০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯, ৭ জিলহজ ১৪৪৩
`

পাকিস্তানের কাছে ভারতের হারে দায়ী কাশ্মিরি ছাত্ররা! ব্যাপক মারধর

ভারতের খেলা দেখছেন ভক্তরা। - ছবি : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ১০ উইকেটে হেরে যায় ভারত। রোববার ম্যাচ শেষ হতেই পাঞ্জাবের সাঙ্গুরের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে কাশ্মিরি ছাত্রদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। একই ঘটনার খবর মেলে পাঞ্জাবের খারার থেকেও।

যদিও পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশি মধ্যস্থতায় সমস্যা মেটে। পুলিশ জানিয়েছে, দু’পক্ষই নিজেদের মধ্যে কথা বলে সমস্যা মিটিয়ে নিয়েছে।

ঠিক কী হয়েছিল সেদিন? সেদিন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয় ভারত-পাকিস্তান। হাইভোল্টেজ সেই ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে বড়সড় হার হয় ভারতের। ম্যাচ শেষ হতেই উত্তেজনা ছড়ায় পাঞ্জাবের সাঙ্গরুর জেলার ভাই গুরদাস ইন্সটিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি কলেজে। অভিযোগ, কলেজের হোস্টেলে থাকা কাশ্মিরি ছাত্রদের মারধর করে তাদেরই কয়েকজন সহপাঠী। কাশ্মিরি ছাত্রদের উপর সেই হামলার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

উল্টোদিকে, একই ঘটনার খবর মেলে পাঞ্জাবের খারারের রায়ত ভারত বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও। সেখানেও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শেষ হতেই কাশ্মিরি ছাত্রদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

জম্মু কাশ্মির ছাত্র সংগঠনের জাতীয় মুখপাত্র নাসির খুহামি বলেন, ‘পাঞ্জাবের সাঙ্গরুর এবং খারার মোহালিতে কাশ্মিরি ছাত্রদের মারধর করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও কিছু পাঞ্জাবি ছাত্র তাদের উদ্ধার করেছেন। কাশ্মিরি ছাত্রদের ঘরে ঢুকে মারধর করেছে বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানার কয়েকজন ছাত্র।’

সাঙ্গরুরের গুরদাস ইন্সটিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি কলেজের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে এক ছাত্রের অভিযোগ, হোস্টেলের নিরাপত্তারক্ষী উত্তরপ্রদেশের একদল ছাত্রকে কাশ্মিরি ছাত্রদের ঘরে ঢুকে হামলা চালাতে সাহায্য করেছেন।

রোববার সন্ধ্যায় সাঙ্গরুরের ওই কলেজের ঘটনার খবর যায় পুলিশের কাছে। শেষমেশ পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। কাশ্মিরি ছাত্রদের সাথে কথা বলেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এই কলেজে প্রায় ৯০ জন কাশ্মিরি ছাত্র রয়েছেন। উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের ৩০ ছাত্র রয়েছেন কলেজটিতে। কলেজের হোস্টেলের দু’দিকে কাশ্মিরি ছাত্ররা থাকেন। ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন পাকিস্তানের রান বাড়তে থাকায় উল্লাসে ফেটে পড়েন ওই ছাত্ররা। তা আজাদি স্লোগানও দিয়েছিলেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘ম্যাচ শেষ হওয়ার পরে উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের ছাত্ররা কাশ্মিরি ছাত্রদের ঘরে ঢোকে। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে, কাশ্মিরি ছাত্ররাও উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের ছাত্রদের সাথে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে শেষমেশ পরিস্থিতি শান্ত হয়।’

সাঙ্গুরের এসএসপি স্বপন শর্মা জানিয়েছেন, দু’পক্ষই একে অপরের কাছে কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশি মধ্যস্থতায় বিষয়টির মিটমাট হয়ে গিয়েছে।

উল্টোদিকে, রোববার পাঞ্জাবের খারার মোহালির রায়ত ভারত বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ঘটনা ঘটে। সেখানেও চার ছাত্রকে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ শেষের পর মারধরের অভিযোগ ওঠে।

জম্মু কাশ্মির ছাত্র সংগঠনের জাতীয় মুখপাত্র নাসির খুহামির অভিযোগ, রায়ত ভারত বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ছাত্রকে হরিয়ানার কয়েকজন ছাত্র মারধর করেছে। পাঞ্জাবে পাঠরত সব কাশ্মিরি ছাত্রের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে আবেদন জানিয়েছেন খুহামি। পুলিশ প্রশাসনকে সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে যথোপযুক্ত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


আরো সংবাদ


premium cement