১৭ আগস্ট ২০২২
`

আস্থাভোটের আগেই ইস্তফা মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধবের

আস্থাভোটের আগেই ইস্তফা মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধবের - ছবি : সংগৃহীত

স্থানীয় বুধবার রাত ৯টায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, রাজ্যপাল ভগৎ সিংহ কোশিয়ার নির্দেশ মেনে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যেই বিধানসভায় আস্থাভোট নিতে হবে তার সরকারকে। কিন্তু সেই নির্দেশের কিছুক্ষণ পরেই মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফার কথা ঘোষণা করলেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। আর সেই সাথেই পতন ঘটল ৩১ মাসের ‘মহাবিকাশ আঘাডী’ জোটের (শিবসেনার পাশাপাশি এনসিপি এবং কংগ্রেস যার অন্যতম শরিক) সরকারের।

উদ্ধবের ইস্তফার ঘোষণার ফলে গত ১০ দিনের ‘রাজনৈতিক নাটকের’ যবনিকা পড়ল মহারাষ্ট্রে। বুধবার রাতে রাজ্যপালের নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে শিবসেনার তরফে জানানো আবেদন দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘন্টা শুনানির পর নাকচ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জেবি পাড়িয়ালার বেঞ্চ রাজ্যপাল নির্দেশিত নির্ঘণ্ট মেনেই আস্থাভোট গ্রহণের নির্দেশ দেয়। এর পরেই ‘ফেসবুক লাইভ’ করে পদত্যাগের কথা জানান উদ্ধব। মুখ্যমন্ত্রিত্বের পাশাপাশি তিনি বিধান পরিষদের সদস্যপদেও ইস্তফা দিচ্ছেন বলে শিবসেনা সূত্রের খবর।

উদ্ধবের ফেসবুক লাইভ চলাকালীনই তার প্রতিনিধি এক মন্ত্রী রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল কোশিয়ারিকে পদত্যাগের কথা জানান বলে শিবসেনা সূত্রের খবর। ফেসবুক লাইভের বেশি কিছুক্ষণ পর উদ্ধব মাতোশ্রী থেকে বেরিয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে যান রাজভবনে। ভবিষ্যতে কংগ্রেস-এনসিপির সাথে জোটের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা কাছে ছিল তারা এখন দূরে। যারা দূরে ছিলেন, তারা এখন আমাদের কাছে।’ মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা ঘোষণার পরে ফেসবুক লাইভে উদ্ধব বলেন, ‘আমার মনে কোনো আক্ষেপ নেই। আমার কাছে শিবসেনা রয়েছে। শিবসৈনিকেরা রয়েছেন।’

বৃহস্পতিবার আস্থাভোট না হলে আকাশ ভেঙে পড়বে না, সুপ্রিম কোর্টে দাবি শিবসেনার
গত ২০ জুন বিধান পরিষদ নির্বাচনে শাসক জোট ‘মহাবিকাশ আঘাডী’ (শিবসেনার পাশাপাশি এনসিপি এবং কংগ্রেস যে জোটের শরিক)-র অপ্রত্যাশিত ধাক্কার পরে শিবসেনার জনা কুড়ি বিধায়ক-সহ বিদ্রোহী নেতা একনাথ শিন্ডে লাপাত্তা হয়ে গিয়েছিলেন। ২১ জুন নরেন্দ্র মোদির রাজ্যের সুরতের রিসর্টে বসে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা দখলের জন্য অতীতে অনৈতিক কোনো কাজ করিনি। ভবিষ্যতেও করব না। পরলোকগত বালাসাহেব ঠাকরের কাছে আমি হিন্দুত্ববাদের শিক্ষা পেয়েছি।’ এর পর বিজেপির ‘হেফাজতে’ আসামের গুয়াহাটির বিলাসবহুল হোটেলে আশ্রয় নেন তারা।

গত এক সপ্তাহে শিন্ডে শিবিরের শক্তি বেড়েছে দ্রুত। ৩৯ জন শিবসেনা বিধায়কসহ অন্তত ৪৮ জন বিধায়ক রয়েছেন এই গ্রুপে। বুধবারই শিন্ডেরা গুয়াহাটি থেকে গোয়ায় এসেছেন।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা


আরো সংবাদ


premium cement