০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯, ১৪ রজব ১৪৪৪
ads
`

আ.লীগের ইতিহাস লুটপাটের ইতিহাস : ডা. জাহিদ

মহানগর বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথিসহ অন্য নেতারা - ছবি : নয়া দিগন্ত

সিলেটে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস লুটপাটের ইতিহাস, গণতন্ত্রকে হত্যা করার ইতিহাস।

বুধবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে যুগপৎ আন্দোলনের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গণতন্ত্র হত্যা দিবসে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ১০ দফা দাবিতে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় গণতন্ত্রের কথা বলে, মানুষের মুক্তির কথা বলে। তাই বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য ১০ দফা আন্দোলন করছে। কিন্তু স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ মাত্র তিন বছরে দেশে গণতন্ত্রকে হত্যা করে লুটপাটতন্ত্র কায়েম করেছিল। মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশল সিরাজ শিকদারকে রক্ষিবাহিনী হত্যা করেছিল। তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে। কিন্তু মনে-প্রাণে তা বিশ্বাস করে না। তারা শুধুমাত্র আওয়ামীতন্ত্রে বিশ্বাস করে। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের মতো তারা আবারো ভোটচুরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের এই ষড়যন্ত্র সফল হবে না।

৪ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো দিনই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। কারণ বাকশালের বিল সংসদে আসার পর ছয়জন এর বিরোধিতা করেছিলেন। মাত্র ১১ মিনিটের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী হয়ে সংসদে প্রবেশ করা শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি হয়ে সংসদ থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। রাষ্ট্রপতি হতে কোনো ভোটের প্রয়োজন হয়নি। এখনো ভোটের প্রয়োজন হয় না।

দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে প্রচার করে আজ কানাডা, মালয়েশিয়া ও লন্ডনে বেগমপাড়া তৈরি হচ্ছে, সেকেন্ড হোম তৈরি হচ্ছে। আর দেশে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বার বার বাড়ানো হচ্ছে। দেশে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কেউ ভালো নেই। তাই এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে গণঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। কেবলমাত্র গণঐক্য সৃষ্টি করতে পারলেই দেশে গণতন্ত্র কায়েম হবে, মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, বেগম জিয়াকে মুক্ত করা যাবে, দেশের মানুষ শান্তিতে বাঁচতে পাবরে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করেছিলেন। আমরাও দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না করে রাজপথ ছাড়ব না।

বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সিলেট মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমাইয়ুন কবির শাহীন ও রেজাউল হাসান কায়েস লোদীর যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক
সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও কেন্দ্রীয় সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে দেশের মানুষ অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করছে। অনেক মানুষ এখন দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানুষ কষ্টে আছে। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র চায় না।

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজিবুর রহমান নজিব, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, জেলা যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মুমিনুল ইসলাম মুমিন, মহানগর যুবদলের সভাপতি শাহনেওয়াজ বক্ত চৌধুরী তারেক, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাহবুবুল হক চৌধুরী, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আহমদ মকসুদ, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মির্জা সম্রাট হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাকিল মোর্শেদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আফসর খাঁন, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সুরমান আলী, মহানগর শ্রমিক দলের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন জীবন, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক এ কে এম তারেক কালাম, জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব তাজরুল ইসলাম তাজুল, জেলা মহিলা দলের সভাপতি সালেহা কবির শেপী, মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা জামান রুজি, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন, সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এ্যাষ, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনার, জেলা জাসাসের সদস্য সচিব রায়হান এইচ খান প্রমুখ।

বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মিছবাহ উদ্দিন, এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সৈয়দ মঈনুদ্দিন সুহেল, সালেহ আহমদ খসরু, সৈয়দ মিছবাহ উদ্দিন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাসুদ আহমেদ, মাহবুব কাদির শাহী, নুরুল আলম সিদ্দিকী খালেদ, আখতার রশিদ চৌধুরী, আমির হোসেন, মাহবুব কাদির শাহী, মুকুল মোর্শেদ, হুমায়ুন আহমেদ মাসুক, আক্তার রশিদ চৌধুরী, নুরে আলম সিদ্দিকী খালেদ, আফজাল হোসেন, আবুল কালাম ও সৈয়দ সাফেক মাহবুবসহ অন্য নেতাকর্মীরা।

 


আরো সংবাদ


premium cement