২১ মে ২০২২
`

সরকারি চাকরিজীবী পাত্র না পাওয়ায় পরিবারের একমাত্র মেয়ের আত্মহত্যা!

-

গ্রামের সকলেই তাকে একডাকে ‘ভাল মেয়ে’ বলে চিনতেন। পড়াশোনার পাট চোকানোর পর দীর্ঘদিন ধরেই তার জন্য পাত্রের খোঁজ চলছিল। বিয়ের জন্য মেয়ের একটিই ‘শর্ত’ ছিল- পাত্রকে সরকারি চাকরিজীবী হতে হবে! তবে ‘শর্তপূরণ’ না হওয়ায় কোনো পাত্রকেই মনে ধরছিল না ২৬ বছর বয়সী মেয়েটির। বৃহস্পতিবার সকালে গলায় ফাঁস লাগিয়ে সেই মেয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেন বলে তার পরিবারের দাবি।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের কান্দিতে সেই মেয়ের ‘আত্মঘাতী’ হওয়ার কথা শুনে পড়শিদের দাবি, সরকারি চাকরিজীবী পাত্র না মেলায় মানসিক অবসাদে আত্মহত্যা করেছেন শিল্পী ঘোষ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কান্দির খড়গ্রামের গুরুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা শিল্পী ঘোষের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তারাই খড়গ্রাম থানায় খবর দেন। পুলিশ কর্মকর্তারা গলায় গামছার ফাঁসে শিল্পীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেন। এর পর স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে শিল্পীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

কান্দি মহকুমা হাসপাতাল মর্গে শিল্পীর লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শিল্পী আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছে তার পরিবার। এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে খড়গ্রাম থানা।

ভাইয়ের একমাত্র মেয়ের মৃত্যুতে হতবাক শিল্পীর চাচা সঞ্জীব মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘স্নাতক স্তরের পড়াশোনা শেষ করার পর থেকেই শিল্পীর জন্য পাত্রের খোঁজ করছিলেন ভাই। তবে জমিজায়গা, টাকাপয়সা রয়েছে, এমন পাত্রদের দেখাশোনা করা হলেও সরকারি চাকরিজীবী পাত্র ছাড়া বিয়েতে রাজি হয়নি শিল্পী।’

এই ঘটনায় শোকাহত শিল্পীর গ্রামের বাসিন্দা চন্দন ঘোষও। তার দাবি, কোনো প্রেমঘটিত সম্পর্ক ছিল না শিল্পীর। চন্দন বলেন, ‘শিল্পী আমার বোনের মতো ছিল। গ্রামের সকলে ওকে একডাকে ভালো মেয়ে বলে চেনে। ওর বিরুদ্ধে গ্রামের কারো কোনো অনুযোগ পর্যন্ত নেই। অনেক দিন ধরে পর পর বিয়ের জন্য দেখাশোনা চললেও সরকারি পাত্র ছাড়া বিয়ে করতে রাজি হয়নি শিল্পী। হয়তো সে জন্য ওর মানসিক চাপ বাড়ছিল। হয়তো চেয়েছিল, বিয়ের পর ভালোভাবে থাকবে। তবে কপালে না থাকলে যা হয়!’

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

দেখুন:

আরো সংবাদ


premium cement