১২ আগস্ট ২০২০

ভারতে গরু চোরাকারবারির হাতে গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশী যুবকের মৃত্যু

নিহত মঞ্জুল হক - ছবি : নয়া দিগন্ত
24tkt

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় এক যুবক ভারতের গরু চোরাকারবারির হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই দিন পর মারা গেছেন। নিহত মঞ্জুল হক (২২) উপজেলার ভারতের সীমান্তবর্তী উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের মাজেরচড়া (বাঙ্গাল ভিটা) গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে।

প্রত্যক্ষ্যদর্শী এবং তার স্বজন ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন দুপুরে প্রতিবেশী বাচ্ছু মিয়ার চায়ের দোকানে কেরামবোট খেলছিলেন মঞ্জুল। এর কিছুক্ষণ পর তার প্রতিবেশী ভারতীয় গরু পাঁচারকারী চক্রের হোতা তাহের আলীর ছেলে ফরিদ (২৪) লতিফ মিয়ার ছেলে লাদেন (২০) ও মুনসুর মিয়ার ছেলে বাবু (২০) মঞ্জুল হককে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন প্রকার প্রলোভনের মাধ্যমে গরু আনতে রাজি করায়। ওই দিন বিকেল ৫টায় ভারতের মাঝের চড়া বিএসএফ ক্যাম্প পাড়ি দিয়ে প্রায় তিন কিঃমিঃ ভারতের ভিতর গহীন জঙ্গলে একটি গর্তের ভিতর নিয়ে ফরিদ, লাদেন ও বাবু ওই তিনজন প্রথমে ফরিদ মিয়ার দেশীয় সট গান দিয়ে মঞ্জুল হকের কোমরে গুলি করে। পরে রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারি আঘাত করলে মঞ্জুল হকের শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে মুমূর্ষ অবস্থায় পড়ে থাকে। এ সময় খুনিরা মঞ্জুল হকের মৃত নিশ্চিত ভেবে দ্রুত বাড়িতে চলে আসে।

এর ঘণ্টাখানেক পর গুরুতর আহত মঞ্জুল হকের জ্ঞান কিছুটা ফিরে আসলে দেখে তার পাশে গর্তের ভিতর তার মোবাইল ফোনের রিংটন বাজছে। তখন আহত মঞ্জুল হক কোনো মতে মোবাইলটি হাতে নিয়ে রিসিভ করে খুনি তিনজনের নাম উল্লেখ করেন। এবং সে আহত অবস্থায় কোন জায়গায় আছেন বলেন। পরে ওই ব্যক্তি তার স্বজনদের জানানোর পর মঞ্জুল হকের চাচা আবু সায়েদ, বড় ভাই জয়নাল হক ও মামা জাহেদ আলী ঘঠনাস্থলে গিয়ে মঞ্জুল হককে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ জুন বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলার মধ্যনগর থানায় মামলা দায়েরের জন্য গেলে ওই থানার ওসি মামলা নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন বলে জানা যায়।

এ ব্যাপারে মধ্যনগর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মোঃ আব্দুল্লাহ আলমামুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বাঙ্গাল ভিটা গ্রামের মোঃ সুরুজ মিয়ার ছেলে মঞ্জুল হক ভারতে গরু চুরি করতে গিয়ে তার দলের লোকজনের সাথে ঝগড়া করে গারোদের গুলিতে আহত হন। চিকিৎসারত অবস্থায় দুই দিন পর তিনি মারা যান। সম্পূর্ণ ঘটনা ভারতে, মামলা যদি করতে হয় তাহলে ভারতে করতে হবে। আমাদের এখতিয়ারের বাহিরে।

মৃত মঞ্জুল হকের বাবা সুরুজ মিয়া, চাচা আবু সায়েদ, বড় ভাই জয়নাল হক সহ তার স্বজনরা সিলেটের ডাককে বলেন, আমাদের প্রতিবেশী ফরিদ, বাবু ও লাদেন তারা তারা পরিকল্পিতভাবে ২২ জুন মঞ্জুল হককে প্রলোভনের মাধ্যমে ভারতে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেছে। তবে আসামিরা পলাতক রয়েছে।

বংশীকুন্ডা ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বিল্লাল হোসাইন বলেন, আমি শুনেছি তারা সঙ্ঘবদ্ধ একটি চক্র রাতের অন্ধকারে ভারতীয় গরু চোরাচালানি ব্যবসায় জড়িত। গত চার দিন পূর্বে তারা ভারতে গিয়ে একটি গরু সংগ্রহ করে। ওই গরুটি ভারতের একটি জঙ্গলে বেঁধে আরো গরু সংগ্রহের জন্য চলে যায়। পরবর্তীতে এক গারো গরুটি এখানে বাঁধা দেখে গোপনে তাদের ওপর চোখ রাখে। পর দিন চোরাচালানি ৩/৪ জন তাদের গরুটি আনতে গেলে ওই গারো তাদেরকে লক্ষ করে গুলি করে। গুলিটি মঞ্জুল হকের কোমরে বিদ্ধ হয়। এ সময় অন্যরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।


আরো সংবাদ