০৯ আগস্ট ২০২০

সুনামঞ্জের হাওরে বাড়ছে পানি অজানা আতংকে লাখো মানুষ

সুনামঞ্জের হাওরে বাড়ছে পানি অজানা আতংকে লাখো মানুষ - সংগৃহিত
24tkt

টানা ৬দিনের ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, দিরাই-শাল্লাসহ সব ক’টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও হাওর প্লাবিত হয়েছে। হাওরের বিছিন্ন গ্রামের বানবাসীরা তাদের গরু, ছাগল, হাস-মুরগীসহ গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

একদিকে পানি বৃদ্ধি অন্যদিকে হাওরের ঢেউয়ে তাদের মনে অজানা শংকা বিরাজ করছে। উজানের পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও জেলা শহর ও উপজেলা শহরে রাস্তাঘাট, বাসাবাড়িতে পানি থাকায় পানিবন্দি রয়েছেন লাখ-লাখ মানুষ। জেলার ছাতক দোয়ারাবাজার, তাহিরপর বিশ্বম্ভরপুর ,দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, দিরাই ও শাল্লা এই সমস্ত উপজেলার নিম্নাঞ্চলে এখন পানি বাড়তে শুরু করায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে বলে জানিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড। গ্রামীণ পর্যায়ে অনেকের বাড়িতে পানি উঠায় গরু-ছাগল, হাসমুরগী নিয়ে কোন রকম রাত দিন পার করছেন তারা। হাওরের বিছিন্ন গ্রামগুলোতে চারিদিকে ঢেউ ও পানি বাড়ায় গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় সোমবার শহরের ষোলঘর পয়েন্টস্থ সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল যা গতকালের চেয়ে ১১ সেন্টিমিট্রা কম হলেও জেলা শহরের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও বাসা বাড়ি পানির নীচে তলিয়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় ৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ শহরের কাজির পয়েন্ট, উকিলপাড়া, নতুনপাড়া, বড়পাড়া সাহেববাড়ি ঘাট, ষোলঘর হাজিপাড়া, জামতলাসহ অধিকাংশ এলাকার বাসাবাড়িতে পানি থাকায় লোকজন ঘরের বাহিরে বের হতে না পারায় খাদ্য সংকটে রযেছেন লাখো পরিবার। সুনামগঞ্জ শহরের ছাড়াও জেলার ১১ উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে অসংখ্য কাচাঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ রোপ আমন, পুকুরের মাছ নদীর পানিতে ভেসে গিয়েছে গবাধি পশুর খাদ্য সংকট ও চরম আকার ধারণ করেছে। জেলা শহরের সাথে জামারগঝাচ-সাচনাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর-তাহিপুর, দিরাই শাল্লার একমাত্র সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

জেলা প্রশাসন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুন থেকে দুই দফা বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে সরকারের নির্দেশে প্রশাসন বন্যার্তদের জন্য ৮৫৫ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৪৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, শিশু খাদ্য হিসেবে ২ লাখ টাকা ও গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে আরো ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে তা প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে ৮৫৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে খুলে ২ হাজার ২৯৭টি পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। তাদের শুকনো খাবারের প্যাকেজ দেয়া হয়েছে।

সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরিফুল ইসলাম, পৌরসভার মেয়র নাদের বখত জেলা সদরের ৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া ৬৫০টি পরিবারের মাঝে খিচুরি বিতরণ করেন। দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের ১২টি গ্রামে বন্যায় ঘরবন্দি ক্ষতিগ্রস্থ কর্মহীন ২৮০টি অসহায় পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ১০ কেজি চাল ও ১ কেজি ডালসহ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন চেয়ারম্যান রতন কুমার দাস তারুকদার। জামালগঞ্জের বেহেলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পানি বন্ধি মানুষকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন সুনামগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান, জেলায় আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে অশ্রয় নেয়া বন্যাতদের মাঝে মাঝে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে শুকনো খাবার চিড়া, মুড়ি, গুড়, স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট প্রদান করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।


আরো সংবাদ