২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭ আশ্বিন ১৪২৮, ১৪ সফর ১৪৪৩ হিজরি
`

একসময়ের কারাবন্দীরা এখন কাবুল কারাগারের নিরাপত্তার দায়িত্বে

আফগানিস্তানের কাবুলের ‘পুল-ই-চরখি’ কারাগার - ছবি : সংগৃহীত

একসময় কাবুলের প্রধান কারাগার ছিল হাজারো তালেবান বন্দী আটক রাখার স্থান। মর্কিন সেনা ও তাদের মদদপুষ্ট আফগান সেনাদের হাতে গ্রেফতার তালেবান সদস্যদের গাদাগাদি করে এ কারাগারে রাখা হতো। সোমবার তালেবান কর্তৃপক্ষের এক কমান্ডার ওই কাবুল কারাগারের খালি হল ও সেলগুলোতে পায়চারি করছিলেন। তিনি তার সহকর্মী বন্ধুদের দেখাচ্ছিলেন যে কাবুল কারাগারের কোন সেলে তিনি বন্দী ছিলেন।

মাসখানেক আগে তালেবান কর্তৃপক্ষ খুব দ্রুতগতিতে আফগানিস্তান ও রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর মার্কিন ও পশ্চিমা মদদপুষ্ট আফগান সরকারের পতন হয়। ২০ বছর যুদ্ধ করে তালেবান কর্তৃপক্ষ এ সাফল্য অর্জন করে।

আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর তালেবান সদস্যরা এখন কাবুলের প্রধান কারাগারটিকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এ কারাগারটি পুল-ই-চরখি নামে পরিচিত। কাবুলের পূর্বাংশে অবস্থিত এ কারাগারটি বিশাল আকারের। কাবুল শহর দখল করার পর তালেবান কর্তৃপক্ষ এখানকার প্রধান কারাগারের সকল বন্দীকে মুক্ত করে দেয়। এ সময় কারাগারে দায়িত্বরত সরকারি কারারক্ষীরা পালিয়ে যান। এখন বেশ কয়েকজন তালেবান যোদ্ধারা এ কারাগারটি পরিচালনা করছেন, যদিও কিছু দিন আগে তালেবান যোদ্ধারাই এখানে বন্দী হিসেবে ছিলেন।

কাবুল কারাগারের সাবেক বন্দী ওই তালেবান কমান্ডার তার পরিচয় প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি তার বন্ধুদের নিয়ে এ বিশাল কারাগারটি ঘুরে দেখছিলেন। তিনি বলেন, ১০ বছর আগে তিনি এ ‘পুল-ই-চরখি’ কারাগারে আটক ছিলেন। তাকে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের কুনার প্রদেশ থেকে আটক করে এ কারাগারে নিয়ে আসা হয়েছিল। এ সময় তার হাত, পা ও চোখ বেঁধে রাখা হতো।

তিনি বলেন, কারাগারে তালেবান ও অন্যান্য বন্দীদের অত্যাচার ও নিপীড়ন করা হতো। আমি মুক্ত হওয়ার আগে এ কারাগারে ১৪ মাসের জন্য বন্দী ছিলাম। এ কারাগারে বন্দী থাকার দিনগুলো ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও কালো অধ্যায়। কিন্তু, (কাবুল জয়ের পর) এখন আমার সবচেয়ে আনন্দের সময়। এখন আমি মুক্ত, এখন এ কারাগারে আসতে আমার কোনো ভয় করে না।

আফগানিস্তানে সোভিয়েত মদদপুষ্ট সরকারের শাসনামলে নির্মিত ‘পুল-ই-চরখি’ কারাগার ছিল খুবই কুখ্যাত এক স্থান। অনেক সহিংসতা, হত্যা ও অত্যাচারের ইতিহাস জড়িয়ে আছে এ কারাগারের সাথে। এখানে বহু গণকবর ও টর্চার সেল আছে। মার্কিন মদদপুষ্ট সরকারের আমলে এ কারাগারের অবস্থা ছিল খুবই ভয়ঙ্কর। এখানে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার বন্দীকে রাখার ব্যবস্থা থাকলেও এখানে ১০ হাজার বন্দীকে আটক করে রাখা হতো।


এখন যে সকল তালেবান যোদ্ধারা এ ‘পুল-ই-চরখি’ কারাগার পরিচালনা করছেন। তাদের অনেকেই আগে এ কারাগারে আটক ছিলেন। অপরদিকে এ কারগারের সাবেক সরকারি কারারক্ষীরা অনেক আগেই পালিয়েছেন, তারা আর ফিরে আসার মতো সাহস করেননি। তাদের ভয় তালেবানরা তাদের ওপর প্রতিশোধ নিবে।

সূত্র : আল-জাজিরা



আরো সংবাদ


ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিকদের ধর্মঘট স্থগিত ইলিশের ২৩ টনের প্রথম চালান বেনাপোল দিয়ে ভারতে রফতানি সাফের জন্য দল ঘোষণা করল বাফুফে বিশ্ব নেতৃত্বকে তালেবানের সাথে সম্পর্ক রাখতে বলল কাতার চীন এ বছর বিশ্বকে ২০০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন দেবে : শি জিনপিং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে সংঘাত সমাধানের ‘উত্তম পন্থা’ : বাইডেন বিদায় তিকি-তাকা, বিদায় বার্সেলোনারও? হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির পূর্বাভাস বঙ্গবন্ধুর খুনী রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র ফেরত দিবে বলে আশাবাদী বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফগান ইস্যুতে বাতিল সার্ক বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর সাথে দ্বি-পক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে রোডম্যাপ তৈরির প্রস্তাব কুয়েতের

সকল