১৭ আগস্ট ২০২২
`

রাজস্থানে হিন্দু যুবককে হত্যার পর রাজ্য জুড়ে ১৪৪ ধারা

রাজস্থানে এক হিন্দু যুবকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দিল্লিতে বিজেপির বিক্ষোভ। - ছবি : বিবিসি

ভারতের রাজস্থানের উদয়পুরে গতকাল মঙ্গলবার একজন হিন্দু দর্জির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর গোটা রাজ্যেই পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ ও থমথমে হয়ে রয়েছে, তবে কোথাও বড় কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।

রাজ্যের সব জেলাতেই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে, পুলিশ রয়েছে হাই অ্যালার্টে। উদয়পুর শহরে সব দোকানপাট, অফিস-কাছারি আজ বুধবার বন্ধ রয়েছে - চলছে সার্বক্ষণিক পুলিশ টহল।

দিল্লিতে বিবিসি বাংলার শুভজ্যোতি ঘোষ জানাচ্ছেন, দর্জি কানহাইয়ালালের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হলেও আজ আর মানুষকে জমায়েত হতে দেয়া হয়নি।

পরিবারের সম্মতিতে পোস্ট মর্টেমের পর নিহতের শেষকৃত্যেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা: সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করে বহিষ্কৃত হওয়া বিজেপি’র মুখপাত্র নূপুর শর্মার সমর্থনে সম্প্রতি ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার পর থেকে নিহত ওই দর্জিকে হুমকি দেয়া হচ্ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এদিকে হত্যাকারী দুই যুবকের আন্তর্জাতিক স্তরে বা কোনো সংগঠনের সাথে যোগসাজস ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক টুইটে জানিয়েছে।

রাজস্থানের কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট বলেছেন, পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ছড়াতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তারা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছেন।

গৌস মুহাম্মদ ও রিয়াজ আখতারি - দুজন হত্যাকারীকেই মঙ্গলবার উদয়পুরের পাশের জেলা রাজসমন্দ থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাদের এখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সন্ত্রাস দমনে ভারতের শীর্ষ তদন্তকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) কর্মকর্তারাও গত রাতেই উদয়পুরে পৌঁছে গেছেন।

এই হত্যাকাণ্ডকে যে একটি ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, তদন্তে এনআইএ’র যোগদান থেকেই তা স্পষ্ট।

মুসলিম নেতাদের প্রতিক্রিয়া
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করে রাজস্থানেরই আজমির শরিফ দরগার দেওয়ান জইনুল আবেদিন আলি খান আজ এক বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘ভারতের মুসলিমরা কখনোই তাদের মাতৃভূমির তালিবানিকরণের চেষ্টা মেনে নেবে না।’

দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নিতেও তিনি সরকারকে আর্জি জানান।

হায়দরাবাদের এমপি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি আবার বলেছেন, ‘এটা একটা জঘন্য আপরাধ। যেমন পহেলু খান বা মুহাম্মদ আখলাককে পিটিয়ে মারা অপরাধ ছিল, এটাও তেমনই একটা ঘৃণ্য অপরাধ। তবে দেখার বিষয় হলো, উদয়পুরে এই হত্যার পর কেউ কিন্তু বিজয়োল্লাস করেনি, কেউ মিছিল বের করেনি!’

জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের প্রেসিডেন্ট মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘উদয়পুরের এই হত্যাকাণ্ড মানবতার একটা কলঙ্ক।’ এই হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে পুলিশ ও প্রশাসন কেন ব্যর্থ হলো, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও বুধবার এক টুইট-বার্তায় লেখেন, ‘উদয়পুরে যা ঘটেছে তার তীব্র বিরোধিতা করছি। সহিংসতা ও চরমপন্থা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়, তা যে কারণেই ঘটুক না কেন।’

এদিকে উদয়পুর হত্যাকাণ্ড ঠেকানোর ক্ষেত্রে রাজস্থানের কংগ্রেস সরকারের ব্যর্থতা ছিল কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।

রাজস্থানে রাজ্যবর্ধন রাঠোরের মতো বিজেপি নেতারা অশোক গেহলট সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে বলেছেন, ‘রাজ্য সরকারের পুলিশ নেতাদের ওপর নজরদারি চালানো ছেড়ে যদি সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষার দিকে মন দিত, তাহলে এই ঘটনা ঘটতেও পারত না।’

সূত্র : বিবিসি


আরো সংবাদ


premium cement
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরে মহরমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : ডিআইজি আখতারুজ্জামান ঢাকা ওয়াসার এমডি’র ১৩ বছর ধরে নেয়া বেতন-বোনাসের হিসাব চাইলেন হাইকোর্ট আশুলিয়ায় ২ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী নিহত নান্দাইলে এমপিকে জড়িয়ে খবর প্রকাশ করায় পত্রিকাটি বয়কটের আহ্বান কালীগঞ্জে আড়িখোলা রেলস্টেশনের মোটর চুরি, ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত ডেমরার অপহৃত মাদরাসাছাত্রী দক্ষিণখানে উদ্ধার : গ্রেফতার ১ নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত গ্রামবাসীর শিরশ্ছেদ করে কাটা মুণ্ডু নিয়ে ২৫ কিমি হেঁটে থানায় যুবক কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা : দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন এবার সালথা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কারাগারে

সকল