১৯ অক্টোবর ২০২১, ৩ কার্তিক ১৪২৮, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
`

ফিলিং হলিউড

-

আমাদের ঝাক্কাসদা গত তিন মাস আগে ফেসবুকের কল্যাণে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি নামের একটি মেয়ের সাথে পরিচিত হয়েছিল। দাদা গত তিন মাস ধরে অনবরত শুধু তার সাথেই চ্যাট করে গেছেন। কত কথা! কত মাথাব্যথা! সব এই বাংলাদেশী অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে নিয়ে।
ঠিক তিন মাস পর ছিল অ্যাঞ্জেলিনা জোলির জন্মদিন। দিনটাকে স্মরণীয় করতে দাদা ঠিক করলেন তিনি অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সাথে ফেস টু ফেস সাক্ষাৎ করবেন। দাদা দেখা করার প্রস্তাব দিতেই অ্যাঞ্জেলিনা জোলি এক পায়ে রাজি হয়ে গেল।
দুইজনের সিদ্ধান্তে নির্ধারিত স্থানে, নির্দিষ্ট সময়ের নয় মিনিট ঊনষাট সেকেন্ড পরে উপস্থিত হলেন ঝাক্কাসদা। রেস্টুরেন্টে ঢুকে ঝাক্কাসদা হন্যে হয়ে অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে খুঁজতে লাগলেন।
অভিযান চলল ৩ মিনিট। ঝাক্কাসদা অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হলেন। মোবাইলের স্ক্রিনে দেখতে পাওয়া অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মুখের অবয়ব যেন সেখানে উপস্থিত কারো চেহারার সাথে মিল ছিল না।
এবার বিশাল এক টেবিলের কোনা থেকে দাদাকে কেউ ডাক দিলো। দাদা ফিরলেন সেদিকে। আরে এ তো অ্যাঞ্জেলিনা জোলি! মেকআপের তার ত্রিভুজাকৃতির চেহারা চতুর্ভুজাকৃতির হয়ে গেছে। তাইতো দাদা এতক্ষণ চিনতে পারেননি তাকে।
দাদা সেই টেবিলের কাছে যেতেই বিরাট বড় এক ঝটকা খেলেন। আজ অ্যাঞ্জেলিনা জোলি একা আসেনি। সাথে নিয়ে এসেছে তার সাঙ্গোপাঙ্গ! অ্যাঞ্জেলিনা জোলি দাদাকে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে প্রশ্ন করল, কী ব্যাপার! দাঁড়িয়ে আছ কেনো?
দাদা চালাকি করে উত্তর দিলো, আরে আমিতো বসার জন্য জায়গা খুঁজছি।
হাহাহাহা! তোমার জোক্সগুলো না অনেক মজার।
আরে না, আমি জোক্স মারিনি। সত্যি বলছি।
হাহাহাহাহা! কী করব বলো! তুুমি আজ দেখা করতে আসবে বলে আমার বেস্ট ফ্রেন্ডগুলো খুব এক্সাইটেড। সবাই তোমার জোক্সের ফ্যান। তোমাকে সারপ্রাইস দিতে আমি ওদের নিয়ে এসেছি।
ও আচ্ছা!
চলো কেক কাটি।
চলো।
কেক কাটা হলো। খাবার অর্ডার করা হলো এবং খাওয়া দাওয়াও করা হলো। অ্যাঞ্জেলিনা জোলির ভাবগতি দেখে দাদা বুঝে গেলেন আজ আর রক্ষে নেই। ১১ জন মানুষের বিল দাদাকে একাই দিতে হবে। কিন্তু দাদার পকেটেতো এত টাকা নেই। ঠিক তখনই ওয়েটার বিলের প্যাড নিয়ে এলো। দাদা প্যাডটা রেখে ওয়েটারকে জিজ্ঞেস করল, ইক্সকিউজমি ওয়াশরুমটা কোন দিকে?
ওয়েটার বলল, স্যার আমাদের কোনো ওয়াশরুম নেই। তবে বাইরেই একটি পাবলিক টয়লেট রয়েছে।
দাদা এবার অ্যাঞ্জেলিনার দিকে তাকিয়ে বলল, ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড আমি একটু ওয়াশরুম হয়ে আসছি।
অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ভুরু খুঁচকে জবাব দিলো, আচ্ছা যাও। তবে তাড়াতাড়ি এসো।
দাদা ওয়াশরুমের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়লেন ঠিকই। কিন্তু গেলেন না। সোজা বাড়ির রাস্তা ধরলেন। ফোন থেকে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির স্মৃতি মুছে ফেললেন। অ্যাঞ্জেলিনা জ্যোলিকে ফেসবুকে ব্লক মারলেন। সবশেষে বাসে বসে নিজের ফেসবুক ওয়ালে স্ট্যাটাস দিলেনÑ ওয়াও! বেঁচে গেলাম। ফিলিং হলিউড। অসম অসম! হ

 



আরো সংবাদ


সকল