০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

সিলেটে প্রবাসী বাবা-ছেলের মৃত্যু : রয়েছে অজানা রহস্য

সিলেটে প্রবাসী বাবা-ছেলের মৃত্যু : রয়েছে অজানা রহস্য - ছবি : সংগৃহীত

ঘরের মধ্যে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন একই পরিবারের পাঁচজন। তারা সবাই যুক্তরাজ্য প্রবাসী। দরজা ছিল ভেতর থেকে বন্ধ। পুলিশ দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে মারা যান বাবা-ছেলে। সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার এ ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তাদের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে পারেনি কেউ। না পুলিশ, না চিকিৎসকরা। কিভাবে এমন ঘটনা ঘটল তাও এখন পর্যন্ত খুঁজে বের করতে পারেনি পুলিশ। ফলে পুরো ঘটনাই এখন পর্যন্ত রহস্যাবৃত।

এ পর্যন্ত কয়েকটি ধারণার ওপর ভিত্তি করে এগোচ্ছে এ ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম। পুলিশের ধারণা, বাবা-ছেলে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় বা গরমে পর্যাপ্ত বাতাস ও অক্সিজেনের অভাবে অথবা বিষাক্ত কিছু নাকে-মুখে স্প্রে করার কারণে মারা যেতে পারেন। হতাহতরা নিজেরাই এমনটি করে থাকতে পারেন, দুর্ঘটনাবশত এটি ঘটে থাকতে পারে অথবা বাইরের কেউ তাদের হত্যা করতে পারে- এই তিন ধারণা মাথায় রেখেই তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে পুলিশ।

এদিকে আর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনজনের মধ্যে নিহত রফিকুলের মেয়ে সামিরা ইসলামের অবস্থার শুক্রবার আরো অবনতি হয়েছে। তার অবস্থা শঙ্কটাপন্ন বলে জানা গেছে। তাদের চিকিৎসায় মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেছে ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে ওসমানীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, গত বুধবার রাতেই নিহত প্রবাসী রফিকের শ্যালক দেলোয়ার হোসেন ওসমানীনগর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। এখন পর্যন্ত বলার মতো কোনো অগ্রগতি নেই। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কেও চিকিৎসকরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।

তিনি বলেন, খাদ্যবিষক্রিয়া কিংবা বিষাক্ত কিছু স্প্রে করার কারণেও তারা হতাহত হতে পারেন। আবার গরমে শ্বাসরুদ্ধ হয়েও তারা মারা যেতে পারেন। কারণ তারা শীতের দেশ থেকে এসেছেন আর দেশে এখন প্রচুর গরম। তাছাড়া তারা যে কক্ষে ছিলেন সেখানে এসি ছিল না, তার ওপর এক কক্ষে পাঁচজন ছিলেন।

এই সবগুলো বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছেন জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রথমে আমরা তাদের আত্মীয়দের সন্দেহ করেছিলাম। তাদের অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কথাবার্তায় সন্দেহজনক কিছু পাইনি। তবে তারা আমাদের নজরদারিতে রয়েছেন। এছাড়া নিহত প্রবাসীর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ বা পারিবারিক কলহের কোনো তথ্যও কেউ দিতে পারছে না।

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, আমরা ধারণা করছি খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে এমনটি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারিনি। ময়নাতদন্তে তাদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে মৃত্যু কিনা তা রিপোর্ট আসার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাঈন উদ্দিন বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হুসনেআরা বেগম ও তার ছেলে সাদিকুল ইসলাম কিছুটা সুস্থ হয়েছেন। তাদের সাথে পুলিশ কথা বলেছে। তবে তদন্তে অগ্রগতি হওয়ার মতো কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সিলেটের ওসমানীনগরে তাজপুর স্কুল রোডের একটি বাসা থেকে এক পরিবারের পাঁচ যুক্তরাজ্য প্রবাসীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। হাসপাতালে নেয়ার পর রফিকুল ইসলাম ও তার ছোট ছেলে মাইকুল ইসলাম মারা যান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হুসনেআরা বেগম , ছেলে সাদিকুল ইসলাম এবং মেয়ে সামিরা ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রবাসীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে বসবাস করে আসছেন রফিকুল ইসলাম। অসুস্থ ছেলে সাদিকুল ইসলামকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য গত ১২ জুলাই সপরিবারে দেশে ফেরেন। এক সপ্তাহ ঢাকায় ছেলের চিকিৎসা শেষে ১৮ জুলাই উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অরুনোধয় পাল ঝলকের মালিকানাধীন বাসার দ্বিতীয় তলা ভাড়া নেন।

 


আরো সংবাদ


premium cement