৩১ মে ২০২০
সেনাবাহিনী ও পুলিশী টহল জোরদার

বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বের হলেই ব্যবস্থা

-

সুনামগঞ্জে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। একের অধিক মানুষকে শহরে কোথাও চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। মাস্ক ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হলে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। সরকারের দেয়া ১০ দিনের সাধারণ ছুটিতে যেন কোনো ব্যক্তি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হন এবং আড্ডা না জমান, সেজন্য এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ফলে রাস্তা-ঘাট অনেকটা ফাঁকা রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে দোকানপাঠ খোলা রেখে বাকি সব ধরনের দোকানপাঠ বন্ধ রাখতে পুলিশ প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে তৎপর হতে দেখা গেছে। শহরের ছোটখাটো রিকশা ভ্যানগাড়ি চলাচলেও পুলিশ বাধা দিচ্ছে। তবে জেলা ও উপজেলা শহর থেকে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।

বৃহষ্পতিবার শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা, কালিবাড়ি রোড, ট্রাফিক পয়েন্ট ও মধ্যবাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সাধারণত দিনের তুলনায় সকাল থেকে মানুষের চলাচল ছিল খুব সীমিত। ওষুধের দোকান ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের কয়েকটি দোকান ছাড়া সব রকমের দোকানপাট ও হোটেল বন্ধ রয়েছে। রাস্তায় রিকশা ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। রিকশায় একজনের বেশি উঠলেও ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ। রাস্তায় চলাচলেও রয়েছে নির্দেশনা। রাস্তায় একের অধিক কেউ ঘোরাঘুরি করলে বা আড্ডা দিলে ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।

জানা যায়, গত কয়েকদিনে সুনামগঞ্জে চার হাজারের অধিক প্রবাসী এলেও এ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৪৫০ জন প্রবাসী।

রিকশাচালক আলী আমজদ বলেন, ভাই করোনাভাইরাসের জন্য ঘরে বসে থাকলে খাবার পামু না। একটা মাস্ক দিছে, এটা নিয়ে রিকশা চালাইতেছি। কিন্তু পুলিশ দেখলাম রিকশায় একজনের বেশি তুললে মাইর দিচ্ছে। তাই আমিও একজন ছাড়া দুইজনকে রিকশায় নেই না।

১ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রায় দুই হাজার ৩৪৫ জন প্রবাসীরা জেলার জগন্নাথপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, ছাতক, দিরাই, জামালগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় নিজ বাড়িতে ফিরেছেন। এর মধ্যে ৪৫০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে বলে জেলা পুলিশ প্রশাসন ও সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ শামস উদ্দিন জানিয়েছেন।

এদিকে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা পাল জানান, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারী নির্দেশা মোতাবেক জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। ঔষধের দোকান, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে দোকানপাঠ খোলা রেখে বাকি সব ধরনের দোকানপাঠ বন্ধ রাখতে ও জরুরি কাজ ছাড়া কেউ যেন বাহিরে না আসে সে জন্য কড়া নিষেধ করা হচ্ছে। জনস্বার্থে সরকারী নিয়ম মেনে চলার জন্য তিনি উপজেলাবাসীকে আহ্বান জানান।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, জরুরি কারণ ছাড়া সরকারের দেয়া ১০ দিনের ছুটিতে ঘরের ভেতর থেকে বের না হন তাই আমরা একটু কড়াকড়ি অবস্থানে রয়েছি। এটা জনগণের স্বার্থেই। আমরা চাই না মানুষের অহেতুকু ঘোরাঘুরি ও আড্ডার কারণে ভাইরাসটি সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। মানুষকে ঘরমুখী করতে বিকেল থেকে আমরা আরো একটু শক্ত অবস্থানে যাব।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা সব দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছি। সরকারের দেয়া ১০ দিনের ছুটিতে কোনো কারণ ছাড়া যাতে কেউ বাইরে বের হতে না পারেন সেদিকেও আমাদের কড়া নজরদারি রয়েছে।


আরো সংবাদ