০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

আফগানিস্তানের প্রতিবেশীরা এখন তেহরানে, ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা

আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা - ছবি : সংগৃহীত

আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা এখন ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থান করছেন। তালেবান শাসিত আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছেন তারা। এ এক দিনের সম্মেলনে তারা দেশটির ভবিষ্যৎ শাসন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন।

বুধবার ইরান, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তেহরানের এ বৈঠক অংশগ্রহণ করেছেন। চীন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ভিডিও লিংকের মাধ্যমে এ সম্মেলনে যোগ দেন।

ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবার এ সম্মেলনটির উদ্বোধন করেন। তিনি ইরানি প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির পরিবর্তে এ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে ইরানে ভয়াবহ সাইবার হামলায় দেশটির জ্বালানি স্টেশনগুলো বিকল হয়ে গেছে এবং জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ আছে। এ কারণে ওই সাইবার হামলার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের জন্য ইরানি প্রেসিডেন্ট এখন ব্যস্ত। ইরানে সরকারি ভর্তুকি দেয়া জ্বালানি গ্রহণে এক ধরনের স্মার্টকার্ড ব্যবহার করা হয়। এ স্মার্টকার্ড ব্যবহার করার জন্য যে সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় তা লক্ষ্য করে এ সাইবার হামলা করা হয়েছিল।

এ সম্মেলনে অংশ নেয়া সাত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকাশ্য বক্তব্য রাখার পর রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে তারা একটি যৌথ বিবৃতির বিষয়ে সম্মত হবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সম্মেলনে অংশ নেয়া দেশগুলোর প্রতিনিধিরা আফগানিস্তানের পতন কিংবা দেশটিকে গৃহযুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে জোর দেন। এ সম্মেলন থেকে আফগানিস্তানে একটি অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠনের ওপর জোর দেয়া হয়।   

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই আফগানিস্তান ইস্যুতে আরেকটি বৈঠক আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমিরাব্দুল্লাহিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে আফগানিস্তানের ওপর আরোপিত একক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তারা বলেন, পতনের মুখে থাকা আফগান অর্থনীতির ব্যাপক সহায়তা প্রয়োজন।

ওই সম্মেলনে মোহাম্মদ মোখবার বলেন, আফগানিস্তানে মার্কিন নীতি ব্যর্থ হলেও এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ধ্বংসাত্মক নীতি পরিত্যাগ করবে না।

তিনি বলেন, আইএস নামের (আইএসআইএল) উগ্রবাদী সংগঠনটি এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী হিসেবে আফগানিস্তানে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। তারা আফগানিস্তানে একটি গৃহ যুদ্ধের সূচনা করতে চায়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে তারা আফগানিস্তানে একটি সমন্বিত সরকার চান।

সূত্র : আল-জাজিরা



আরো সংবাদ