০২ ডিসেম্বর ২০২০

রোবটের কাছে কি পরাজিত হবে মানুষ?

রোবটের কাছে কি পরাজিত হবে মানুষ? -

ভাবতে অবাক লাগলেও ১৮ চাকার লরি চালানো থেকে শুরু করে অপারেশন থিয়েটারে ভীষণ জটিল কোনো অস্ত্রোপচারের মতো কাজটিও এখন সফলভাবে করছে রোবট! তথ্যপ্রযুক্তির সুপারসনিক গতিতে আগানোর পাশাপাশি কোভিড-১৯ বাস্তবতায় আগামী পাঁচ বছরে মানুষকে টপকে যেতে পারে মানুষেরই হাতে তৈরি যন্ত্র রোবট!
কাল্পনিক কোনো গল্প নয়, সম্প্রতি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গবেষণায় দেখা গেছে, আগামী পাঁচ বছরে মাঝারি থেকে বড় ব্যবসায়ের সাড়ে ৮কোটি চাকরি চলে যাবে রোবটের হাতে। প্রায় ৩০০ বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের উপর বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম জরিপ চালিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি পাঁচজনের মধ্যে চারজন ব্যবসায়িক নির্বাহী-ই জানিয়েছেন ভিন্ন পরিকল্পনার খবর। তারা জানিয়েছেন, সামনে কর্মপরিবেশকে ডিজিটালাইজ করার পরিকল্পনা, নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগ করার কথা এবং ২০০৭-০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের সময় থেকে শুরু হওয়া কর্মসংস্থান অর্জনকে ঘুরিয়ে দেয়ার চিন্তার ব্যাপারে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিয়া জাহিদি জানিয়েছেন, কোভিড-১৯ কর্মক্ষেত্রের ভবিষ্যৎকে অনেক এগিয়ে নিয়ে এসেছে। অর্থনীতির পর্যবেক্ষক বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এই গবেষণা বলছে, আগামী পাঁচ বছর নিজ নিজ ভূমিকাতেই থাকবেন শ্রমিকরা। এদের মধ্যে অর্ধেককেই নতুন কোনো দক্ষতা অর্জন করে নিতে হবে। ২০২৫ সাল নাগাদ নিয়োগকারীরা মানুষ এবং যন্ত্রের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেবেন। কোভিড-১৯ বাস্তবতায় কর্মক্ষেত্রে যে পরিবর্তন আসছে তা সামনে বৈষম্য বাড়াবে।
এক কথায়, চাকরি তৈরি হচ্ছে ধীরগতিতে, কিন্তু চাকরি হারানোর ব্যাপারটি অনেক বেড়ে গেছে। কারণ বিশ্বের অসংখ্য প্রতিষ্ঠান ডাটা এন্ট্রি, অ্যাকাউন্টিং এবং প্রশাসনিক কাজে মানুষের বদলে প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে।
এর বাইরে সুসংবাদও রয়েছে। তদারক অর্থনীতিতে ৯ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। ফোরাম জানিয়েছে, প্রযুক্তি শিল্পের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কনটেন্ট নির্মাণ ইত্যাদি খাতে দেখা মিলবে এ ধরনের চাকরির। এ ধরনের কাজের বেলায় মানুষ ব্যবস্থাপনা, পরামর্শ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যুক্তি, যোগাযোগ এবং কথোপকথনে নিজেদের তুলনামূলক সুবিধা বজায় রাখতে পারবেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্রিয়াকলাপ, ‘কাটিং এজ ডাটা’ এবং পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন ইকোনমি’তে শ্রমিকদের জন্য চাকরির সুযোগ বাড়বে। প্রকৌশল, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং পণ্য উন্নয়নে নতুন ভূমিকা চোখে পড়বে।
জরিপে অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ৪৩ শতাংশ ব্যবসায়ই প্রযুক্তি প্রয়োগের কারণে জনশক্তি ছাঁটাই করবে, ৪১ শতাংশ ব্যবসায়ের ঠিকাদার ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, এবং প্রযুক্তি প্রয়োগের কারণে ৩৪ শতাংশ ব্যবসায় জনশক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি সাধিত হওয়ার ধারাবাহিকতায় পাল্টে যাবে যোগাযোগ, চিকিৎসা, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, সামরিক শক্তির মতো বিষয়াদি। এতে মানুষের আধুনিক জীবনও সংজ্ঞায়িত হবে নতুন করে। এ ধরনের ফলাফল গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনায় এআই নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে তথ্য জোগাবে। তবে মানুষের কর্মক্ষেত্র রোবটের দখলে চলে আসার শঙ্কাটা আগেই প্রকাশ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিদ ও লেখক জেরেমি রিফকিন। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত তার লেখা বই ‘ইন্ট অব ওয়ার্ক’-এ রিফকিন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, চাকরি নিয়ে মানুষের যে ধারণা, নিকট ভবিষ্যতে তা সেকেলে হিসেবে প্রমাণিত হবে।


আরো সংবাদ

আওয়ামী লীগের সভায় ছাত্রলীগ নেতার হামলা : প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ভাস্কর্য নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা বন্ধ করে ক্ষমা না চাইলে জনগণ জবাব দেবে : মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী অপশক্তি মোকাবেলা করে ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে : মামুনুল হক স্কুল ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়েছে দপ্তরি সংসদীয় সম্পর্ক উন্নয়নে একত্রে কাজ করবে বাংলাদেশ ও স্পেন : স্পিকার সৌদি আরবে ইমাম হোসাইন মসজিদটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ স্টেডিয়াম গুলো যেন মরু গোলাপ নোয়াখালীতে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, যুবক আটক চুয়েট-কুয়েট-রুয়েট নিয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষার পক্ষে বুয়েট রোমাঞ্চের জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো ভারত করোনার বদৌলতে যাদের গড়ে উঠেছে টাকার পাহাড়

সকল