২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১, ১৫ শাওয়াল ১৪৪৫
`

'দুষ্কৃতকারী' যোদ্ধাদের দল থেকে বহিস্কারের নির্দেশ মোল্লা ইয়াকুবের

কাবুলের রাস্তায় টহলরত তালেবান যোদ্ধারা - ছবি : এপি

দলীয় কিছু যোদ্ধাদের অসদাচরণ বিষয়ে এক তিরস্কার বার্তা দিয়েছেন আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও তালেবানের সামরিক প্রধান মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব। দলীয় সদস্যদের প্রতি এক অডিও বার্তায় জানান, এই ধরনের 'দুষ্কৃতকারী' যোদ্ধাদের দল থেকে বহিস্কার করা হবে।

শুক্রবার প্রকাশিত এই অডিও বার্তায় দলীয় সকল সদস্যদের তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমরের ছেলে এই হুঁশিয়ারি দেন।

পশ্চিমা সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে বিজয়ের পর তালেবান যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানে সাধারণ আফগানদের নিপীড়নের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ ক্ষমা সত্ত্বেও কিছু তালেবানে যোদ্ধা প্রতিশোধমূলক তৎপরতা চালাচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

মোল্লা ইয়াকুব তার অডিও বার্তায় বলেন, 'এই ধরনের লোককে আমরা আমাদের মাঝে চাই না।'

একইসাথে কোনো তালেবান যোদ্ধার বিরুদ্ধে আফগান নাগরিককে নিপীড়নের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

অডিও বার্তায় ইয়াকুব বলেন, কিছু কিছু অনুমোদনহীন 'মৃত্যুদণ্ড' কার্যকর করার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এটি কোনো অবস্থাতেই সহ্য করা হবে না।

তিনি বলেন, 'আপনারা সকলেই অবগত আছেন আফগানিস্তানে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে। সুতরাং কোনো মুজাহিদের কারো ওপর প্রতিশোধ নেয়ার অধিকার নেই।'

একই সাথে তালেবান যোদ্ধাদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে অন্য কোথাও বিশেষ করে কোনো সরকারি দফতরে বিনা কারণে গিয়ে ঘোরাফেরা ও সেলফি তোলার বিষয়ে তিরস্কার করেন মোল্লা ইয়াকুব।

তিনি বলেন, 'এটি সকলের জন্যই আপত্তিকর যে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মন্ত্রণালয়ে কোনো কারণ ছাড়াই যাওয়া এবং মোবাইলে সেলফি তোলা।'

মোল্লা ইয়াকুব বলেন, 'এই ধরনের ঘোরাফেরা ও ছবি-ভিডিও আপনাদের দুনিয়াও কোনো ফায়দা দেবে না এবং আখেরাতেও কোনো ফায়দা দেবেন না।'

১৫ আগস্ট কাবুলে প্রবেশের মাধ্যমে ২০ বছর পর আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফিরলো তালেবান।

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার জেরে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ হামলার জন্য আফগানিস্তানে আশ্রয়ে থাকা আলকায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে দায়ী করেন। ওই সময় আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের কাছে ওসামা বিন লাদেনকে মার্কিন প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়ার দাবি জানান বুশ।

তালেবান সরকার ওসামা বিন লাদেনকে তুলে দেয়ার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার সাথে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে মার্কিনিদের কাছে প্রমাণ চায়। প্রমাণ ছাড়া তারা ওসামা বিন লাদেনকে মার্কিন প্রশাসনের কাছে তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

বুশ প্রশাসন ও তালেবানের মধ্যে বিরোধের জেরে ২০০১ সালের অক্টোবরে আফগানিস্তানে আগ্রাসন শুরু করে মার্কিন বাহিনী। অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রসজ্জ্বিত মার্কিন সৈন্যদের হামলায় তালেবান সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়।

তবে একটানা দুই দশক যুদ্ধ চলতে থাকে দেশটিতে।

এরইমধ্যে আফগান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ন্যাটো জোটের সদস্য দেশগুলোও যুক্ত হয়। মার্কিনিদের সমর্থনে নতুন প্রশাসন ও সরকার ব্যবস্থা গড়ে উঠে দেশটিতে।

২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন সৈন্যদের এক ঝটিকা অভিযানে নিহত হন ওসামা বিন লাদেন। ২০১৩ সালে অজ্ঞাতবাসে তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমরেরও মৃত্যু হয়।

তা স্বত্ত্বেও তালেবান যোদ্ধারা আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনীর দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখে।

দীর্ঘ দুই দশক আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বের বহুজাতিক বাহিনীর দখলের পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাতারের দোহায় এক দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র। এর বিপরীতে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশ নিতে তালেবান সম্মত হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ঘোষণা অনুসারে ৩১ আগস্ট আফগানিস্তান থেকে বহুজাতিক বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের ডেডলাইন থাকলেও ৩০ আগস্ট সম্পূর্ণ সৈন্য প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়।

মার্কিনিদের সাথে চুক্তি অনুসারে ক্ষমতাসীন থাকা মার্কিন সমর্থনপুষ্ট আফগান সরকারের সমঝোতার জন্য তালেবান চেষ্টা করলেও দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। তালেবানের অভিযোগ, আশরাফ গনির নেতৃত্বাধীন আফগান সরকার দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের আহ্বানে সাড়া দেয়নি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মে মাসে বহুজাতিক বাহিনীর প্রত্যাহারের মধ্যেই পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালানো শুরু করে তালেবান।

৬ আগস্ট প্রথম প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলীয় নিমরোজ প্রদেশের রাজধানী যারানজ দখল করে তারা। যারানজ নিয়ন্ত্রণে নেয়ার ১০ দিনের মাথায় কেন্দ্রীয় রাজধানী কাবুলে পৌঁছে যায় তালেবান যোদ্ধারা। তালেবানের অগ্রসরে আশরাফ গনির কাবুল ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার জেরে আফগান প্রশাসন ভেঙে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ আগস্ট কাবুলে প্রবেশ করে তালেবান যোদ্ধারা।

তবে কাবুলের উত্তরের দুর্গম পাঞ্জশির প্রদেশ শুধু তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়ে গিয়েছিলো। আফগানিস্তানে রুশ আগ্রাসন প্রতিরোধ যুদ্ধের কিংবদন্তি যোদ্ধা আহমদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমদ মাসুদের নেতৃত্বে তালেবানবিরোধী বিদ্রোহী যোদ্ধারা এই উপত্যকায় অবস্থান নিয়েছিলো।

৬ সেপ্টেম্বর পাঞ্জশির নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পুরো আফগানিস্তানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তালেবান। এর পর ৭ সেপ্টেম্বর দলীয় প্রধান মোল্লা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদাকে রাষ্ট্রপ্রধান ও রাহবারি শুরার সদস্য মোল্লা হাসান আখুন্দকে প্রধানমন্ত্রী করে নতুন আফগান সরকার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয় দলটি।

সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড


আরো সংবাদ



premium cement
ক্রিকেট খেলতে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে দেওয়ানগঞ্জের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী শিহাব কিশোরগঞ্জে বৃষ্টির জন্য বিশেষ নামাজ সাতক্ষীরা বৈদ্যুতিক খুটিতে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেলআরোহী নিহত বার্সেলোনাতেই থাকছেন জাভি চতুর্থ দফা ‘হিট অ্যালার্ট’ জারি : এবারের তাপদাহ শেষেই বৃষ্টিপাতের আশা ফরিদপুরে বৃষ্টির জন্য নামাজে হাজারো মুসুল্লির কান্না পোরশার নোচনাহারে আগুনে ৩টি দোকান পুড়ে গেছে খুলনা বিভাগ ও ৬ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপপ্রবাহ ‘১ টাকার কাজ ১০০ টাকায়, ৯৯ যায় মুজিব কোটে’ রাত পোহাতেই রুদ্ধদ্বার অনুশীলন শুরু বাংলাদেশের সাটুরিয়ায় প্রশান্তির বৃষ্টি চেয়ে সালাতুল ইসতিসকা আদায়

সকল