১৫ জুলাই ২০২০

কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে ই-কমার্সের প্রসার বাড়ছে

কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে ই-কমার্সের প্রসার বাড়ছে -

রাজধানী ঢাকার অনেক পরিবারই এখন অনলাইনে পণ্য অর্ডার করছেন। কোভিড-১৯ বা কারোনা পরিস্থিতির কারণে কাঁচাবাজার-দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকটা বাধ্য হয়েই মানুষজন অনলাইনে কেনাকাটা করছেন। গত এক মাসে বড় ই-কমার্স কোম্পানিগুলো আর সুপার-স্টোরগুলোর অনলাইনে অর্ডার বেড়ে গেছে চার থেকে দশ গুণ। ই-কমার্সে প্রবৃদ্ধির একটি প্রধান পরিমাপ হচ্ছে গ্রস মার্চেন্ডাইজিং ভ্যালু (জিএমভি) বা কত টাকার অর্ডার পড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেটাও বাংলাদেশে বেড়েছে কয়েক গুণ। দারাজের মতো কোম্পানির বিক্রি বেড়েছে দুই বছরে ১০ গুণের বেশি।
গত ১৬ মার্চের পর থেকেই দেশের কিছু কিছু জায়গায় মানুষজন ঘরে নিজেদের গুটিয়ে আনা শুরু করে। গত ৮-৯ বছর থেকে চালডাল অত্যন্ত যতেœর সাথে ঢাকায় গ্রোসারি বিক্রি করে আসছে। তাদের অর্ডার পরের সপ্তাহেই চার গুণ হয়ে যায়।
দেশে আনুষ্ঠানিক বন্ধ ঘোষণা আসতে না আসতেই অন্যান্য কয়েকটি কোম্পানিও খুবই দ্রুত শাকসবজি ও শুকনো, নিত্যপ্রয়োজনীয় আইটেমে মনোযোগ দেয়Ñ দারাজ, আজকের ডিল কিংবা প্রিয় শপ খুচরা দরে এবং সিন্দাবাদ পাইকারি দরে স্যানিটাইজার, অ্যান্টিসেপ্টিকের পাশাপাশি রান্নার তেল, লবণ, ঘর পরিষ্কারের জিনিসপত্র ইত্যাদির পসরা নিয়ে আসে। এই সঙ্কটের মধ্যেই ইভ্যালি শুরু করেছে এক্সপ্রেস ডেলিভারি।
পাঠাও, সহজ, ফুডপান্ডা ইত্যাদির গ্রোসারি, মুদি পণ্য ও ওষুধসহ নানান পণ্য, স্বপ্ন ও অন্যান্য আউটলেট থেকে নিয়ে বাসায় পৌঁছে দেয়ার সেবা চালু করে। গোয়ালা দুগ্ধজাত পণ্যের পাশাপাশি গ্রোসারি সেবা চালু করেছে। ডেলিভারি হবে নামক নতুন একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গত মাস থেকে তাদের অপারেশন শুরু করেছে এবং বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছে বলে জানিয়েছে, ডেলিভারি হবে এর উদ্যোক্তা নাসিফ ফাতেমি।
ওয়াল স্ট্রিটের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বৈশ্বিক ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের জন্য কোভিড-১৯ মহামারী আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর সব ধরনের শিল্প খাত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লেও অ্যামাজনের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। নভেল করোনাভাইরাসের ফলে সংক্রমণ ঠেকাতে ঘরবন্দি রয়েছেন বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ। নিত্যপণ্য কেনা থেকে শুরু করে অন্যান্য কেনাকাটায় যারা প্রথাগত মার্কেট এড়িয়ে চলছেন। যার প্রভাব পড়েছে অ্যামাজনের ওপর। প্রতিষ্ঠানটি থেকে কেনাকাটা বৃদ্ধি পাওয়ায় শেয়ারের মূল্য এ সময়ের মধ্যে ৯ শতাংশ বেড়েছে। গত ফেব্র“য়ারির মাঝামাঝি পর্যায় থেকে এ পর্যন্ত অ্যামাজনের বাজার মূলধন বেড়েছে ৯ হাজার কোটি ডলার। এর সুবাদে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেফ বেজোসের সম্পদে যোগ হয়েছে আরো ৫০০ কোটি ডলার।
এ সঙ্কটের সময় অ্যামাজন প্রমাণ করল, নিত্যপণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিদ্বন্দ্বী এখন পর্যন্ত কেউ হয়ে ওঠেনি। এ প্লাটফর্মটির গ্রাহক সংখ্যা আগের চেয়ে আরো বেশি বাড়বে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিদ্যমান ক্রেতাদের কেনাকাটা আরো বাড়বে। আর এর ফলে কোম্পানির ব্র্যান্ডকে আরো প্রসারিত ও ব্যবসা সম্প্রসারণকে ত্বরান্বিত করতে পারবে।
এ মুহূর্তে ঘরবন্দী মানুষের হ্যান্ডস্যানিটাইজার, মুদিপণ্য, অফিস চেয়ারসহ অন্যান্য পণ্য সরবরাহ করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে অ্যামাজন। ওয়্যারহাউজে পণ্য সরবরাহ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যেও সেগুলো ব্যবস্থাপনা করা ও সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখা প্রতিষ্ঠানটির জন্য বেশ কঠিন হয়ে যাচ্ছে। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমসসহ সমালোচকরা মনে করেন, অ্যামাজন ওয়্যারহাউজের কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারছে না।
কাজের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে অ্যামাজন যেমন এক লাখ লোক নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে, বাংলাদেশে দারাজ, চালডাল, পাঠাও, সহজ, সিন্দাবাদ, ফুডপান্ডা, গোয়ালার মতো কোম্পানিগুলোও বহু গুণ অর্ডারের চাপ সামলাতে প্রচুর লোক নিচ্ছে।


আরো সংবাদ

এবার আল-আকসা উদ্ধারের ঘোষণা এরদোগানের(ভিডিও) (৬৮৫০)ডিজির অনুরোধে রিজেন্টের সাথে চুক্তির অনুষ্ঠানে গিয়ে ছিলাম : স্বাস্থ্যমন্ত্রী (৪৭৩৩)তুরস্ক-মিশরের পাল্টাপাল্টি হুঙ্কারে ভয়াবহ সংঘাতের পথে লিবিয়া (৪৭৩৩)ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে সেব্রেনিৎসা স্টাইলে গণহত্যার আশঙ্কা! (৪৪৬৯)রাম ভারতীয়ই নন, অযোধ্যা নেপালে (৪৪১২)বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার ছাড়ালো (৪১৭২)রামকে নিয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দাবিতে ভারতীয়দের প্রতিক্রিয়া (৩৭৩৮)রাম ভারতীয়ই নন, অযোধ্য নেপালে (৩৬৬০)মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান সিরাজ আর নেই (৩৬০২)ইরানের চাবাহার রেলপ্রকল্প : ভারত আউট, চীন ইন (৩৫৩৪)