২১ মে ২০২২
`

অস্ট্রেলিয়া থেকে বিতাড়িত হয়ে ‘হতাশ’ জকোভিচ

অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে বাধ্য হলেন টেনিস তারকা নোভাক জকোভিচ। - ছবি : সংগৃহীত

আইনি লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে রোববার অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে বাধ্য হলেন টেনিস তারকা নোভাক জকোভিচ। করোনাভাইরাসের টিকা বিষয়ে আইনি লড়াইয়ে হেরে যাওয়ায় টেনিসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২১তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতে খেলাটির সবচেয়ে সফল তারকায় পরিণত হবার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল এই সার্বিয় তারকার।

আদালতের সিদ্ধান্তে ‘খুবই হতাশ’ জোকোভিচ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন না বলে জানিয়েছেন। দীর্ঘ একযুগ ধরে আসরে আধিপত্য ধরে রাখা জকোভিচ বলেন,‘ আমি অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে পারছি না এবং অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে অংশ নিতে পারব না। আশা করি সবাই এই টুর্নামেন্টের দিকে মনোযোগ দিবেন, আমি এই টুর্নামেন্টকে ভালোবাসি।’

রোববার বিকেলে মেলবোর্নের টুলামারিন বিমানবন্দরে জকোভিচের একটি ছবি তুলেছেন এএফপির একজন সাংবাদিক। সেখানে তিনি দুবাইগামী একটি বিমানে চড়ে বসেছেন। ইকে ৪০৯ বিমানটি স্থানীয় সময় ১০.৫১টায় বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। এর এক ঘণ্টা আগে করোনার টিকা গ্রহণ না করা জকোভিচের ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দেয় অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল আদালতের তিন সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, জকোভিচ ভিসা পেলে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের মধ্যে টিকা গ্রহণ না করার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। দিনের প্রায় আধাবেলা শুনানির পর এই সিদ্ধান্ত নেয় ফেডারেল আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী স্টিফেন লয়েড বলেন, মাহামারীর দুই বছরেও টিকা গ্রহণ করেননি জকোভিচ। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেছেন। এমনকি কোভিড-১৯ সংক্রমিত হবার পরও আইসোলেশনে যাননি। তার টিকা বিরোধী কার্যক্রমের এ রকম অনেক উদাহারণ রয়েছে।

লয়েড বলেন, ‘তিনি এখন টিকা বিরোধী শিবিরের আইকনে পরিণত হয়েছেন। ইচ্ছাকৃতভাবেই হোক কিংবা অজান্তে, তিনি টিকা বিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিকৃৎ হয়ে উঠেছেন। এখানে তার উপস্থিতি এটিকে আরো উস্কে দিতে পারে।’

এদিকে আদালতের সিদ্ধান্তে ‘হতাশ’ জোকোভিচ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন না উল্লেখ করে আরো বলেন, ‘আমার ভিসা বাতিলের বিষয়ে মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত পর্যালোচনায় যে আবেদন আমি করেছিলাম, আদালত তা খারিজ করে দেয়ায় আমি সত্যিই হতাশ। এর অর্থ হচ্ছে, আমি অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে পারছি না, এবং অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে অংশ নিতে পারছি না।’

এদিকে এই ঘটনায় অস্ট্রেলিয় কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছেন সার্বিয় রাষ্ট্রপতি আলেক্সান্ডার ভুসিক। তিনি বলেন, ‘তারা (অস্ট্রেলিয়া কর্তৃপক্ষ) মনে করেছে ১০ দিনের ওই দুর্ব্যবহারের মাধ্যমে তারা জকোভিচকে অপমানিত করেছে। আসলে তারা নিজেদেরকেই অপমানিত করেছে। মাথা উঁচু করেই নিজ দেশে ফিরতে পারবেন জকোভিচ।’

সূত্র : বাসস


আরো সংবাদ


premium cement