয়ার আগে তোমার উচিত তোমার চেইনের খবর নেয়া। কারণ তোমার চেইন খোলা!
এ কথা শোনার সাথে সাথে সব মেয়ে লজ্জায় হাত দিয়ে চোখ ঢেকে নেয়।
রিয়াদ সেলিম আশ্চর্য হয়ে আদরের প্যান্টের দিকে তাকিয়ে রইল ড্যাবড্যাব করে। আদর ব্যাটা হাত দিয়ে চেইন ঠিক করতে যাবে, ওই মুহূর্তে রাজু আবার বলল, আরে বুদ্ধু প্যান্টের নয়, চেইন তো খোলা তোমার ব্যাগের!
এ দিকে সবাই হাসতে হাসতে বকুল গাছের নিচে ঢলে পড়ছে। এই বলে রাজু আদরের ব্যাগের চেইন লাগিয়ে দিলো। আর বেচারা আদর কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল! হ

 



আরো সংবাদ


মেয়ের চিকিৎসায় ১০ দিন ধরে ঢাকার হাসপাতালে থেকেও মন্দির ভাঙার আসামি (১২৯০৫)‘বাতিল হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প’ (১২২০৬)প্রধানমন্ত্রী মোদি কি আগামী নির্বাচনে হেরে যাচ্ছেন বলে এখনই টের পেয়েছেন (৯৫৬৯)কাশ্মিরে নতুন করে উত্তেজনা ভারতের তালেবানভীতি থেকে? কেন সেই ভীতি? (৯৪১৪)কাশ্মিরে এক অভিযানে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভারতীয় সেনা নিহত (৮০৩৮)৭২-এর সংবিধানে ফিরে যেতেই হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী (৬৬০০)সঙ্কটের পথে রাজনীতি (৫৯৭৭)গ্রাহকদের উদ্দেশে কারাগার থেকে যা বললেন ইভ্যালির রাসেল (৪৮৯৫)পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর সরকারি ছুটি পুনর্নির্ধারণ (৪৮৬২)কিছু ‘বিভ্রান্তিকর খবরের’ পর বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে ভারত (৪৮২৯)