০৯ আগস্ট ২০২০

সুনামগঞ্জে বন্যায় হাওরাঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট

সুনামগঞ্জে বন্যায় হাওরাঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট - ছবি : নয়া দিগন্ত
24tkt

সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল বাড়তে থাকায় বন্যা দেখা দেয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উপজেলাগুলোর নিন্মাঞ্চলে বসত বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে অনেক এলাকায়। ফলে ডায়রিয়া ও পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

জানা যায়, ভারতীয় পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টি হওয়ায় পানি দ্বিতীয় দফায় বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। দুর্গত মানুষকে সহায়তা দিতে সরকারের পক্ষ থেকে নগদ টাকা ও চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

ডায়রিয়া ও পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দূর করতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সুনামগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। সুনামগঞ্জ পৌর এলাকা ও প্রতি উপজেলায় পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট দেয়া হয়েছে।

এদিকে জেলার সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর, তাহিরপুর বাদাঘাট সড়কে সড়কে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বিভিন্ন স্থাপনা পানিতে তলিয়ে গেছে। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তাহিরপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অর্ধশতাধিক গ্রামে লাখো মানুষ পানিবন্দি হওয়া সহ বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে পড়ছেন।

সুনামগঞ্জ জেলা শহরের জামতলা এলাকার আশরাফুল ইসলাম সুমন বলেন, আমাদের টিউবওয়েল পানির নিচে। জমানো কিছু পানি ছিল সেটা দিয়েই চলছে। ডায়রিয়া ও পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব যেকোনো সময় হতে পারে। এজন্য সবকিছু নিয়ে বড় বিপদে আছি।

টাংগুয়ার হাওর পাড়ের বাসিন্দা সাজিদুর মিয়া জানান, প্রথম দফা বন্যার পানি ঠিকমতো সরেনি। এরই মধ্যে দ্বিতীয় দফা বন্যায় বসত বাড়িতে এখন পানি। গত ১০ দিনের ব্যবধানে দুইবার বন্যায় প্লাবিত হওয়ার বিশুদ্ধ পানিসহ চরম ক্ষতি আর দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন গরীব, অসহায় ও দিন মজুর পরিবার। হাওর পাড়ে হাওরের ঢেউ ও নদীর প্রবল শ্রোতের পানি আর বাতাসের শো শো আওয়াজে ভীত হয়ে পড়েছেন হাওর পাড়ে বসবাসকারী মানুষজন।

বালিজুড়ি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য দক্ষিণকূল গ্রামের বাসিন্দা বাবুল মিয়া জানান, পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে দক্ষিণকূল গ্রামের সব রাস্তাঘাট ভেঙ্গে গেছে। গ্রামের কোনো পরিবারই রান্নাবান্নার কাজ করতে পারছে না। তারা শুকনো খাবার সংগ্রহ করে চাহিদা মেটাচ্ছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদ্মাসন সিংহ বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানিতে তাহিরপুরের গ্রামীণ অবকাঠামো অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবারো বন্যায় মানুষের বাড়িঘরে পানি উঠছে। একই সাথে গবাদিপশু নিয়েও তারা সমস্যায় পড়েছেন। প্রশাসন তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছে।

সুনামগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, যেখানে টিউবওয়েলের ব্যবস্থা নে,ই সেখানে আমরা অস্থায়ী টিউবওয়েল স্থাপনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করছি। পানি সংক্রান্ত যেকোনো অসুবিধায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর জানান, শনিবার সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে সেন্টিমিটার যাদুকাটা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৩ সেন্টিমিটার ও সুরমা নদীর পানি ৭৬ সেন্টিমিটার বেশি বেড়েছে। সুনামগঞ্জে আরো তিন দিন বৃষ্টিপাত হবে এতে করে পানি আরো বাড়বে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ জানান, বন্যায় দুর্গতদের জন্য প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, অর্থসহ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক প্রতিটি উপজেলা ও প্রত্যান্ত অঞ্চলের খবর রাখছি।


আরো সংবাদ