৩০ অক্টোবর ২০২০

ঘাস বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহকারী ইসমাইলের জীবনকথা

ইসমাইলের পেশা গবাদি পশুর খাদ্য-ঘাস আর জগাধান বিক্রি করা। - ছবি : নয়া দিগন্ত

মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার মনু কূলের গ্রাম একামধু। সেই গ্রামেই ছিল ইসমাইল মিয়ার বসবাস। এক সময় তার সবই ছিলো। সাজানো গুছানো বাড়িঘর। সুখ-শান্তির সংসার। ক্ষেত-খামারের আয়-রোজগারেই জীবন চলতো তার। কিন্তু অব্যাহত নদী ভাঙ্গন তার সবকিছু কেড়ে নিয়ে গেছে। নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে কয়েক বছরেই নিঃস্ব হয়ে যান। সংসারে নেমে আসে অভাব-অনটন।

পরিবার-পরিজন নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে আসেন একই ইউনিয়নের দক্ষিণটেংরা গ্রামে। এখানে একটি ভাড়া বাড়িতে বউ বাচ্চা নিয়েই এখন বসবাস করছেন। সংসার চালাতে জীবিকার সন্ধান করেন তিনি। অবশেষে গবাদি পশুর খাদ্য ঘাস আর জগাধান বিক্রি করেই চলে তার জীবন। অনেকে নানাভাবে নানা পেশায় জীবন চালালেও তার পেশা গবাদি পশুর খাদ্য-ঘাস আর জগাধান বিক্রি করা।

শরতের এক দুপুরে দেখা মিলে ইসমাইলের। তিনি রাজনগর উপজেলার টেংরাবাজার শহীদ সুর্দশন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের গেইটের পাশে দাঁড়িয়ে গবাদি পশুর এসব খাবার বিক্রি করছিলেন। এ সময় তার সাথে কথা হলে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন জীবন আর জীবিকার কথা।

প্রতিদিন গবাদি পশুর এসব খাদ্য হাওর থেকে কিনে নিয়ে আসেন। একেক আঁটি ধানগাছ ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হয়। মাঝে কিছু ভালো দাম পাচ্ছিলেন। তবে তার দেখাদেখি আরো কয়েকজন এ পেশায় এগিয়ে আসায় দাম পড়ে গেছে। এখন প্রতি আঁটি ১০ টাকাতেই বিক্রি করতে হয়।

জগাধানের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানালেন, চাষিরা হাওরে এসব ধান চাষ করে। এ পর্যন্ত তিনবার এ ধান কাঁটা হয়েছে। আবারো ধানের গোড়া থেকে পাতা গজাবে। আবারো বিক্রি হবে। এ জগাধান বারো মাসই কিনতে পাওয়া যায়। তবে হাওরের ঘাসে রয়েছে অনেক কদর। পৌষ থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত মিলে এসব ঘাস।

জানা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু গো-খামারি এক সময় তার কাছ থেকে নিয়মিত ঘাস কিনে নিতেন। এতে একটু লাভ বেশি ছিলো কষ্টও ছিলো কম। সম্প্রতি এসব খামারিরা না আসাতে সারাদিন বসেই কাঁটাতে হয়। তবে প্রতিদিন দুই থেকে তিন শ’ আঁটি বিক্রি হয়ে থাকে।

তিনি জানান, গাড়ি ভাড়া ও শ্রমিক খরচ ছাড়াও এর অনেক ব্যয় রয়েছে। তারপরও দিন শেষে চার-পাঁচ শ’ টাকা আয় হয়। আর এ দিয়েই কোনোমতে পরিবারের চার সদস্যের মুখের খাবার জোগাচ্ছেন তিনি। এ ঘাস বিক্রির টাকার আয় দিয়ে তিনি দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ছে এক ছেলে- শরীফ। আর ছোট ছেলে আরফিন পড়ছে দ্বিতীয় শ্রেণীতে। করোনার এ ভীতিকর জীবনে ইসমাইল মিয়ার এখন একটাই স্বপ্ন- সুস্থভাবে বেঁচে থাকা।


আরো সংবাদ

সুবিধাজনক অবস্থায় আজারবাইজান, বিশাল এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ঘরে ফিরল ক্রিকেট, জিম্বাবুয়েকে ২৬ রানে হারালো পাকিস্তান ‘ফ্রান্সকে বয়কট করা ঈমানি দায়িত্ব’ মহানবী (সা:)-কে অবমাননার প্রতিবাদে বগুড়ায় তৌহিদি জনতার ঢল ফ্রান্স-ভারতসহ ইসলামের দুশমনদের পণ্য বর্জন করুন : মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচেই জয় পেল পাকিস্তান আবদুল জলিলের ইন্তেকালে জামায়াতের শোক ফ্রান্সে ইসলামের অবমাননার প্রতিবাদে ঢাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ ৫০ ফুট লম্বা অজগর নিয়ে তোলপাড়, জানুন আসল রহস্য(ভিডিও) বঙ্গোপসাগরে ভারতের মিসাইলের আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ তুরস্কে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৪

সকল

নারীদের হিজাব, পুরুষের টাকনুর ওপর পোশাক পরে অফিসে আসার নির্দেশ (৪০৩৯৪)অফিসে ধর্মীয় পোশাক, নোটিশ প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশ (১৮১৬০)ফরাসিদের শাস্তি দেয়ার অধিকার মুসলমানদের রয়েছে : মাহাথির (১১০৪১)সরব হচ্ছেন হাজী সেলিমের ভিকটিমরা (৯৯১১)আর্মেনিয়ার দুটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করলো আজারবাইজান (৯২২৮)র‌্যাবের শীর্ষ কমান্ডারদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটরদের আহ্বান (৭৮৩০)ঢাকায় আসছেন এরদোয়ান (৭৭৫৯)রংপুরের জুয়েলকে যে অভিযোগে হত্যা করা হয়েছে তা মানতে রাজি নয় স্বজনরা (৭৬৬৮)জি কে শামীমকে জামিনে সহায়তার অভিযোগে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে দুদকে তলব (৬৭৫৫)অফিসে ধর্মীয় পোশাক, যে যুক্তি দিলেন জনস্বাস্থ্যের পরিচালক (৫৪৫৯)