১৭ এপ্রিল ২০২১
`
কাজ করবেন বিশ্বের নামকরা চায়নার ইস্টপ হারমোনিকা কোম্পানির সাথে

জামালগঞ্জের এ্যানি চৌধুরী হারমোনিকা ব্র্যান্ডের প্রথম বাংলাদেশী বাদক

জামালগঞ্জের এ্যানি চৌধুরী হারমোনিকা ব্র্যান্ডের প্রথম বাংলাদেশী বাদক - ছবি : নয়া দিগন্ত

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার হাওড় পাড়ের ঐতিহ্যবাহী ফেনারবাঁক গ্রামের আসাদ চৌধুরী এ্যানী হারমোনিকা ব্র্যান্ডের প্রথম বাংলাদেশী বাদক। সম্প্রতি চায়নার বিশ্বের নামকরা হারমোনিকা ব্র্যান্ড ‘ইস্টপ হারমোনিকা কোম্পানির সাথে কাজের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এই কোম্পনির নাম করা পাঁচজন আর্টিস্টের মাঝে বাংলাদেশী তিনিও একজন। এ্যানি চৌধুরী দেশে পেশাদার হারমোনিকার পরিচয় করানোর চেষ্টা করে চলেছেন বেশ কয়েক বছর থেকে। ফেসবুক-ইউটিউবে ইন্সট্রুমেন্টাল ভিডিও, হারমোনিকা লেসন, রিভিউ আপলোড করে সেই চেষ্টারই প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন তিনি। এ কারণে তার পরিচিতি দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও।

সম্প্রতি বিশ্বের নামকরা হারমোনিকা ব্র্যান্ড চায়নার ইস্টপ হারমোনিকা কোম্পানির সাথে কাজের সুযোগ পাওয়া নিয়ে এ্যানী জানান, Easttop Harmonica Company. তাকে অফিশিয়াল হারমোনিকা আর্টিস্ট হওয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি তাদের সাথে এক বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। এই প্রথম বাংলাদেশ থেকে কেউ ইন্টারন্যাশনাল কোনো হারমোনিকা কোম্পানির অফিশিয়াল আর্টিস্ট হলেন। অল্প বয়স থেকেই বাদ্যযন্ত্রের সাথে সখ্যতা ছিল এ্যানীর। তার বাজানো হারমোনিকা, বেহালা, গিটার ও বাঁশি টান দিচ্ছে শেকড়ের দিকে।

অষ্টম শ্রেণীতে পড়াকালীন নিজে নিজে গিটার বাজানোর চেষ্টা করতেন এ্যানী। সাথে অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রের প্রতিও দুর্বলতা ছিল তার। তারই ধারাবাহিকতায় দশম শ্রেণীতে একটি সাধারণ হারমোনিকা কেনেন এবং টুকটাক বাজানো শুরু করেন। এক সময় তিনি বুঝতে পারেন, বাংলাদেশের মিউজিকে হারমোনিকার প্রচলন বলতে গেলে হয়ই না। তখনই হারমোনিকা বাজানোয় পেশাদার হওয়ার পরিকল্পনা মাথায় আসে তার। শিখিয়ে দেয়ার মতো কেউ না থাকায় এ্যানী নিজেই রাস্তা খুঁজে নেন। স্কেল বেসিক জানা থাকায় প্রথম পর্যায়েই আয়ত্তে চলে আসে হারমোনিকা। কিন্তু পেশাদার হিসেবে যখন বাজানোর চেষ্টা করেন, তখন বুঝতে পারেন ব্যাপারটা এতটা সহজ নয়। তখন হারমোনিকার পেছনে আরো বেশি সময় দেয়া শুরু করেন। তিনি বলেন, পরিবার থেকে সব সময় এ বিষয়ে উৎসাহ পেয়েছেন।

একপর্যায়ে বিশ্বের নামকরা বাদকদের শুনতে থাকেন। চেষ্টা করেন তাদের মতো বাজাতে। এভাবে ধীরে ধীরে সুর, তাল, লয় আয়ত্তে এনে নিজেকে প্রকাশ করেন তিনি। কিন্তু সমস্যা দাঁড়িয়ে যায় বাংলাদেশে ভালো প্রফেশনাল সাউন্ডের হারমোনিকা না পাওয়ায়। তখন তার এক বড় ভাই ফ্রান্স থেকে এক সেট ভালো হারমোনিকা গিফ্ট পাঠান।

এ ব্যাপারে আসাদ চৌধুরী এ্যানী জানান, ফেসবুক ও ইউটিউবে তার বাজানো ছড়িয়ে পড়লে দিন দিন ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীর সংখ্যা বেড়ে যায়। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন হারমোনিকার ছাত্রও পেয়ে যান তিনি। এ্যানীর ভাষ্য, ‘এভাবেই শখের বশে শেখা হারমোনিকা আমার পেশা হয়ে ওঠে।’ নিয়মিত হারমোনিকা ইন্সট্রুমেন্টাল আপলোড করায় জলের গানের সাথে যোগাযোগ হয়। গানের দলটির প্রতিষ্ঠাতা রাহুল আনন্দ তাকে খুবই উৎসাহ দিতে থাকেন। সিলেটে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বড় লাইভ প্রোগ্রামে জলের গানের সাথে এ্যানীর হারমোনিকা বাজানোর সুযোগ হয়।

করোনাকালীন ফ্রন্টলাইনারদের নিয়ে দলটির প্রকাশিত গানে তার গুরুত্বপূর্ণ হারমোনিকা পার্ট রয়েছে। এ ছাড়া সিলেটে চার বছর ধরে স্থানীয় ব্যান্ডের সাথে নিয়মিত স্টেজ শো করে আসছেন এ্যানী। এ্যানী চৌধুরীর বাবা জুলফিকার চৌধুরী রানা জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নয়া দিগন্ত’র সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপের ভাতিজা।

নিজের কাজ ও পরিকল্পনা নিয়ে এ্যানী বলেন, হারমোনিকাকে এ দেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ থেকেও অনেক আন্তর্জাতিক হারমোনিকা বাদক বের হয়ে আসবে সেই স্বপ্নই লালন করি এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।



আরো সংবাদ