০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

পাকিস্তানের জয়ে আনন্দ করা কাশ্মিরি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী আইনে মামলা

শ্রিনগরের রাস্তায় টহলরত ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা - ছবি : এএফপি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের জয়ে আনন্দ করায় ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের দুই মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী আইনে মামলা করা হয়েছে।

সোমবার কাশ্মিরের রাজধানী শ্রিনগরের গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও শের-ই-কাশ্মির ইন্সটিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়।

এর আগে রোববার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিশ্বকাপের ম্যাচে পাকিস্তানের বিজয়ে এই দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আনন্দ উদযাপন করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে কাশ্মির পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মঙ্গলবার জানান, জামিন অযোগ্য বেআইনি কর্মকাণ্ড প্রতিকার আইনের (ইউএপিএ) অধীনে দুই কলেজের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দুইটি পৃথক মামলা করা হয়। 'ক্রিকেট ম্যাচের মধ্যে জাতীয় অনুভূতিকে অসম্মান করার' অভিযোগে এই দুই মামলায় অজ্ঞাত শিক্ষার্থীদের আসামী করা হয়েছে।

মামলার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে (এফআইআর) কোনো শিক্ষার্থীর নাম জানানো হয়নি।

এদিকে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাশ্মির শাখার প্রেসিডেন্ট রবিন্দর রায়না বলেছেন, যারা 'শত্রু দেশ' পাকিস্তানের জয়ে আনন্দ করেছে, শিগগির তাদের কারাগারে ঢোকানো হবে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় জম্মু শহরে সাংবাদিকদের সাথে তিনি বলেন, 'যারাই পাকিস্তানের জয় কাশ্মিরে বা অন্য কোথাও উদযাপন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শিগগিরই তাদের শনাক্ত করা হবে এবং তাদের কারাগারে পাঠানো হবে।'

অপরদিকে কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি পাকিস্তানের জয়ে কাশ্মিরিদের উদযাপনের কারণে তাদের বিরুদ্ধে মামলার সমালোচনা করেছেন।

সোমবার এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, 'পাকিস্তানের জয়ে কাশ্মিরিদের জয়ের কারণে উদযাপনের কারণে কেন এত ক্রোধ?'

তিনি বলেন, 'কেউই ভুলে যায়নি রাজ্য খণ্ডিত করার এবং বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়ায় মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে কি পরিমাণ উদযাপন করা হয়েছে।'

২০১৯ সালের আগস্টে ভারতের কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার দেশটির সংবিধানের বিশেষ ৩৭০ ধারা বাতিল করে। এই ধারার আওতায় কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের বিশেষ মর্যাদা ছিলো।

সূত্র : আলজাজিরা



আরো সংবাদ