১৮ জানুয়ারি ২০২২
`

শাল্লার ঘটনায় স্বাধীনসহ ২৯ জনের রিমান্ড শুরু, গ্রেফতার আরো ৪

শাল্লার ঘটনায় স্বাধীনসহ ২৯ জনের রিমান্ড শুরু, গ্রেফতার আরো ৪ - ছবি : নয়া দিগন্ত

দেশব্যাপী আলোচিত সুনামগঞ্জের শাল্লার নোয়াগাঁও হিন্দু বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি যুবলীগ ওয়ার্ড সভাপতি ও ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম স্বাধীনসহ ২৯ আসামির রিমান্ড শুরু হয়েছে। জানা যায়, পর্যায়ক্রমে ১৫ দিনের মধ্যে রিমান্ড শেষ করা হবে তাদের।

সুনামগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো: সেলিম নেওয়াজ বলেন, আদালত ১৫ দিনের মধ্যে সকলের রিমান্ড শেষ করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। শনিবার থেকে পুলিশ আসামিদের রিমান্ড কার্যক্রম শুরু করেছে।

এ ঘটনায় গ্রেফতার শহীদুর ইসলাম স্বাধীন মিয়ার পাঁচ দিনের ও অন্য ২৮ জন আসামিকে দু’দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এর আগে গত রোববার বিকেলে পুলিশ সুনামগঞ্জ বিচারালয়ের শাল্লা জোনের বিচারক আমল গ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্যামকান্ত সিনহার আদালতে গ্রেফতার ২৯ জনকে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করেন। পরে আদালত তাদেরকে রিমান্ডের আদেশ দেন।

আরো ৪ জন গ্রেফতার
এ দিকে নোয়াগাঁও গ্রামে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় মামলায় আরো চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে শাল্লার ওই ঘটনায় ৩৮ জনকে গ্রেফতার করা হলো। শনিবার ওই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়েছেন শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক। পরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ওসি আরো বলেন, এখন এলাকার পরিবেশ ও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে।

ঝুমন দাসের ফেসবুকে দেয়া পোস্ট ও ভরাম হাওরের একটি জলমহালের পানি সেচকে কেন্দ্র করে গত ১৭ মার্চ শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামে হিন্দুবাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। হামলা ও ভাংচুরে নেতৃত্বে ছিলেন দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাচনী গ্রামের মেম্বার ও ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি শহীদুল ইসলাম স্বাধীন ও তার আরেক সহকারী পক্কন মিয়া।

এ ঘটনায় ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় থানায় পৃথক দু’টি মামলা করা হয়। নোয়াগাঁও গ্রামবাসীর পক্ষে একটি মামলা করেন হবিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল। অন্য মামলাটি করেন শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল করিম। দেশব্যাপী আলোচিত শাল্লার ওই ঘটনায় ‘আওয়ামী যুবলীগ নেতা শহীদুল ইসলাম স্বাধীনকে ২০ মার্চ দিবাগত রাতে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন’ (পিবিআই)। তবে জেলা যুবলীগ দাবি করেছে, শহীদুল ইসলাম স্বাধীন যুবলীগের কেউ না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জানান, শহীদুল ইসলাম স্বাধীন আওয়ামী যুবলীগের ওয়ার্ড সভাপতির পরিচয় দিয়ে ও বর্তমান মেম্বার হওয়ায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছেন বহু বছর ধরে। এলাকাবাসীর দাবি, স্বাধীন মেম্বরসহ তার সহযোগী পক্কন মিয়া ও অন্য অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।


আরো সংবাদ


premium cement